উৎসবের মরসুমে বাজারে ধামাকা আনতে চলেছে টাটা! বৈদ্যুতিক গাড়ির চাহিদা বাড়তেই বড় ঘোষণা সংস্থার

আসন্ন উৎসবের মরসুমে ভারতীয় বাজারে বৈদ্যুতিক গাড়ির (EV) চাহিদা আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে জোরালো আশা প্রকাশ করেছে টাটা মোটরস প্যাসেঞ্জার ভেহিকলস। বর্তমান বাজারের পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে যে, গ্রাহকদের কাছ থেকে বৈদ্যুতিক গাড়ির যে পরিমাণ চাহিদা আসছে, তার তুলনায় সরবরাহ কিছুটা কম রয়েছে। এই ক্রমবর্ধমান চাহিদা সফলভাবে মেটাতে এবং বাজারের গতি বজায় রাখতে সংস্থাটি নিজেদের উৎপাদন ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে।
টাটা মোটরসের ম্যানেজিং ডিরেক্টর শৈলেশ চন্দ্র জানিয়েছেন যে, সাধারণ সময়ের তুলনার দিকে তাকালে কোম্পানির বৈদ্যুতিক গাড়ির চাহিদা প্রায় তিন থেকে সাড়ে তিন গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি আরও স্পষ্ট করেছেন যে, বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে একের পর এক নতুন মডেল লঞ্চ করা হলেও সঠিক সময়ে পর্যাপ্ত সরবরাহ বজায় রাখাই এই মুহূর্তে কোম্পানির কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তবুও সংস্থার দৃঢ় পদক্ষেপের ফলে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জিত হয়েছে।
চলতি অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে টাটা মোটরস ৩৪,গুলোরও বেশি বৈদ্যুতিক গাড়ি বিক্রি করে সর্বকালীন রেকর্ড গড়েছে। লক্ষণীয় বিষয় হলো, এই সময়ের মধ্যে কোম্পানির মোট গাড়ি বিক্রির প্রায় ২০ শতাংশই ছিল বৈদ্যুতিক গাড়ি। শুধু গত জুলাই মাসেই টাটা মোটরস ১৫,০০০ যাত্রীবাহী গাড়ির পাইকারি বিক্রি সাফল্যের সঙ্গে রেকর্ড করেছে। এই আকাশচুম্বী চাহিদার কথা মাথায় রেখেই কোম্পানিটি তাদের মাসিক উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ৯,০০০ ইউনিট থেকে বাড়িয়ে ১৫,০০০ ইউনিটেরও বেশি করে ফেলেছে। আগামী মাসগুলোতে এই উৎপাদন ক্ষমতা আরও বহুগুণ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। টাটা মোটরসের হিসাব অনুযায়ী, চলতি অর্থবর্ষে তাদের ইভি বিক্রির প্রবৃদ্ধি ৭০ শতাংশেরও বেশি হবে এবং এই বাজারে তাদের মোট অংশীদারিত্ব ৪০ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে।
তবে এই সাফল্যের মাঝেও কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে সংস্থাকে। কাঁচামালের লাগাতার ক্রমবর্ধমান মূল্য দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে কোম্পানির খরচের ক্ষেত্রে বড় বাধা তৈরি করতে পারে। কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ত্রৈমাসিকে পণ্যের এই দাম বৃদ্ধির কারণে রাজস্বের ওপর প্রায় ৪.৫ শতাংশ নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। গত বছরের একই ত্রৈমাসিকে ৩,৯২৪ কোটি টাকা নিট মুনাফা থাকলেও, সদ্য সমাপ্ত ত্রৈমাসিকে তা কমে ৭৭৫ কোটি টাকায় এসে দাঁড়িয়েছে। তবে এই অতিরিক্ত খরচের পুরো বোঝা সরাসরি সাধারণ গ্রাহকদের ঘাড়ে না চাপিয়ে কোম্পানিটি অভ্যন্তরীণ খরচ কমানোর নীতি গ্রহণ করেছে এবং প্রয়োজন সাপেক্ষে ধাপে ধাপে দাম সামঞ্জস্য করার পরিকল্পনা করেছে।
অন্যদিকে, টাটা মোটরসের জনপ্রিয় মডেল ‘সিয়েরা’-র জন্যও বাজারে অবিশ্বাস্য চাহিদা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে এর ইলেকট্রিক সংস্করণ লঞ্চ হওয়ার পর থেকেই ক্রেতাদের মধ্যে প্রবল উন্মাদনা তৈরি হয়েছে। যদিও কাস্টিং এবং শিট মেটাল সরবরাহে কিছু সাময়িক সমস্যা দেখা দিয়েছে, তবুও আগামী অক্টোবর নাগাদ অতিরিক্ত উৎপাদন ক্ষমতা চালু হলে এই সংকট কেটে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের প্রস্তুতি নিচ্ছে টাটা। দক্ষিণ আফ্রিকায় তাদের গাড়ির বিক্রি ক্রমশ বাড়ছে এবং প্রথম চার মাসে রপ্তানির পরিমাণ ২,৪৩২ ইউনিটে পৌঁছেছে। সব মিলিয়ে উৎসবের এই মরসুমে ইভি এবং সিএনজি গাড়ির হাত ধরেই ভারতীয় অটোমোবাইল বাজারে নতুন ইতিহাস গড়তে প্রস্তুত টাটা মোটরস।