সন্তান উৎপাদনের যন্ত্র নন নারীরা! তিন-সন্তান নীতি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তার বিস্ফোরক মন্তব্যে তোলপাড়!

দিল্লি বিধানসভায় দাঁড়িয়ে বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে মহিলাদের অধিকার, স্বাস্থ্য এবং কল্যাণমূলক প্রকল্প নিয়ে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও যুগান্তকারী মন্তব্য করলেন মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা। বিশেষ করে বহুল আলোচিত ‘লক্ষ্মী যোজনা’ এবং প্রস্তাবিত তিন-সন্তান নীতির সপক্ষে জোরালো যুক্তি দিয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, নারীরা কখনোই কেবল সন্তান জন্ম দেওয়ার কোনো যন্ত্র বা মাধ্যম নন। একজন নারীর সামগ্রিক শারীরিক সুস্থতা এবং সুস্বাস্থ্যই যে বর্তমান সরকারের প্রধান ও সর্বাগ্রে অগ্রাধিকার হওয়া উচিত, সেকথাও তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় পুনর্ব্যক্ত করেছেন। বিধানসভার ফ্লোরে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত জোরালোভাবে বলেন যে, বারবার বা অবিরাম গর্ভধারণের ফলে যেকোনো নারীর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর অত্যন্ত মারাত্মক ও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে যুক্তি দেন যে, এই তিন-সন্তান নীতির মূল উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য ছিল মূলত নারীদের সুরক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কোনো বিশেষ সম্প্রদায় বা গোষ্ঠীর প্রতি কোনো ধরনের বৈষম্যমূলক আচরণ করা একেবারেই নয়।
মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা তাঁর বক্তব্যে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে প্রশ্ন তোলেন এবং জানান যে, ভারতীয় জনতা পার্টি সরকার কখনই এই পুরনো ও পশ্চাৎপদ ধারণাকে সমর্থন করে না যে পুত্রসন্তানের তীব্র আশায় নারীদের একের পর এক সন্তান জন্ম দিতে বাধ্য করা হবে। তাঁর সাফ কথা, এই বিশেষ শর্ত বা বিধান ধর্ম, জাতি কিংবা কোনো নির্দিষ্ট সামাজিক প্রেক্ষাপট নির্বিশেষে দেশের বা রাজ্যের সমস্ত নারীর ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ সমানভাবে প্রযোজ্য হওয়া উচিত। তিনি আরও জোরালো দাবি করেন যে, খোদ নারীরাই এমন একটি ভারসাম্যপূর্ণ বিধানের পক্ষে মত দিয়েছিলেন, যাতে তাঁরা এই জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের আর্থিক সুবিধাগুলো গ্রহণ করার পাশাপাশি নিজেদের অমূল্য স্বাস্থ্যের যত্ন ও ভারসাম্য টিকিয়ে রাখতে পারেন। বিরোধী দলের সমালোচনা করে তিনি বলেন যে আত্মস্বীকৃত নারী অধিকার কর্মীরা বিধানসভায় এই নিয়ে আলোচনার সময় সরকারের যুক্তি শোনার সৎসাহস দেখাতে পারেননি, তাই তাঁরা কাপুরুষের মতো ওয়াকআউট করেছেন।
মহিলাদের আর্থিক স্বাবলম্বী করে তুলতে সরকার এই বিশেষ লক্ষ্মী যোজনার জন্য এক বিশাল অংকের অর্থাৎ মোট ৫,১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে বলে মুখ্যমন্ত্রী আনন্দের সঙ্গে ঘোষণা করেন। এই প্রকল্পের মাধ্যমে সরকারের প্রাথমিক লক্ষ্য হলো প্রথম তিন বছরের মধ্যে দিল্লির প্রায় ১৭ লক্ষ গরিব ও মধ্যবিত্ত মহিলাকে এর আওতায় এনে সরাসরি আর্থিক সুবিধা প্রদান করা। এই আর্থিক সহায়তা প্রদানের সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি ব্যাখ্যা করে মুখ্যমন্ত্রী জানান যে, প্রতি মাসে নির্ধারিত অর্থের ১,০০০ টাকা সরাসরি সুবিধাভোগী মহিলাদের ডিজিটাল ওয়ালেটে ট্রান্সফার করা হবে এবং বাকি ১,৫০০ টাকা তাঁদের নামে নিরাপদ ফিক্সড ডিপোজিট (FD) কিংবা রিকারিং ডিপোজিট (RD)-এ দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয় হিসেবে জমা হবে। সরকারের এই সুচিন্তিত আর্থিক নীতির মূল উদ্দেশ্য হলো যাতে মহিলারা একাধਾਰে তাঁদের দৈনন্দিন ও সংসারের জরুরি খরচ সামলানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্য মোটা অংকের টাকা সঞ্চয় করতে পারেন।
পিঙ্ক কার্ডের সুবিধা কেবল দিল্লির স্থানীয় মহিলাদের জন্যই প্রযোজ্য কিনা, এই বিষয়ে ওঠা বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা অত্যন্ত তীক্ষ্ণ আক্রমণ শানিয়ে বলেন যে, পূর্ববর্তী সরকারের বহু সদস্য দিল্লিতে বসবাস করলেও তারা কেবল দেশব্যাপী সংকীর্ণ রাজনীতি নিয়েই ব্যস্ত থাকতেন। কিন্তু বর্তমান সরকার সাধারণ মানুষের উন্নয়নের কথা ভেবে সেই ভুল পথে হাঁটে না। তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন যে, দিল্লির উপার্জিত অর্থ ও ট্যাক্সের টাকা শুধুমাত্র দিল্লির উন্নয়নের জন্যই খরচ হওয়া উচিত এবং এর সুফল একমাত্র রাজধানীর স্থানীয় বাসিন্দারাই ভোগ করবেন। এ ছাড়াও ছাত্রীদের জন্য প্রস্তাবিত ‘বিদ্যা বাহিনী’ সাইকেল প্রকল্প নিয়ে বিরোধী দলের অবমূল্যায়নকারী ও নেতিবাচক মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ করে তিনি বলেন যে এই ধরনের সুবিধাবাদী রাজনীতিবিদরা কখনও মেয়েদের আসল শিক্ষা, উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ বা মৌলিক প্রয়োজনের কথা চিন্তা করেন না, তাঁরা কেবল আসন্ন নির্বাচনী ফায়দা দেখতে পান। এই প্রকল্পের একমাত্র প্রধান উদ্দেশ্য হলো রাজধানীর স্কুলগামী ছাত্রীদের সহজে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করা নিশ্চিত করা, পড়াশোনা নিরবচ্ছিন্ন রাখা এবং স্কুল থেকে ঝরে পড়ার হার শূন্যে নামিয়ে আনা।