ঘুমপাড়ানোর মারাত্মক ওষুধ ইনজেক্ট করেই কি শেষ সব? NRS-নার্সের রহস্যমৃত্যুতে নয়া তথ্য

নীলরতন সরকার (NRS) মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের অন্দরে এক তরুণী নার্সের রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃতের শরীরে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন বা কোনো সুইসাইড নোট উদ্ধার না হওয়ায় মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে গভীর ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে সামনে এসেছে একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য—শৌচাগারে যাওয়ার সময় ওই নার্স সঙ্গে করে ফেন্টানিলের (Fentanyl) তিনটি ভায়াল নিয়ে গিয়েছিলেন, যা সাধারণত রোগীদের ঘুম পাড়ানোর কাজে ব্যবহার করা হয়। ঘটনার আকস্মিকতায় হতবাক সহকর্মীরা। অন্যদিকে, মৃতার সদ্য বিবাহিত স্বামী এনআরএস হাসপাতালে ময়নাতদন্ত করাতে অস্বীকার করায় রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে।

ঠিক কী ঘটেছিল বুধবার রাতে?
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত ওই নার্সের বাড়ি আদতে পূর্ব মেদিনীপুরে হলেও তিনি বর্তমানে দমদমে থাকতেন এবং সম্প্রতি তাঁর বিয়ে হয়েছিল।

ডিউটিতে যোগদান: বুধবার রাত ৮টা নাগাদ তিনি এনআরএসের এইচডিইউ (HDU) ওয়ার্ডে নাইট ডিউটিতে যোগ দেন।
শৌচাগারে যাওয়া: রাত আনুমানিক ১০টা ২০ মিনিট নাগাদ তিনি গাইনি বিভাগের শৌচালয়ে প্রবেশ করেন। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ পেরিয়ে গেলেও তিনি বাইরে না আসায় সহকর্মীদের সন্দেহ হয়।
দরজা ভেঙে উদ্ধার: ১০টা ২৭ মিনিট থেকে বাইরে থেকে নাগাড়ে ডাকাডাকি শুরু করলেও ভেতর থেকে কোনো সাড়া মেলেনি। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে সহকর্মীরা শৌচাগারের দরজা ভেঙে ফেলেন এবং ভেতরে তাঁকে মেঝেতে অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।
সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালের বেডে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসকরা পরীক্ষা করলেও বাঁচানো সম্ভব হয়নি। ততক্ষণে সব শেষ হয়ে গিয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পরিদর্শন ও পুলিশি তদন্ত
এই মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর পেয়েই দ্রুত এনআরএস হাসপাতালে ছুটে যান রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। তিনি হাসপাতালের অন্যান্য নার্স এবং কর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন ও পরিস্থিতির খোঁজ নেন।

ঘটনার গুরুত্ব বুঝে তদন্তে নেমে পড়েছে লালবাজারের শীর্ষ পুলিশ আধিকারিকদের একটি বিশেষ দল। কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ) কুণাল আগরওয়াল এবং ডিসি (পূর্ব শহরতলি) সুবিমল পাল-এর নেতৃত্বাধীন হোমিসাইড টিম ইতিমধ্যেই ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করেছে। হাসপাতালের একাধিক সিসিটিভি ফুটেজ ও কল রেকর্ড খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ফেন্টানিলের ভায়াল ও কনুইয়ের ইনজেকশন ঘিরে রহস্য
তদন্তে নেমে সবচেয়ে বড় যে প্রশ্নটি সামনে এসেছে, তা হলো ওই নার্সের ব্যবহার করা ওষুধ। হাসপাতাল সূত্রে খবর, শৌচালয়ে যাওয়ার সময় তিনি ফেন্টানিলের ৩টি ভায়াল সঙ্গে নিয়েছিলেন। তাঁর কনুইয়ের জয়েন্টে ইনজেকশন পুশ করার মতো চিহ্ন পাওয়া গেছে।

রোগীদের ঘুম পাড়ানোর এই কড়া ওষুধ তাঁর কাছে কীভাবে এল, তিনি নিজেই তা শরীরে ইনজেক্ট করেছিলেন নাকি এর নেপথ্যে অন্য কোনো রহস্য রয়েছে—এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা। মৃতার স্বামীর ময়নাতদন্তে অনীহা এবং পুলিশের উচ্চপর্যায়ের তৎপরতায় এই ঘটনা এখন রাজ্যজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।