এসসি তালিকা থেকে নাম কাটার অদ্ভুত দাবি! আত্মসম্মানের টানে কেন সংরক্ষণের সুবিধা ছাড়তে চাইছে এই সম্প্রদায়?

ভারতে সংরক্ষণ ব্যবস্থা সবসময়ই একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও জটিল বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। শিক্ষা ও সরকারি চাকরির মতো ক্ষেত্রে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়গুলি সবসময়ই সংরক্ষিত শ্রেণীতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার দাবি জানিয়ে লড়ে যায়। কিন্তু এই প্রচলিত ধারার সম্পূর্ণ বিপরীতে হেঁটে বর্তমান সময়ে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে তামিলনাড়ুর দেবেন্দ্রকুলা ভেল্লালার (ডিকেভি) সম্প্রদায়। এই সম্প্রদায়ের একটি অংশের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে দাবি তোলা হয়েছে যে, তাঁদের যেন তফসিলি জাতি (এসসি) তালিকা থেকে সম্পূর্ণভাবে বাদ দেওয়া হয়।

‘ইন্ডিয়ান টুডে’-র একটি বিশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে এই ডিকেভি সম্প্রদায় তফসিলি জাতি হিসেবে সরকারি তালিকাভুক্ত রয়েছে। তবে সম্প্রদায়ের শীর্ষস্থানীয় নেতারা দীর্ঘকাল ধরেই এই পরিচিতি থেকে নিজেদের মুক্ত করার দাবি জানিয়ে আসছেন। ‘পুথিয়া তামিলগাম’-এর প্রতিষ্ঠাতা কে. কৃষ্ণস্বামীর বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁদের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা হলো প্রথমে তফসিলি জাতি তালিকা থেকে নিজেদের নাম কাটিয়ে অন্যান্য পিছিয়ে পড়া জাতি (ওবিসি) তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা এবং পরবর্তীতে ধীরে ধীরে সাধারণ বা জেনারেল তালিকার মর্যাদায় উন্নীত হওয়া। নেতাদের জোরালো যুক্তি হলো, দশকের পর দশক ধরে সংরক্ষণ ব্যবস্থার সুবিধা ভোগ করা সত্ত্বেও এই সম্প্রদায় আজও সামাজিক স্তরে বৈষম্য ও পরিচিতি সংকটের মতো অভিশাপ থেকে মুক্তি পায়নি।

সংরক্ষণকে যেখানে সাধারণত আর্থ-সামাজিক প্রতিকূলতা কাটিয়ে ওঠার প্রধান হাতিয়ার হিসেবে দেখা হয়, সেখানে এই সম্প্রদায়ের এমন উল্টো অবস্থান গোটা দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তেনকাসি জেলার বিজেপি সভাপতি অনন্তন আয়াসামি অবশ্য এসসি/এসটি আইনের অপব্যবহার বা প্রয়োগ নিয়ে কিছুটা ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, ডিকেভি সম্প্রদায় এই নির্দিষ্ট আইনের অধীনে মামলা বা আইনি পদক্ষেপ না নেওয়ার একটি নিজস্ব নীতি গ্রহণ করেছে। তবে এই বিশেষ অবস্থান কি গোটা সম্প্রদায়ের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নাকি এর পেছনে অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য রয়েছে, তা নিয়ে এখনও জল্পনা চলছে। আত্মসম্মান এবং স্বতন্ত্র সামাজিক মর্যাদাকে অর্থনৈতিক সুবিধার চেয়েও অনেক বেশি গুরুত্ব দিয়ে এই সম্প্রদায় যে পথ বেছে নিয়েছে, তা সমগ্র সংরক্ষণ বিতর্কে এক ঐতিহাসিক মোড় এনে দিয়েছে।