২৪ ঘণ্টায় ৩ ম্যাচ! এশিয়ান গেমসে চরম অব্যবস্থার শিকার হয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন পিভি সিন্ধু!

চলতি এশিয়ান গেমসে ভারতীয় ব্যাডমিন্টন দলের পারফরম্যান্স একেবারেই আশানুরূপ হলো না। টুর্নামেন্ট থেকে সম্পূর্ণ পদকহীন হয়ে হতাশাজনকভাবে অভিযান শেষ করতে হলো ভারতের কিংবদন্তি শাটলার পিভি সিন্ধুসহ গোটা দলকে। অলিম্পিক্সে দু’বারের পদকজয়ী সিন্ধু কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নেওয়ার পর জাপানের টুর্নামেন্ট আয়োজকদের বিরুদ্ধে চরম অব্যবস্থার অভিযোগ তুলে বোমা ফাটালেন। তাঁর অভিযোগ, এশিয়ান গেমসের সূচি এতটাই অগোছালো ছিল যে খেলোয়াড়দের চরম শারীরিক ও মানসিক ক্লান্তির মধ্যে পড়তে হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে সিন্ধু জানান, গত শনিবার সকালে তাঁকে একটি ম্যাচ খেলতে হয়। তার মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাদেই ফের শেষ ষোলোর ম্যাচে কোর্টে নামতে বাধ্য হন তিনি। আশ্চর্যের বিষয় হলো, সেই ম্যাচের সময় বারবার পিছোতে থাকায় গভীর রাতে ম্যাচ শেষ হয়। এরপর পর্যাপ্ত বিশ্রামের সুযোগ না দিয়েই আবার রবিবার সকালেই চিনের কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বীর বিরুদ্ধে কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচে নামতে হয় তাঁকে, যেখানে শেষ পর্যন্ত পরাজিত হন তিনি।
কী নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিলেন সিন্ধু?
ম্যাচের পর ক্ষোভ প্রকাশ করে সিন্ধু বলেন, “এশিয়ান গেমসের সূচি অত্যন্ত অগোছালো। আমরা রিকভারির বা বিশ্রামের কোনো সময়ই পাইনি। গভীর রাতে ঘুমাতে যাওয়ার পর আবার রবিবার সকালে মাঠে নামতে হয়েছে। অথচ উচ্চমানের খেলায় শরীর ও মন তরতাজা রাখাটা সবচেয়ে বেশি জরুরি।”
তিনি আরও জানান, দীর্ঘ র্যালির লড়াইতে শরীর সায় দেয়নি। তাঁর কথায়, “ব্যাপারটা শুধু মানসিক প্রস্তুতির নয়, ভালো খেলার জন্য শরীরকেও ঠিক থাকতে হয়। ক্লান্তির কারণে অনেক সময় আমি হয়তো ভালো শট খেলতে চেয়েছি, কিন্তু আমার পা আর চলেনি। তা সত্ত্বেও বলব, আমি আমার সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি।”
হকের ম্যাচ হার নিয়ে ‘হক-আই’ প্রযুক্তি নিয়ে প্রশ্ন
শুধু সূচি বা শারীরিক ক্লান্তিই নয়, ম্যাচের কিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়েও মুখ খুলেছেন সিন্ধু। তাঁর অভিযোগ, কোয়ার্টার ফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচেও কোর্টে কোনো ক্যামেরা ছিল না। তাঁর কয়েকটি নিখুঁত শট লাইনে পড়া সত্ত্বেও প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে সঠিক বিচার পাননি তিনি।
রবিবার মেয়েদের সিঙ্গলসের কোয়ার্টার ফাইনালে অলিম্পিক্স চ্যাম্পিয়ন চিনের চেন উফেইয়ের মুখোমুখি হয়েছিলেন সিন্ধু। প্রথম গেমে ২১-১১ ব্যবধানে দুর্দান্ত জয় ছিনিয়ে নিলেও দ্বিতীয় গেমে ২১-১৮ ব্যবধানে হেরে যান। এরপর ক্লান্ত ও বিধ্বস্ত সিন্ধু শেষ গেমটিতে আর লড়াই ধরে রাখতে না পেরে ২১-১১ ব্যবধানে ম্যাচ হেরে যান। সিন্ধুর এই বিস্ফোরক অভিযোগের পর আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টগুলিতে খেলোয়াড়দের সুযোগ-সুবিধা এবং সূচি নির্ধারণ নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হলো।