বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস ও শারীরিক নির্যাতন! আইপিএল ও বাংলা দলের তারকা ক্রিকেটার গ্রেফতার!

আইপিএল এবং ঘরোয়া ক্রিকেটের ময়দানে এক পরিচিত নাম, যিনি একই সঙ্গে দিল্লি ক্যাপিটালস ও বাংলা দলের অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য উইকেটকিপার-ব্যাটার হিসেবে দলের ভরসা হয়ে উঠেছিলেন। কিন্তু ব্যাট-বলের মাঠের এই কৃতি খেলোয়াড় এবার জড়িয়ে পড়েছেন এক অত্যন্ত গুরুতর ও জঘন্য আইনি অভিযোগে। বিয়ের ভুয়া প্রতিশ্রুতি দিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন এবং পরবর্তীতে তা অস্বীকার করার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন এই বিখ্যাত ক্রিকেটার। কর্ণাটকে চিকিৎসাবিদ্যার পাঠরতা এক তরুণী গত ২৩ জুন সরাসরি হুগলির মগড়া থানায় উপস্থিত হয়ে ওই ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত সাড়ে তিন বছর ধরে ওই তরুণীর সঙ্গে আসামির একটি গভীর সম্পর্ক ছিল এবং তাঁদের মধ্যে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পাকা কথাও হয়েছিল। এমনকি তাঁরা একসঙ্গে বিদেশেও ভ্রমণ করেছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রায় দেড় বছর আগে তাঁদের ব্যক্তিগত সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হলে বিষয়টি একপ্রস্থ থানা পর্যন্ত গড়ালেও সেই সময়ে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।

তরুণীর দায়ের করা অভিযোগের গুরুত্ব ও সংবেদনশীলতা অনুধাবন করে হুগলি গ্রামীণ পুলিশের সুপার কুঁয়ার ভূষণ সিং সেদিনই নিজে মগড়া থানায় ছুটে যান। সেখানে তিনি ডিএসপি ক্রাইম অভিজিৎ সিনহা মহাপাত্র এবং মগড়া থানার আইসি-র সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মিলিত হন এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নিয়ে কঠোর নির্দেশিকা জারি করেন। এর পরেই নড়েচড়ে বসে মগড়া থানার পুলিশ দল তদন্ত শুরু করে এবং অভিযুক্তের চন্দননগরের পৈতৃক বাসভবনে একাধিকবার হানা দেয়। কিন্তু সেই সময় অভিযুক্ত ক্রিকেটারকে বাড়িতে না পাওয়ায় তদন্ত কিছুটা থমকে যায়। দীর্ঘ সময় ধরে পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে শেষ পর্যন্ত ওই তরুণী ন্যায়বিচারের আশায় কলকাতা হাইকোর্টের শরণাপন্ন হন। আদালতের তরফ থেকে পুলিশকে অবিলম্বে অভিযুক্ত ক্রিকেটারকে গ্রেফতার করার স্পষ্ট ও কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়। হাইকোর্টের নির্দেশ পাওয়ার পরেই নড়েচড়ে বসে পুলিশ এবং গতকাল কলকাতার একটি গোপন আস্তানা থেকে মগড়া থানার বিশেষ দল তাকে পাকড়াও করে।

ধৃত ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-র একাধিক কঠোর ধারা এবং তথ্যপ্রযুক্তি আইনের অধীনে মামলা রুজু করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৬৯, ৩১১, ৩১৮ ধারা ছাড়াও আইটি অ্যাক্টের ৬৬ এবং ৭২ ধারায় অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। আজই তাকে চুঁচুড়া মহকুমা আদালতে পেশ করা হবে বলে পুলিশ সূত্রে খবর মিলেছে। একজন প্রতিভাবান ও পরিচিত ক্রীড়াবিদের বিরুদ্ধে এহেন গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ এবং তার গ্রেফতারে গোটা রাজ্যজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। আইপিএল ও বাংলার ক্রিকেট পরিমণ্ডলে এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই ক্রীড়া প্রেমী মহলে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। আইনের কড়া বেড়াজালে জড়িয়ে পড়া এই তারকা ক্রিকেটারের কেরিয়ার এখন সম্পূর্ণ অনিশ্চয়তার মুখে।