ছাদ ধসে পড়ার পরও টনক নড়ল না প্রশাসনের! রাজস্থানের জরাজীর্ণ স্কুল নিয়ে সোনম ওয়াংচুকের বিস্ফোরক পোস্ট!

রাজস্থানের আলওয়ার জেলার থানাগাজির যোধাওয়াস সরকারি স্কুলের বেহাল দশা এবং তীব্র শিক্ষক সংকটের বিষয়টি বর্তমানে দেশজুড়ে এক বড় বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। জরাজীর্ণ ভবন, ছাদ ধসে পড়ার আশঙ্কা এবং পর্যাপ্ত শিক্ষকের অভাবে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন বিদ্যালয়ের কোমলমতি ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে স্থানীয় গ্রামবাসীরা। সম্প্রতি স্কুলেরই এক সাহসী ছাত্রী তার পঠনপাঠনের মৌলিক অধিকার ও স্কুল ভবনের করুণ চিত্র তুলে ধরে জেলা কালেক্টরকে একটি লিখিত অভিযোগপত্র জমা দিয়েছিল। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হলো, দীর্ঘ চার বছর ধরে সিনিয়র সেকেন্ডারি স্কুল হিসেবে উন্নীত হওয়া সত্ত্বেও এই প্রতিষ্ঠানে মাত্র পাঁচজন শিক্ষক কর্মরত আছেন, যাঁদের সবাই আবার তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষক। সরকারের এই চরম উদাসীনতার ফলে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ আজ পুরোপুরি অন্ধকারে।
স্কুলের এই করুণ চিত্র এবং ছাত্রীদের প্রতিবাদের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পরই বিষয়টি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। তিনি নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে ওই ছাত্রীর বক্তব্য শেয়ার করে প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করেছেন। ওয়াংচুক ব্যঙ্গ করে লিখেছেন যে, গত চার বছরে হয়তো সরকার বদলেছে এবং জেলা কালেক্টরও বদল হয়েছেন, কিন্তু এই অবহেলিত সরকারি স্কুলগুলোর ভাগ্যের বিন্দুমাত্র পরিবর্তন ঘটেনি। মূলত, স্কুলের ছাদের একটি অংশ হঠাৎ ধসে পড়ার পরই এই গভীর সংকটের বিষয়টি জনসমক্ষে আসে। সৌভাগ্যবশত সেই সময় ক্লাসরুমে থাকা শিশুরা অক্ষত অবস্থায় রক্ষা পেলেও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এর পরেই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যখন সিজেপি মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা ও তাঁর সমর্থকরা স্কুল প্রাঙ্গণে বিশাল বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। বিক্ষোভ চলাকালীন পুলিশের সঙ্গে তাঁদের তীব্র বচসা ও উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়, যা মুহূর্তের মধ্যে ইন্টারনেটে ভাইরাল হয়ে যায়। টানা পাঁচ ঘণ্টার আন্দোলনের পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত স্কুল সংস্কার, নতুন ক্লাসরুম নির্মাণ এবং রাস্তা মেরামতের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও সাধারণ মানুষের মনে এখনও স্থায়ী সমাধান নিয়ে বড় প্রশ্নচিহ্ন রয়ে গেছে।