‘আমার এক টাং নকল থি…!’ বিশ্বখ্যাত ‘ওয়েলকাম’ সিনেমার জন্য মাত্র ১ লাখ টাকা পারিশ্রমিক পেয়েছিলেন মুশতাক খান?

বলিউড ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে টানা পাঁচ দশক ধরে দাপটের সঙ্গে অভিনয় করে নিজের জন্য এক স্বতন্ত্র স্থান তৈরি করেছিলেন জনপ্রিয় চরিত্রাভিনেতা মুশতাক খান। একের পর এক স্মরণীয় পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয় করে তিনি সবসময় দর্শকদের মুগ্ধ করেছেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় যে, ক্যানসারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর গত ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে তিনি এই পৃথিবী থেকে চিরবিদায় নেন। তাঁর এই আকস্মিক প্রয়াণে গোটা চলচ্চিত্র জগৎ ও ভক্তমহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিশেষ করে কালজয়ী কমেডি ছবি ‘ওয়েলকাম’ (Welcome)-এ তাঁর অনবদ্য অভিনয় আজও দর্শকের মনে অম্লান হয়ে আছে।

ছবির দুটি খণ্ডেই তাঁর উপস্থিতি ছিল অত্যন্ত নজরকাড়া। নানা পাটেকর এবং অনিল কাপুরের সঙ্গে তাঁর রসায়ন দর্শকদের হাসির খোরাক জুগিয়েছিল। আজ সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর কোনো দৃশ্য বা রিল স্ক্রোল করতে করতে সামনে এলে মুহূর্তেই একটা অন্যরকম বিনোদনের আবহ তৈরি হয়। তবে যে ছবি তাঁকে বিশ্বজোড়া পরিচিতি এবং মিমের দুনিয়ায় কিংবদন্তির মর্যাদা দিয়েছে, সেই ছবির জন্য তাঁকে মাত্র ১ লক্ষ টাকা পারিশ্রমিক দেওয়া হয়েছিল। জীবদ্দশায় একটি সাক্ষাৎকারে অভিনেতা নিজেই এই বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ করেছিলেন এবং নিজের ক্ষোভ ও হতাশা ব্যক্ত করেছিলেন।

সেদিনের সেই স্মৃতির কথা বলতে গিয়ে মুশতাক খান এক সাক্ষাৎকারে প্রকাশ করেছিলেন যে, যখন তাঁরা চুক্তি স্বাক্ষর করেছিলেন, তখন তাঁকে বলা হয়েছিল যে কুড়ি থেকে পঁচিশ দিন শুটিং করতে হবে এবং তার বিনিময়ে তাঁকে এক লক্ষ টাকা দেওয়া হবে। কিন্তু পঁচিশ দিন শুটিং শেষ হওয়ার পরও তাঁকে আরও ১০ দিন এবং পরবর্তীতে আরও ১৫ দিন অতিরিক্ত শুটিং করতে বলা হয়। মজার বিষয় হলো, অতিরিক্ত এই সমস্ত দিনগুলোর জন্য তাঁর পারিশ্রমিক এক টাকাও বাড়ানো হয়নি। এমনকি প্রযোজনা সংস্থার কর্মীরা যেভাবে দিনহিসাব করে কাজ চালাতেন, তাতে তিনি ভীষণভাবে আশাহত হয়েছিলেন।

ছবিতে তিনি ‘বল্লু’ নামক একটি অবিস্মরণীয় চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন, যে উদয় শেঠি গ্যাংয়ের একজন বিশ্বস্ত সদস্য ছিল। তাঁর বলা বিখ্যাত সংলাপ—“মেরি এক টাং নকল থি, ম্যায় হ্যাকিং কা বহুত বড়া খিলাড়ি থা…”—আজও ইন্টারনেটে এবং সাধারণ মানুষের মুখে মুখে বহুল জনপ্রিয়। তাঁর শেষ জীবন পর্যন্ত তিনি ক্যামেরার সামনে সক্রিয় ছিলেন এবং সালমান খানের বডিগার্ড শেরার ছেলের ছবি সহ বেশ কিছু প্রজেক্টে কাজ করছিলেন। কিন্তু ক্যানসারের প্রথম ধাপেই তিনি চিরতরে হারিয়ে গেলেন, যা ভারতীয় চলচ্চিত্রের এক অপূরণীয় ক্ষতি।