বর্ষায় ঘরের কোন ৫টি জিনিস ডেকে আনছে মারাত্মক রোগ? অজান্তেই বড় বিপদ ডেকে আনছেন না তো!

বর্ষাকাল যতই স্বস্তি আনুক না কেন, তা একই সঙ্গে ডেকে আনে নানা রোগের আশঙ্কা। ঘরের ভিতরের অতিরিক্ত আর্দ্রতা ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও ছত্রাকের বংশবৃদ্ধির জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আর্দ্রতার মাত্রা ৭০ থেকে ৯০ শতাংশে পৌঁছলে বিভিন্ন অণুজীবের বৃদ্ধি মারাত্মকভাবে ত্বরান্বিত হয়। এই কারণেই বর্ষাকালে ফুড পয়জনিং, ত্বকের সংক্রমণ, ভাইরাল জ্বর এবং অ্যালার্জির প্রকোপ হু হু করে বেড়ে যায়।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, সংক্রমণের ঝুঁকি কেবল বাইরের কাদা বা বৃষ্টির জল থেকেই আসে না, বরং ঘরের এমন কিছু নিত্যব্যবহার্য জিনিস থেকেও আসে যা পরিষ্কার করার বিষয়টি আমরা প্রায়ই উপেক্ষা করি। এগুলিকে ‘হাই-টাচ সারফেস’ বা ঘন ঘন স্পর্শ করা হয় এমন তল বলা হয়। নিয়মিত পরিষ্কার না করা হলে এগুলি পরিবারের সদস্যদের মধ্যে জীবাণু ছড়িয়ে পড়ার প্রধান উৎস হয়ে উঠতে পারে।
অণুজীববিজ্ঞান বলছে, ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাকের বেড়ে ওঠার জন্য প্রধানত আর্দ্রতা, উষ্ণ তাপমাত্রা এবং খাদ্যের ক্ষুদ্র কণার প্রয়োজন হয়। বর্ষাকালে এই উপাদানগুলি সহজেই মেলায় রান্নাঘর ও বাথরুম ব্যাকটেরিয়া বংশবৃদ্ধির উপযুক্ত কেন্দ্রে পরিণত হয়। ভেজা স্পঞ্জ, কাপড় এবং স্যাঁতসেঁতে পৃষ্ঠতলে ব্যাকটেরিয়া অত্যন্ত দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে। তাই সংক্রমণ রোধে বাড়ির বিশেষ কিছু জায়গার প্রতি এখনই নজর দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
প্রথমত, রান্নাঘরের স্পঞ্জ। স্পঞ্জের ছিদ্রের মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে খাবারের কণা ও আর্দ্রতা আটকে থাকে। ফলে ই. কোলাই ও সালমোনেলার মতো মারাত্মক ব্যাকটেরিয়া এবং ছত্রাক সহজেই বাসা বাঁধে। প্রতিবার ব্যবহারের পর স্পঞ্জটি ভালোভাবে চিপে নিন, সপ্তাহে অন্তত একবার ৫ মিনিট ফুটন্ত জলে ভিজিয়ে রাখুন এবং ৭-১০ দিন অন্তর তা অবিলম্বে বদলে ফেলুন।
দ্বিতীয়ত, মোবাইল ফোন ও ফোনের কভার। সারাদিন ধরে মোবাইল ফোন হাত থেকে নানা পৃষ্ঠের সংস্পর্শে আসে। বর্ষাকালে ভেজা হাতে ফোন ব্যবহার করলে জীবাণু ছড়ায়। ৭০ শতাংশ আইসোপ্রোপাইল অ্যালকোহলযুক্ত ওয়াইপস দিয়ে ফোন পরিষ্কার করুন এবং সিলিকনের কভার সপ্তাহে দুবার সাবান-জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
তৃতীয়ত, দরজার নব, সুইচবোর্ড ও রিমোট। বাড়ির প্রতিটি সদস্যই দিনে বহুবার এগুলি স্পর্শ করেন। জীবাণুনাশক দিয়ে সামান্য ভেজানো মাইক্রোফাইবার কাপড় ব্যবহার করে এগুলি পরিষ্কার করুন এবং বাড়িতে কেউ অসুস্থ থাকলে দিনে দু’বার মুছুন।
চতুর্থত, টুথব্রাশ হোল্ডার ও বাথরুমের বেসিন। বাথরুমের স্যাঁতসেঁতে ভাব ছত্রাকের আদর্শ জায়গা। তাই সপ্তাহে দু’বার টুথব্রাশ হোল্ডার পরিষ্কার করুন এবং বাথরুমে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখুন।
পঞ্চমত, জলের বোতল ও এর ঢাকনা। বোতলের ঢাকনা ও স্ট্র-এর গায়ে বায়োফিল্ম জমে জীবাণু লুকিয়ে থাকে। প্রতিদিন বোতল-ব্রাশ দিয়ে বোতল পরিষ্কার করুন এবং সপ্তাহে অন্তত একবার গরম জল দিয়ে ডিপ ক্লিন করুন।