গভীর রাতে চরম জনরোষ! এলাকাতেই থাকা হল না কোচবিহারের সাংসদ ও বিধায়কের!

কোচবিহার থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে জয়লাভ করার পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের জাদুতে আমূল বদলে গেছে পুরো সমীকরণ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছেড়ে অন্য শিবিরে যোগ দেওয়ার পর থেকেই তীব্র রাজনৈতিক অসন্তোষের মুখে পড়েছেন কোচবিহারের সাংসদ জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়া এবং সিতায়ের বিধায়ক তথা তাঁর স্ত্রী সঙ্গীতা রায় বাসুনিয়া। রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন চলছে যে, তাঁদের নতুন দল শেষ পর্যন্ত এনডিএ-র সঙ্গে মিশে যেতে পারে, যার জন্য দফায় দফায় কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছে। অন্যদিকে, বিধানসভার বিধায়ক সঙ্গীতা রায়রা রাজ্যের বিরোধী শিবিরের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক সেরেছেন বলে খবর। এই দলবদল ও রাজনৈতিক পালাবদলের জল্পনার মাঝেই দীর্ঘদিন বাদে নিজের নির্বাচনী এলাকার বাড়িতে ফিরে এক রাতও কাটানোর সুযোগ পেলেন না এই প্রভাবশালী সাংসদ ও বিধায়ক দম্পতি।
নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর দীর্ঘ কয়েক মাস সিতাইয়ের স্থানীয় বাড়িতে তাঁদের কোনো দেখাই পাওয়া যায়নি। অবশেষে সোমবার গভীর রাতে কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় তাঁরা যখন নিজেদের বাড়িতে ফেরেন, মুহূর্তের মধ্যে সেই খবর গোটা এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। আর এর পরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন সাধারণ মানুষ। মুহূর্তের মধ্যে সিতাই বাজার ও তাঁদের বাড়ির সামনে হাজার হাজার স্থানীয় বাসিন্দা জড়ো হয়ে তীব্র বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। সাংসদ ও বিধায়কের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে শুরু করেন ক্ষুব্ধ জনতা। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার উপক্রম হলে বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে। স্থানীয়দের এই প্রবল জনরোষ দেখে স্পষ্ট হয়ে যায় যে, নির্বাচনের পর এলাকার মানুষের থেকে রাজনৈতিক দূরত্ব তৈরির খেসারত কতটা মারাত্মক হতে পারে।
যদিও পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়েছিল, তবুও শেষ পর্যন্ত সিতাইয়ে রাতে আর থাকা হয়নি সাংসদ ও বিধায়কের। জনরোষের তীব্রতা এবং নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে গভীর রাতে, প্রায় দুটো নাগাদ, কঠোর পুলিশি পাহারার মধ্যেই তড়িঘড়ি সিতাই ছাড়তে বাধ্য হন জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়া ও সঙ্গীতা রায়। সিতাইয়ের বাড়ি ছেড়ে সোজা কোচবিহারের নিজস্ব ফ্ল্যাটে এসে আশ্রয় নেন তাঁরা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের টিকিটে জেতার পর ২০২৬ সালের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাঁদের এই দলবদল এবং আকস্মিক সিতাই ছাড়ার ঘটনা কোচবিহারের রাজনীতিতে এক নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। সাধারণ মানুষের ক্ষোভ এবং রাজনৈতিক দলবদলের এই ফুটন্ত কড়াইয়ে এখন পুরো উত্তরবঙ্গ জুড়েই তৈরি হয়েছে চরম চাঞ্চল্য।