ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া নিয়ে বড় নির্দেশ! ট্রাইব্যুনালের কাজ নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে ভর্ৎসনা সুপ্রিম কোর্টের!

অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর বেশ কিছুদিন কেটে গেলেও এখনও পর্যন্ত লক্ষ লক্ষ মামলার নিষ্পত্তি না হওয়ায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করল সুপ্রিম কোর্ট। এই মুহূর্তে ঠিক কতগুলি ট্রাইব্যুনাল কাজ করছে, তারা কত ঘণ্টা কাজ করছে এবং কতগুলি মামলার নিষ্পত্তি করেছে—এই সমস্ত বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য তলব করেছে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বিশেষ বেঞ্চ। সূত্রের খবর, মুর্শিদাবাদ ও মালদহ জেলায় বিপুল সংখ্যক মানুষের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ার পর দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের আবেদন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন থাকায় কংগ্রেস নেতা তথা প্রাক্তন সাংসদ অধীর চৌধুরী সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। মঙ্গলবার সেই মামলার শুনানিতে কমিশনের আইনজীবী জানান যে ট্রাইব্যুনালের কাজকর্ম নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে তাদের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক রয়েছে। শুনানির সময় ট্রাইব্যুনালের পরিকাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তোলেন আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য। অধীর চৌধুরীর আইনজীবী রউফ রহিম সওয়ালে জানান যে, নিষ্পত্তিকৃত আবেদনের হার শতাংশের বিচারে অত্যন্ত নগণ্য।এই মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ করেন যে, যে গতিতে আবেদনের নিষ্পত্তি করা হচ্ছে, তাতে সমস্ত মামলার নিষ্পত্তি হতে হতে পরবর্তী নির্বাচন চলে আসবে। অন্যদিকে, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীও মন্তব্য করেন যে, শুধুমাত্র ট্রাইব্যুনাল গঠন করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না, তাদের কাজের পারফরম্যান্স বিচার করাও অত্যন্ত জরুরি। যদি নিষ্পত্তির হার সন্তোষজনক না হয়, তবে পরিকাঠামো পরিবর্তন কিংবা অনলাইন শুনানির বিকল্প পথ বিবেচনা করা প্রয়োজন।কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে যে পরিকাঠামোগত কোনো সমস্যা থাকলে তা খতিয়ে দেখা হবে। আগামী ২৫ আগস্ট এই মামলার পরবর্তী শুনানি ধার্য করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া চলাকালীন বাদ পড়া নামগুলির সুরাহার জন্যই সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এই অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনালগুলি গঠন করা হয়েছিল।