পুরো টাকা না পেলেও রেজিস্ট্রিকৃত বিক্রয় দলিল সম্পূর্ণ বৈধ! সম্পত্তি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়

সম্পত্তি কেনাবেচার ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী রায় দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। সুপ্রিম কোর্ট পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে যে, সম্পত্তি রেজিস্ট্রি বা বিক্রয় দলিলের সময় ক্রেতা সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধ না করলেও সেই দলিলটি সম্পূর্ণ বৈধ থাকবে। শুধুমাত্র বকেয়া বা অবশিষ্ট টাকা না পাওয়ার অজুহাতে বিক্রয় দলিল বাতিল করা যাবে না। টাকা আদায়ের একমাত্র আইনি পথ হলো পৃথকভাবে অর্থ আদায়ের মামলা দায়ের করা।

⚖️ এক নজরে মূল ৫টি বিষয়:

  • বিক্রয় দলিল বাতিল নয়: আংশিক টাকা পরিশোধের মাধ্যমে সম্পাদিত দলিল অবৈধ ঘোষণা করা যায় না।

  • মালিকানার হস্তান্তর: দলিলের নিবন্ধন সম্পন্ন হওয়ার সাথেই সম্পত্তির মালিকানা ক্রেতার কাছে হস্তান্তরিত হয়ে যায়।

  • একমাত্র প্রতিকার: বিক্রির বাকি টাকা আদায়ের জন্য বিক্রেতাকে পৃথক মামলা করতে হবে, দলিল বাতিলের আবেদন নয়।

  • বোম্বে হাইকোর্টের রায় খারিজ: এই মামলায় সুপ্রিম কোর্ট বোম্বে হাইকোর্টের নাগপুর বেঞ্চের পূর্ববর্তী সিদ্ধান্তটি বাতিল করে দিয়েছে।

  • শীর্ষ আদালতের বেঞ্চ: বিচারপতি জে.বি. পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি কে. বিনোদ চন্দ্রনের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই গুরুত্বপূর্ণ রায় ঘোষণা করেছে।

মামলার পেছনের প্রেক্ষাপট

মূলত দুটি বিক্রয় দলিল থেকে এই আইনি বিরোধের সূত্রপাত হয়েছিল। সম্পত্তির মোট দাম নির্ধারিত হয়েছিল ৭,০০০ টাকা, যার মধ্যে দলিল রেজিস্ট্রি করার সময় ২,৫০০ টাকা নগদ পরিশোধ করা হয়েছিল। তবে বাকি ৪,৫০০ টাকা বিক্রেতার বিভিন্ন সরকারি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বকেয়া মেটানোর জন্য রেখে দিয়েছিলেন ক্রেতারা। পরবর্তী সময়ে বিক্রেতারা (বাদীপক্ষ) সেই দলিলগুলো বাতিল এবং সম্পত্তি নিজেদের অধিকারে রাখার দাবিতে আদালতে মামলা দায়ের করেন।

নিচ ও প্রথম আপিল আদালত মামলাটি খারিজ করে দিলেও, পরবর্তীতে বোম্বে হাইকোর্ট সেই রায় উল্টে দেয়। হাইকোর্টের সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে বিবাদীপক্ষ সুপ্রিম কোর্টে আপিল করে।

সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণ

বিচারপতি কে. বিনোদ চন্দ্রনের লেখা রায়ে আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, বিক্রয়মূল্যের আংশিক পরিশোধ করা হলেও দলিল নিবন্ধনের সাথে সাথেই আইনিভাবে সম্পত্তির মালিকানা বদল হয়ে যায়। টাকা বকেয়া থাকলে তার প্রতিকার দলিল বাতিল করা নয়, বরং বকেয়া অর্থ উদ্ধারের জন্য আইনসম্মতভাবে মামলা করা। এই রায়ের ফলে সম্পত্তি বেচাকেনার ক্ষেত্রে আইনি জটিলতা অনেকটাই কাটল বলে মনে করছেন আইনি বিশেষজ্ঞরা।