প্রথম স্ত্রী-কে ডিভোর্স, ইটালিয়ান মডেলের সঙ্গে লিভ-ইন! ঠিক কী কারণে দুই বছরের মাথায় ভাঙল সইফের সেই সম্পর্ক?

বলিউডের অন্যতম চর্চিত ও হেভিওয়েট জুটি সইফ আলি খান (Saif Ali Khan) ও করিনা কাপুর খানের (Kareena Kapoor Khan) প্রেমের গল্প আজ কারও অজানা নয়। তবে করিনার জীবনে আসার ঠিক আগের মুহূর্তে ইটালিয়ান মডেল রোজা ক্যাটালানোর (Rosa Catalano) সঙ্গে চুটিয়ে প্রেম করেছিলেন ছোট পতৌদি। প্রথম স্ত্রী অমৃতা সিংয়ের (Amrita Singh) সঙ্গে দীর্ঘ বিবাহিত জীবনের অবসানের পর রোজা ও সইফের সম্পর্ক নিয়ে একসময় বলিপাড়ায় চর্চার ঝড় উঠেছিল। কিন্তু হঠাৎ কী এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল যে দীর্ঘ দুই বছর একসঙ্গে লিভ-ইন করার পরও তাঁদের চিরতরে আলাদা হয়ে যেতে হলো? এই বিচ্ছেদের নেপথ্যে কি সত্যিই করিনার কোনো ভূমিকা ছিল? নাকি অন্য কোনো গোপন সমীকরণ লুকিয়ে ছিল এর পেছনে?
এই সম্পর্কের সূত্রপাত হয়েছিল অত্যন্ত আকস্মিক ও নাটকীয়ভাবে। ইতালির অধিবাসী রোজা পেশাগত সূত্রে কেনিয়ায় একটি শুটিংয়ের কাজে গিয়েছিলেন। ঠিক সেখানেই প্রথমবার ভাগ্যবশত দেখা হয় সইফের সঙ্গে। তবে প্রেমের প্রাথমিক দিনগুলোতে রোজা সম্পূর্ণ অন্ধকারে ছিলেন এবং সইফ তাঁকে নিজের অতীতের জীবনের অনেক বড় সত্য জানাননি। পরবর্তী সময়ে সইফের সঙ্গে ভারতে পা রাখার পরই রোজা জানতে পারেন যে, সইফ আসলে বিবাহিত এবং তাঁর দুটি সন্তানও রয়েছে! যদিও সেই সময় অমৃতা সিংয়ের থেকে আইনগতভাবে আলাদা হয়ে অন্য একটি ঠিকানায় থাকছিলেন অভিনেতা। পরবর্তী সময়ে এক সাক্ষাৎকারে রোজা নিজেই স্বীকার করেছিলেন যে, প্রথমটায় সব সত্য জেনে তিনি দারুণ অবাক হয়েছিলেন। তবে তিনি এও জানিয়েছিলেন যে সইফের সেই দুই সন্তানকে তিনি যথেষ্ট পছন্দ করতেন এবং তাঁদের সঙ্গে তাঁর একটি ভালো বোঝাপড়াও তৈরি হয়েছিল।
তবে এই সম্পর্কে ফাটল ধরার নেপথ্যে সবচেয়ে বড় অনুঘটক হয়ে দাঁড়িয়েছিল বলিউডের খ্যাতনামা ফ্যাশন ও কমার্শিয়াল ফটোগ্রাফার ডাব্বু রতনানির একটি বিশেষ ফটোশুট। সেই সময় সইফ ও করিনা কাপুরের একটি অন্তরঙ্গ ফটোশুট দেখতে শুটিং সেটে উপস্থিত হয়েছিলেন রোজা নিজে। সেটে সইফ ও করিনার মধ্যকার রসায়ন এবং কেমিস্ট্রি এতটাই জমজমাট ও চোখে পড়ার মতো ছিল যে তা দেখে সেটে দাঁড়িয়েই চরম অসন্তুষ্ট ও ক্ষুব্ধ হন রোজা। এই ঘটনার পর থেকেই বলিপাড়ায় তীব্র গুঞ্জন ছড়াতে শুরু করে যে, করিনা কাপুরের অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতার কারণেই নাকি সইফ ও রোজার দীর্ঘদিনের সম্পর্কে চূড়ান্ত ভাঙন ধরেছিল।
যদিও পরবর্তীকালে এক এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে এই বিচ্ছেদ প্রসঙ্গে মুখ খুলেছিলেন রোজা ক্যাটালানো নিজেই। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছিলেন যে, যেকোনো একটি সুন্দর সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে দু’জন মানুষেরই সমান প্রচেষ্টা ও মানসিক সংযমের প্রয়োজন হয়। যখন সম্পর্কের একটি দিক একরকম ভাবে চলতে চায় এবং অন্য জন সম্পূর্ণ বিপরীত পথে হাঁটতে শুরু করে, তখন সেই সম্পর্কের নৌকা আর বেশিদূর এগোতে পারে না। অন্যদিকে, সইফ আলি খানও সমস্ত গুঞ্জন ও জল্পনা উড়িয়ে অতীতে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, রোজার সঙ্গে তাঁর বিচ্ছেদ বা দূরত্ব তৈরির পেছনে করিনা কাপুর খানের বিন্দুমাত্র কোনো হাত ছিল না। রোজার সঙ্গে পাকাপাকিভাবে সম্পর্ক ভাঙার পরই ‘টশান’ সিনেমার শুটিং সেটে করিনার আরও কাছাকাছি আসেন সইফ এবং দীর্ঘ পাঁচ বছর প্রেমের সম্পর্কের পর ২০১২ সালে তাঁরা আইনসম্মতভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।