কয়লা কেলেঙ্কারি থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত ড. মনমোহন সিং! সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরেই সরব সনিয়া গান্ধী, মোদীকে চরম আক্রমণ

কয়লা ব্লক বরাদ্দ (Coal Block Allocation) মামলা থেকে প্রয়াত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিংকে সুপ্রিম কোর্টের সম্পূর্ণ অব্যাহতি দেওয়ার পর থেকেই নতুন করে রাজনৈতিক চর্চা শুরু হয়েছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে মনমোহন সিংয়ের প্রয়াণের পর, চলতি বছরের ২৯ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের এই রায় তাঁর সততা ও রাজনৈতিক উত্তরাধিকারকে নতুন মাত্রা দিল। এই রায়ের পর কংগ্রেস শিবির মনে করছে তাঁদের নেতার সততা অবশেষে প্রমাণিত হয়েছে এবং সত্যের জয় হয়েছে।

কংগ্রেস সংসদীয় দলের নেত্রী সনিয়া গান্ধী সম্প্রতি ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ পত্রিকায় প্রকাশিত একটি নিবন্ধে মনমোহন সিংয়ের প্রশংসা করে জানান যে, ২০১৪ সালের জানুয়ারি মাসে নিজের শেষ প্রেস কনফারেন্সে মনমোহন সিং যে ভবিষ্যৎবাণী করেছিলেন যে “ইতিহাস তাঁর প্রতি সমকালীন মিডিয়া ও রাজনীতির চেয়ে অনেক বেশি সদয় হবে”, আজ তা অক্ষরে অক্ষরে সত্যি প্রমাণিত হয়েছে।

সনিয়া গান্ধীর নিবন্ধে উঠে এল যেসব বিশেষ দিক:
‘উইচ-হান্ট’ বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আক্রমণ: সনিয়া গান্ধী অভিযোগ করেন, মনমোহন সিংকে একটি সুসংগঠিত চক্রান্তের মাধ্যমে হেনস্থা করা হয়েছিল। bureaucracy, media, judiciary থেকে শুরু করে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি—সবাই মিলে তাঁর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চালিয়েছিল। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের রায় সেই সমস্ত মিথ্যা অভিযোগের অবসান ঘটাল।

নরেন্দ্র মোদী সরকারকে কড়া সমালোচনা: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ২০১৭ সালের রাজ্যসভার সেই বিতর্কিত মন্তব্য—যে মনমোহন সিং “রেইনকোট পরে স্নান করতে জানতেন”—তার তীব্র সমালোচনা করেন সনিয়া। তিনি বলেন, এই ধরণের ব্যক্তিগত আক্রমণ সংসদীয় গণতন্ত্রের অন্যতম অন্ধকার অধ্যায় ছিল।

অতুলনীয় সুশাসন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি: মনমোহন সিংয়ের আমলের অর্থনৈতিক অগ্রগতি, জিডিপি বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের ভোগ ও বেসরকারি বিনিয়োগের নজিরবিহীন উন্নতির কথা তুলে ধরেন সনিয়া গান্ধী। পাশাপাশি তাঁর আমলেই চালু হওয়া MGNREGA, শিক্ষার অধিকার আইন (RTE), জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইন (NFSA) এবং ঐতিহাসিক ইন্দো-ইউএস নিউক্লিয়ার ডিল (Indo-US Nuclear Deal)-এর মতো যুগান্তকারী সিদ্ধান্তগুলির প্রশংসা করেন।

গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা: মনমোহন সিং নিজের আমলে গণমাধ্যমকে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছিলেন এবং ১০০টিরও বেশি প্রেস কনফারেন্স করে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হতেন। এছাড়া নাগরিক সমাজ ও ছাত্র আন্দোলনের প্রতি তাঁর সরকারের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ছিল প্রশংসনীয়।

সনিয়া গান্ধী গভীর আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, ড. মনমোহন সিং আজ এই ঐতিহাসিক রায় দেখার জন্য বেঁচে নেই, তবে তাঁর সততা ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি চিরকাল দেশের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।