ইতিহাসের পাঠ্যক্রম থেকে বাদ সুলতানি আমল, কোন কোন গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় বাদ দিল ডিইউ?

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের (DU) ইতিহাসের স্নাতকোত্তরের পাঠ্যক্রম থেকে এবার সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া হলো ‘সুলতানি আমল’। সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি-র একটি প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আসার পরই শিক্ষামহলে নতুন করে তীব্র বিতর্ক দানা বেঁধেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, স্নাতকোত্তরের তৃতীয় সেমেস্টারের পাঠ্যক্রমে এতদিন ‘দ্য দিল্লি সুলতানেট: স্ট্রাকচার্স অফ অথরিটি ইন মেডিয়েভাল নর্থ ইন্ডিয়া’ শীর্ষক একটি বিশেষ পেপার পড়ানো হতো। ত্রয়োদশ ও চতুর্দশ শতাব্দীতে উত্তর ভারতের রাজনৈতিক ক্ষমতা, প্রশাসনিক কাঠামো, রাষ্ট্রব্যবস্থা, ধর্ম এবং সংস্কৃতির ইতিহাস ও বিবর্তন সম্পর্কে বিশদে জানতে এই পেপারটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কিন্তু নতুন সিলেবাস থেকে এটি বাদ পড়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন একাংশ।

কী বলছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ?

রিপোর্টে প্রকাশ, ২০২০ সালের জাতীয় শিক্ষানীতির (NEP) আওতায় তৈরি হওয়া ‘পোস্ট গ্র্যাজুয়েট কারিকুলাম ফ্রেমওয়ার্ক’-কে ভিত্তি করেই এই নতুন পাঠ্যক্রম তৈরি করা হয়েছে এবং চলতি শিক্ষাবর্ষ থেকেই তা কার্যকর করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক অ্যাফেয়ার্স-এর ডিন কে রত্নাবলী এই বিষয়ে জানিয়েছেন, একটি বিশেষজ্ঞ কমিটির অনুমোদনক্রমেই সম্পূর্ণ নিয়ম মেনে নতুন পাঠ্যক্রমটি তৈরি করা হয়েছে। ওই কমিটিতে ইতিহাস বিভাগের প্রধান এবং অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সদস্যদের পাশাপাশি একজন বাইরের বিশেষজ্ঞও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

শুধু সুলতানি আমল নয়, বাদ পড়েছে একাধিক পেপার

বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইতিহাস বিভাগের পক্ষ থেকে পাঠ্যক্রমে মোট ৩৮টি পেপার রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু গত ৭ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেছে, তাতে অনুমোদন পেয়েছে মাত্র ১৬টি বিষয়। অর্থাৎ, প্রস্তাবিত ২২টি পেপার আপাতত বাদ পড়েছে।

তৃতীয় সেমেস্টারের পাঠ্যক্রম থেকে কেবল সুলতানি আমলই নয়, এর পাশাপাশি আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বাদ দেওয়া হয়েছে। তালিকায় নেই—

  • ১৪০০-১৫৫০ খ্রিস্টাব্দের সময়কালের উত্তর ভারতের ইতিহাস।

  • প্রাচীন ভারতে নারী ও লিঙ্গব্যবস্থা সংক্রান্ত পেপার— ‘জেন্ডার অ্যান্ড উইমেন ইন আর্লি ইন্ডিয়া: ১৫০০ বিসিই টু ১০০০ সিই’।

  • ‘পলিটিক্যাল প্রসেসেস অ্যান্ড স্ট্রাকচার অব পলিটিজ ইন আর্লি ইন্ডিয়া’।

  • ‘রিলিজিয়ন অ্যান্ড সোসাইটি ইন অ্যানশিয়েন্ট ইন্ডিয়ান লিটারেচার’।

ইতিহাস বিভাগের শিক্ষকদের একাংশের মতে, স্নাতক স্তরে দিল্লির সুলতানি আমল বা প্রাচীন ভারতের ইতিহাস নিয়ে একটি সাধারণ রূপরেখা পড়ানো হলেও, স্নাতকোত্তর স্তরে বিষয়গুলি অনেক বেশি বিশদে চর্চা করা হয়। কিন্তু নতুন শিক্ষানীতির কাঠামো মেনে সিলেবাস ঢেলে সাজাতে গিয়েই এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি তালিকা থেকে বাদ পড়ে গেল।