বিশাল ক্যাশ বার্ন আর রকেট গতিতে ছুটছে ইভিওটিএল (eVTOL) রেস! Joby বনাম Archer-এর লড়াইয়ে কে জিতবে?

ইলেকট্রিক এয়ার ট্যাক্সি (Electric Air Taxi) বা ভবিষ্যৎ উড়ন্ত যানের বাজারে আধিপত্য বিস্তার করতে লড়ে চলেছে দুই প্রধান প্রতিযোগী— আর্চার এভিয়েশন (Archer Aviation / ACHR) এবং জবি এভিয়েশন (Joby Aviation / JOBY)। সম্প্রতি এই দুই কোম্পানিই তাদের ২০২৬ সালের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকের (Q2) আর্থিক ফলাফল প্রকাশ করেছে। তবে তাদের এই রিপোর্ট থেকে স্পষ্ট যে, লাভজনক হয়ে ওঠার এই দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল পথে দুই সংস্থা সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটি স্ট্র্যাটেজি বা কৌশল বেছে নিয়েছে।

দুই কোম্পানির দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকের (Q2 2026) পরিসংখ্যান:

মেট্রিক বা সূচকআর্চার এভিয়েশন (ACHR)জবি এভিয়েশন (JOBY)
রাজস্ব (Revenue)৫.০ মিলিয়ন ডলার৩৮.৬ মিলিয়ন ডলার
অপারেটিং খরচ (Operating Expenses)২৮৪.২ মিলিয়ন ডলার২৯৯.৫ মিলিয়ন ডলার
নগদ অর্থ ও বিনিয়োগ (Cash & Investments)প্রায় ১.৫৬ বিলিয়ন ডলারপ্রায় ২.৩ বিলিয়ন ডলার
নিট ক্ষতি (Net Loss)২৬৩.২ মিলিয়ন ডলার২৪৫.৪ মিলিয়ন ডলার

জবির হাতিয়ার: রেভিনিউ লিড এবং ব্লেড বিজনেস

আর্থিক ফলাফলের দিক থেকে জবি এভিয়েশন এই মুহূর্তে কিছুটা এগিয়ে রয়েছে। তাদের Q2 রাজস্ব বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৮.৬ মিলিয়ন ডলারে, যা আগের ত্রৈমাসিকের তুলনায় ১৪ মিলিয়ন ডলার বেশি। কোম্পানিটি তাদের ২০২৬ সালের পুরো বছরের রাজস্ব পূর্বাভাস বাড়িয়ে ১১৫ মিলিয়ন থেকে ১২৫ মিলিয়ন ডলার করেছে।

এই সাফল্যের পেছনে বড় ভূমিকা পালন করেছে তাদের ‘ব্লেড’ (Blade) হেলিকপ্টার ব্যবসা, যা একাগ্রভাবে ৩৬.২ মিলিয়ন ডলার রাজস্ব এনে দিয়েছে। তবে এর পাশাপাশি জবির খরচও কম নয়, এই ত্রৈমাসিকে তাদের নিট লোকসানের পরিমাণ ২৪৫.৪ মিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে, আগামী মাসেই টেক্সাসের ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ এলাকায় প্রথম বৈদ্যুতিক এয়ার ট্যাক্সি পাইলট ফ্লাইট শুরু করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন জবির সিইও জোবেন বেভার্ট (JoeBen Bevirt)।

আর্চারের নতুন চাল: বোয়িং (Boeing) চুক্তি ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্র

তুলনামূলকভাবে আর্চার এভিয়েশনের রাজস্ব কম (৫ মিলিয়ন ডলার) হলেও, তারা একটি অত্যন্ত দূরদর্শী ও বড় পদক্ষেপ নিয়েছে। বোয়িং (Boeing)-এর মালিকানাধীন তিনটি মহাকাশ ও প্রতিরক্ষা ব্যবসা অধিগ্রহণের জন্য একটি বড় চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে আর্চার। এর মাধ্যমে তারা কেবল এয়ার ট্যাক্সির গণ্ডি পেরিয়ে প্রতিরক্ষা, ড্রোন এবং স্বয়ংক্রিয় উড্ডয়ন বা অটোনমাস ফ্লাইট প্রযুক্তির দুনিয়ায় প্রবেশ করছে।

এই চুক্তির ফলে আর্চার যে সমস্ত কোম্পানিগুলির প্রযুক্তি ও রিয়েল-ওয়ার্ল্ড ডাটা পাচ্ছে সেগুলি হলো:

  • Wisk Aero: যারা ইভিওটিএল (eVTOL) বিমান তৈরিতে যুক্ত।

  • SkyGrid: যা স্বয়ংক্রিয় বিমান নিরাপদে পরিচালনার প্রযুক্তি তৈরি করে।

  • Insitu: যারা প্রধানত নজরদারি এবং প্রতিরক্ষার জন্য মানবহীন ড্রোন তৈরি করে।

এই ব্যবসাগুলির প্রায় ২ মিলিয়ন ফ্লাইট আওয়ারের অভিজ্ঞতা আর্চারের ZEE AI প্ল্যাটফর্মকে আরও শক্তিশালী করবে, যা উড়ানের সুরক্ষা এবং দক্ষতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে।

সার্টিফিকেশন এবং বাণিজ্যিক লড়াই:

উভয় সংস্থাই এখনও পুরোপুরি লাভজনক হয়ে উঠতে পারেনি এবং তাদের মূল বাণিজ্যিক যাত্রার জন্য এফএএ (FAA)-এর চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষা রয়েছে।

  • আর্চারের ‘মিডনাইট’ (Midnight): সম্প্রতি ক্যালিফোর্নিয়ার সালিনাস এবং মনটেরির মধ্যে পাইলট-চালিত রাউন্ড ট্রিপ সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। এটি FAA-এর ৪-ধাপের সার্টিফিকেশন প্রক্রিয়ার ৩ নম্বর ধাপে রয়েছে।

  • জবির ‘এস৪’ (S4): বর্তমানে তাদের ৫টি বিমান উড়ছে এবং ১২টি উৎপাদনের পর্যায়ে রয়েছে। টোয়ারোটার (Toyota) সঙ্গে নতুন অংশীদারিত্ব তাদের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করছে।

শেয়ার বাজারে খুচরা বিনিয়োগকারীদের (Retail Investors) মধ্যে বর্তমানে আর্চারের প্রতি আগ্রহ কিছুটা বেশি দেখা গেলেও, দুই ভিন্ন ব্যবসায়িক মডেলের এই লড়াই এখন কোন দিকে মোড় নেয় সেটাই দেখার বিষয়!