কম জমিতে লাখ টাকার বাম্পার ফলন! ঝাড়খণ্ডের এই কৃষকের জাদুকরী চাষ পদ্ধতি দেখে চোখ কপালে উঠবে!

সঠিক চাষাবাদ পদ্ধতি এবং সঠিক সময়োপযোগী ফসল নির্বাচনের মাধ্যমে যে খুব কম জমিতেও অভাবনীয় আয় করা সম্ভব, তা আবারও প্রমাণ করে দেখালেন ঝাড়খণ্ডের বোকামো জেলার চাস ব্লকের কাশিঝারিয়া গ্রামের প্রগতিশীল কৃষক সমাধি গোপ। তিনি মাত্র ৫০ শতাংশ জমিতে আধুনিক স্ক্যাফোল্ডিং বা মাচা পদ্ধতিতে নেনুয়া চাষ করে এক অনন্য ও লাভজনক মডেল তৈরি করেছেন। তাঁর এই সফল ও আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি দেখে বর্তমানে আশেপাশের বহু কৃষকই সনাতন বা প্রচলিত কৃষিকাজের ধারণা থেকে বেরিয়ে এসে লাভজনক সবজি চাষের প্রতি তীব্রভাবে উৎসাহিত হচ্ছেন।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে কৃষক সমাধি গোপ জানান যে তিনি অত্যন্ত গরিব ও সম্ভ্রান্ত এক কৃষক পরিবার থেকে উঠে এসেছেন। তাঁর পূর্বপুরুষেরা বহু দশক ধরে কৃষিকাজের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত ছিলেন। কৃষির সঙ্গে এই নাড়ির টান এবং পারিবারিক ঐতিহ্যই তাঁকে এই পেশাকে নিজের জীবিকা ও নেশা হিসেবে বেছে নিতে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি কেবল গতানুগতিক চাষাবাদের ওপর নির্ভর না করে আধুনিক কৃষি কৌশল এবং লাভজনক সবজি চাষ শুরু করেন, যা শুধু তাঁর পরিবারের দৈনন্দিন পুষ্টির চাহিদাই মেটাচ্ছে না, বরং তাঁকে আর্থিকভাবে সচ্ছল করে তুলতে অতিরিক্ত আয়ও এনে দিচ্ছে।
চাষের পদ্ধতি ও সময়কাল সম্পর্কে বলতে গিয়ে সমাধি গোপ জানান যে তিনি গত জুন মাসে ৫০ শতাংশ জমিতে নেনুয়া বীজ বপন করেছিলেন। নেনুয়া হলো এমন একটি লাভজনক ফসল যা সাধারণত মাত্র ৩৫ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে পেকে খাওয়ার বা বিক্রির উপযোগী হয়ে ওঠে। এরপর একটানা ফসল কাটা শুরু হয় এবং প্রায় তিন মাস ধরে সমানভাবে ফলন পাওয়া যায়। তিনি অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে জানান যে, উন্নত মানের বীজ ক্রয়, মাচা তৈরি, নিয়মিত সেচ প্রদান এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচসহ ৫০ শতাংশ জমিতে এই নেনুয়া চাষ করতে তাঁর মোট আনুমানিক ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।
লাভের অঙ্ক সম্পর্কে জানাতে গিয়ে তিনি বলেন যে, আবহাওয়া পুরোপুরি অনুকূল থাকলে এই ৫০ শতাংশ জমি থেকে পুরো মৌসুমে প্রায় ৪৫ কুইন্টাল বা তার থেকেও বেশি নেনুয়া উৎপাদন করা সম্পূর্ণ সম্ভব। বর্তমান সময়ে স্থানীয় বা পাইকারি বাজারে নেনুয়া প্রতি কেজি প্রায় ২৫ থেকে ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। যদি গড়ে ৪৫ কুইন্টাল অর্থাৎ ৪,৫০০ কেজি নেনুয়া প্রতি কেজি গড়ে ২৫ টাকা দরেও বাজারে বিক্রি করা যায়, তবে মোট প্রায় ১ লক্ষ ১২ হাজার ৫০০ টাকা আয় হওয়া সম্ভব। চাষের যাবতীয় খরচ বাবদ প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা বাদ দিলেও কৃষকের নিট লাভ বা সাশ্রয় প্রায় ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
পরিশেষে সফল এই কৃষক অন্যান্য চাষিদের পরামর্শ দিয়ে বলেন যে, বর্ষার মরশুমে নেনুয়া ফসলে অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে নানা ধরনের পোকামাকড় ও ছত্রাকজনিত রোগের প্রকোপ মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে। বিশেষ করে পাতাবাহিত ক্ষতিকারক পোকা গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক উৎপাদনকে দারুণভাবে ব্যাহত করতে পারে। তাই সমস্ত কৃষকদের উচিত নিয়মিতভাবে নিজেদের জমি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা এবং স্থানীয় কৃষি বিশেষজ্ঞদের সঠিক পরামর্শ অনুযায়ী ফসল রক্ষা ও আশানুরূপ ভালো ফলন লাভের জন্য সময়মতো উপযুক্ত কীটনাশক বা নিরাপদ জৈবিক পদ্ধতি অবলম্বন করা।