বাবার শেষকৃত্য হোক ভারতেই! টোকিও থেকে চিতাভস্ম ফেরাতে আদালতের দ্বারস্থ নেতাজি কন্যা

টোকিওর রেনকোজি মন্দির থেকে মহানায়ক নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ‘চিতাভস্ম’ ভারতে ফিরিয়ে আনার দাবি দীর্ঘদিনের। আর এবার সেই দাবির পক্ষেই সরাসরি শিলমোহর দিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেন নেতাজির কন্যা অনিতা বোস ফাফ। মঙ্গলবার এই সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে কেন্দ্র সরকারের অবস্থান জানতে চাইল দেশের শীর্ষ আদালত।
সুপ্রিম কোর্টে কী হলো?
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বিশেষ বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। নেতাজি কন্যার পক্ষে আদালতে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি। তাঁর সমস্ত যুক্তি শোনার পরেই কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে নোটিস জারি করে জবাব তলব করেছে সুপ্রিম কোর্ট।
অনিতা বোস ফাফের দাবি কী?
নেতাজির অন্তর্ধান ও মৃত্যু নিয়ে দশকের পর দশক ধরে নানা রহস্য এবং তত্ত্ব সামনে এসেছে। তবে নেতাজি কন্যা অনিতা বোসের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, জাপানের রেনকোজি মন্দিরে যে দেহাবশেষ সংরক্ষিত রয়েছে, তা তাঁর বাবা নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুরই। তাই তাঁর দাবি, যত দ্রুত সম্ভব সেই চিতাভস্ম ভারতে ফিরিয়ে আনা হোক এবং দেশের মাটিতেই তাঁর মর্যাদাপূর্ণ শেষকৃত্য সম্পন্ন হোক।
অন্তর্ধান রহস্য এবং রেনকোজি তত্ত্ব
ইতিহাসের পাতা অনুযায়ী, ১৯৪৫ সালের ১৮ আগস্ট তাইওয়ানের তাইপেইয়ে এক বিমান দুর্ঘটনায় মারাত্মকভাবে আহত হন নেতাজি এবং হাসপাতালেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে দাবি করা হয়। পরবর্তী সময়ে তাঁর দেহ দাহ করে সেই চিতাভস্ম জাপানের রেনকোজি মন্দিরে রাখা হয়। ভারত সরকারও দীর্ঘদিন ধরে এই তত্ত্বকেই স্বীকৃতি দিয়ে আসছে।
তদন্ত কমিশনের দ্বন্দ্ব: নেতাজির মৃত্যু রহস্যের কিনারা করতে অতীতে একাধিক কমিশন গঠিত হয়েছে। শাহনওয়াজ কমিটি এবং বিচারপতি জি ডি খোসলা কমিশন বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যুর তত্ত্ব মেনে নিলেও, পরবর্তী সময়ে বিচারপতি মুখার্জি কমিশন সেই তত্ত্ব খারিজ করে দেয়। যদিও কেন্দ্র মুখার্জি কমিশনের রিপোর্ট গ্রহণ করেনি।
ডিএনএ টেস্টের দাবি: জাপানে থাকা ওই চিতাভস্ম আদতে নেতাজির কি না, তা নিশ্চিত করতে অতীতে ডিএনএ পরীক্ষার জোরালো দাবিও তুলেছিলেন অনেকে।
এমতাবস্থায় নেতাজি কন্যার এই আইনি পদক্ষেপ গোটা দেশজুড়ে নতুন করে দেশনায়কের অন্তর্ধান রহস্য এবং তাঁর শেষকৃত্যের বিষয়টি নিয়ে তীব্র কৌতূহল ও উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। কেন্দ্রের মোদী সরকার এই বিষয়ে আদালতে কী জবাব দেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে দেশবাসী।