স্পাইডারম্যানের রিল লাইফ রোমান্স গড়াল রিয়েল লাইফে! কোন তারকার প্রেম আজও সুপারহিট?

‘স্পাইডারম্যান’ শুধু তার দারুণ সুপারহিরো গল্পের জন্যই বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় নয়, বরং এই ফ্র্যাঞ্চাইজির সাথে জড়িত বাস্তব জীবনের রোমাঞ্চকর প্রেমের গল্পগুলোও বরাবরই খবরের শিরোনামে জায়গা করে নিয়েছে। এ পর্যন্ত সিলভার স্ক্রিনে মোট তিনজন দুর্দান্ত অভিনেতা—টোবি ম্যাগুয়ার, অ্যান্ড্রু গারফিল্ড এবং টম হল্যান্ড—সুপারহিরো স্পাইডার-ম্যানের আইকনিক চরিত্রে সফলভাবে অভিনয় করেছেন। তবে সবচেয়ে বিস্ময়কর ও মজার বিষয় হলো, এই তিনজন অভিনেতাই বাস্তব জীবনে তাঁদের ছবির প্রধান অভিনেত্রীদের প্রেমে পড়েছিলেন। এর স্পষ্ট অর্থ হলো, পর্দায় ফুটিয়ে তোলা তাঁদের অনবদ্য প্রেমের গল্পগুলো ক্যামেরার বাইরেও গভীর সম্পর্কে রূপান্তরিত হয়েছিল। যদিও এই তিন জনপ্রিয় জুটির মধ্যে কেবল টম হল্যান্ড এবং জেনডায়ার প্রেমেই দীর্ঘস্থায়িত্বের দেখা মিলেছে।
প্রাথমিকভাবে যদি টোবি ম্যাগুয়ার এবং কার্স্টেন ডানস্টের সম্পর্কের কথা বলা হয়, তবে স্যাম রাইমির বিখ্যাত ‘স্পাইডার-ম্যান’ ট্রিলজিতে পিটার পার্কারের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন টোবি। আর ছবিতে তাঁর প্রেমিকা মেরি জেনের চরিত্রে অসাধারণ অভিনয় করেন কার্স্টেন ডানস্ট। এই দু’জন ২০০২ সালের ‘স্পাইডার-ম্যান’, ২০০৪ সালের ‘স্পাইডার-ম্যান ২’ এবং ২০০৭ সালের ‘স্পাইডার-ম্যান ৩’ ছবিতে একসঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করেছিলেন। চলচ্চিত্রটির মূল চিত্রগ্রহণের সময় তাঁদের দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক দানা বাঁধতে শুরু করে। শোনা যায়, তাঁরা অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে সম্পর্কটি বজায় রেখেছিলেন। এমনকি ছবির পরিচালক স্যাম রাইমি তাঁদের বিচ্ছেদের খবর জানার পরেই এই বিষয়ে জানতে পেরেছিলেন। তবে তাঁদের এই প্রেম খুব বেশি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ২০০১ সালে সম্পর্কের সূত্রপাত হলেও ২০০২ সালের শুরুর দিকেই তার ইতি ঘটে। যদিও বিচ্ছেদের পরেও তাঁরা পেশাদারিত্ব বজায় রেখে একসাথে কাজ চালিয়ে গেছেন এবং পর্দায় তাঁদের রসায়নে কোনো ঘাটতি দেখা যায়নি।
এরপর আসা যাক অ্যান্ড্রু গারফিল্ড এবং এমা স্টোনের রোমান্টিক অধ্যায়ে। অ্যান্ড্রু ‘দ্য অ্যামেজিং স্পাইডার-ম্যান’ ছবিতে পিটার পার্কারের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন, আর গোয়েন স্টেসির ভূমিকায় দেখা গিয়েছিল এমা স্টোনকে। শুটিং সেটেই তাঁদের প্রথম পরিচয় হয় এবং ধীরে ধীরে সেই সুসম্পর্ক গভীর প্রেমে রূপ নেয়। ২০১১ সালের নভেম্বরে তাঁদের প্রথমবার প্রকাশ্যে একসঙ্গে দেখা গিয়েছিল। তাঁরা দীর্ঘ প্রায় চার বছর ধরে একে অপরের সাথে সম্পর্কে যুক্ত ছিলেন। সিনেমার বিভিন্ন প্রচারের সময়ও তাঁদের একে অপরের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হতে দেখা গেছে। তবে ২০১৫ সালের এপ্রিলে তাঁদের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটে যায়। যদিও সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য তাঁরা পুনরায় একত্রিত হয়েছিলেন, তবে ২০১৫ সালের অক্টোবরের মধ্যে তাঁরা চিরতরে আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। বিচ্ছেদ সত্ত্বেও তাঁদের মধ্যে গভীর বন্ধুত্ব অটুট ছিল এবং পরবর্তী বছরগুলোতেও একে অপরের বিভিন্ন প্রোজেক্টকে সমর্থন জুগিয়েছেন।
সবশেষে বলা যাক বর্তমান প্রজন্মের সেনসেশন টম হল্যান্ড এবং জেনডায়ার কথা, যাঁদের চিরসবুজ প্রেমের গল্প আজও গোটা বিশ্বের অনুরাগীদের মুখে মুখে চর্চিত হয়। টম এবং জেনডায়া ‘স্পাইডার-ম্যান’ ফ্র্যাঞ্চাইজির জনপ্রিয় ছবিগুলোতে পিটার পার্কার এবং এমজে-র চরিত্রে অভিনয় করেছেন। তাঁরা ২০১৭ সালের ‘স্পাইডার-ম্যান: হোমকামিং’, ২০১৯ সালের ‘স্পাইডার-ম্যান: ফার ফ্রম হোম’ এবং ২০২১ সালের ‘স্পাইডার-ম্যান: নো ওয়ে হোম’ ছবিতে একসঙ্গে স্ক্রিন কাঁপিয়েছেন। সিনেমাগুলোতে তাঁদের নিখুঁত রসায়ন ভক্তদের হৃদয় জয় করে নেয় এবং ঠিক সেই সময়ই তাঁদের প্রেমের গুঞ্জন জোরালো হয়ে ওঠে। দীর্ঘ সময় তাঁরা নিজেদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক জনসমক্ষে আনেননি। কিন্তু ২০২১ সালের জুলাই মাসে তাঁদের একটি চুম্বনের ছবি ফাঁস হওয়ার পর সম্পর্কের গুঞ্জন সত্যি প্রমাণিত হয়। এরপর সোশ্যাল মিডিয়ায় টম জেনডায়াকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে তাঁকে ‘আমার এমজে’ বলে সম্বোধন করেন। ব্যক্তিগত জীবন আড়ালে রাখতে পছন্দ করলেও বিভিন্ন সময়ে তাঁদের একে অপরকে শক্ত হাতে সমর্থন করতে দেখা গেছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে জেনডায়ার আঙুলে আংটি দেখার পর তাঁদের বাগদানের খবরে শিলমোহর পড়ে, যা পরবর্তীতে ‘পিপল’ ম্যাগাজিনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়। মজার ব্যাপার হলো, স্পাইডারম্যান ফ্র্যাঞ্চাইজির বাইরেও এই জুটি সমানভাবে সক্রিয়। পরিচালক ক্রিস্টোফার নোলানের বহুচর্চিত ছবি ‘দ্য ওডিসি’-তেও একসঙ্গে কাজ করছেন এই তারকা জুটি, যা প্রমাণ করে যে স্পাইডারম্যানের রিল লাইফ রোমান্স বাস্তবে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে।