১ কোটি তরুণকে এআই ট্রেনিং আর নতুন সেমিকন্ডাক্টর প্ল্যান্ট! লাল কেল্লা থেকে মোদির কোন ঐতিহাসিক মাস্টারস্ট্রোক কাঁপাল দেশ?

শুক্রবার দেশের ৮০তম স্বাধীনতা দিবসে ঐতিহাসিক লাল কেল্লার প্রাচীর থেকে জাতির উদ্দেশে এক অত্যন্ত উদ্দীপনামূলক ও দূরদর্শী ভাষণ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই ভাষণে কেবল দেশের বিগত দিনের সাফল্যের ফিরিস্তি তুলে ধরা হয়নি, বরং আগামী দিনের ভারতকে বিশ্বের দরবারে এক অপ্রতিরোধ্য অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত পরাশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার এক সুনির্দিষ্ট ও সুদূরপ্রসারী রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে। দেশের তরুণ প্রজন্ম এবং উদীয়মান অর্থনীতিকে এক নতুন গতি দিতে প্রধানমন্ত্রী একাধিক যুগান্তকারী ও ঐতিহাসিক ঘোষণা করেছেন, যা ভারতীয় শিল্পমহল ও যুবসমাজের মধ্যে দারুণ উৎসাহের সৃষ্টি করেছে।
প্রধানমন্ত্রী মোদী তাঁর বক্তব্যে দেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমকে আরও বেশি শক্তিশালী এবং বিশ্বমানের করে তুলতে ১ লক্ষ কোটি টাকার একটি বিশাল ‘ইনোভেশন ফান্ড’ (Innovation Fund) গঠনের কথা ঘোষণা করেছেন। এর ফলে দেশের উদীয়মান উদ্যোক্তারা তাদের উদ্ভাবনী আইডিয়া বাস্তবায়নের জন্য পর্যাপ্ত আর্থিক সহায়তা পাবেন, যা দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। বর্তমান বিশ্ব প্রযুক্তিনির্ভর এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের (AI) যুগে ভারত যাতে কোনোভাবেই পিছিয়ে না পড়ে, সেই লক্ষ্যেই দেশের ১ কোটি তরুণ-তরুণীকে বিনামূল্যে উন্নত মানের এআই ট্রেনিং দেওয়ার পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া সুবিধাবঞ্চিত ছাত্রছাত্রীদের জন্য ফ্রি অনলাইন কোচিংয়ের ব্যবস্থাও করা হবে, যাতে মেধা কোনোভাবেই অর্থাভাবে হারিয়ে না যায়।
প্রযুক্তির দিক থেকে দেশকে পুরোপুরি আত্মনির্ভর করে তুলতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে আগামী দিনে দেশে ৭ থেকে ৮টি নতুন সেমিকন্ডাক্টর প্ল্যান্ট শুরু করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। চিপ ম্যানুফ্যাকচারিং বা অর্ধপরিবাহী উৎপাদনের ক্ষেত্রে ভারত এতদিন অন্যের ওপর নির্ভরশীল থাকলেও, এই নতুন কারখানাগুলো চালু হলে দেশ এই খাতের গ্লোবাল হাব হয়ে উঠবে। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, মোদীর এই ঘোষণাগুলো ভারতের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ডকে আরও অনেক বেশি মজবুত করবে এবং দেশকে ২০৪৭ সালের মধ্যে একটি উন্নত ও স্বাবলম্বী রাষ্ট্রে পরিণত করার পথে সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে।