শশুরমশাইয়ের জুতোয় পা গলাচ্ছেন জামাই অক্ষয়! আর ডি বর্মনের বায়োপিকে কোন আইকনিক চরিত্রে দেখা যাবে খিলাড়িকে?

বলিউডের চলচ্চিত্র দুনিয়ায় পরিচালক নীরজ পাণ্ডে এবং সুপারস্টার অক্ষয় কুমারের জুটি মানেই বক্স অফিসে এক অন্যরকম ম্যাজিক। এই সপ্তাহে ইন্ডাস্ট্রির অন্দরমহল থেকে যে খবরটি সামনে এসেছে, তাতে উচ্ছ্বসিত অনুরাগীরা। কিংবদন্তি সুরকার ও সংগীত পরিচালক রাহুল দেব বর্মন বা পঞ্চমদার বায়োপিক ছবির হাত ধরে ফের একবার জুটি বাঁধছেন নীরজ ও অক্ষয়। এই বহু প্রতীক্ষিত ছবিটিতে সুরকারের কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করছেন বহুমুখী প্রতিভাবান অভিনেতা ফারহান আখতার। তবে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো, এই বায়োপিকে খোদ সুপারস্টার রাজেশ খান্নার অবিস্মরণীয় চরিত্রে অভিনয় করতে চলেছেন খিলাড়ি খ্যাত অক্ষয় কুমার! ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে পঞ্চমদা এবং কাকা রাজেশ খান্নার পেশাগত ও ব্যক্তিগত সমীকরণ ছিল রূপকথার মতো। বড়পর্দায় সেই স্বর্ণযুগের সোনালী রসায়নই এবার পুনরুজ্জীবিত করতে চলেছেন নির্মাতারা। নিজের প্রয়াত শ্বশুরমশাই তথা বলিউডের প্রথম সুপারস্টার রাজেশ খান্নার আইকনিক চরিত্রটি রূপালী পর্দায় ফুটিয়ে তুলতে পেরে অত্যন্ত উচ্ছ্বসিত অক্ষয় কুমার। তিনি নিজে সর্বদাই রাজেশ খান্নার অন্ধ ভক্ত এবং প্রয়াত এই কিংবদন্তির প্রতি তাঁর অগাধ শ্রদ্ধা রয়েছে। বিশ্বস্ত সূত্রের খবর, আগামী অক্টোবর ২০২৬-এ ফ্লোরে যাওয়ার জন্য নির্ধারিত এই বিশেষ ছবিটির শুটিংয়ের জন্য অক্ষয় মাত্র ১০ দিনের একটি কমপ্যাক্ট শিডিউল বরাদ্দ করেছেন।
অন্যদিকে, বলিউডের পর্দায় আন্ডারওয়ার্ল্ড এবং গ্যাংস্টার ড্রামার কথা উঠলে সবার আগে যে নাম উঠে আসে, তিনি হলেন স্বনামধন্য পরিচালক রাম গোপাল বর্মা। ‘সত্যা’, ‘কোম্পানি’ বা ‘সরকার’-এর মতো কালজয়ী ক্রাইম থ্রিলার উপহার দেওয়ার পর এবার আরও এক ধামাকাদার ও রোমহর্ষক প্রজেক্ট নিয়ে হাজির হচ্ছেন তিনি। ভূষণ কুমারের টি-সিরিজের প্রযোজনায় রামু তাঁর পরবর্তী ছবি ‘পুলিশ কোম্পানি’-র অফিসিয়াল ঘোষণা করেছেন। এই নতুন ছবির ঘোষণা করতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র শোরগোল ও উন্মাদনা শুরু হয়ে গেছে। বিগত শতকের নব্বইয়ের দশকের শেষের দিক এবং দুই হাজারের দশকের শুরুতে মুম্বই শহরে অপরাধ জগতের রমরমা অপরাধ সাম্রাজ্য রুখতে যে বিশেষ পুলিশ স্কোয়াড বা এনকাউন্টার স্কোয়াড তৈরি হয়েছিল, এই ছবির মূল চিত্রনাট্য মূলত তাদেরই রোমহর্ষক ও বাস্তব জীবনের কর্মকাণ্ড থেকে অনুপ্রাণিত। নিজের ভেরিফাইড এক্স হ্যান্ডেলে ছবিটির ঘোষণা করে রাম গোপাল ভার্মা দর্শকদের উত্তেজনার পারদ আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন।
বর্তমান ডিজিটাল যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং ডিপফেক প্রযুক্তির অপব্যবহার যে কতটা ভয়ঙ্কর পর্যায়ে পৌঁছেছে, তার আরও একটি নির্মম প্রমাণ সম্প্রতি সামনে এসেছে। তবে এর বিরুদ্ধে আদালতের রায় এক যুগান্তকারী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তারকাদের নাম, ছবি, কণ্ঠস্বর কিংবা ব্যক্তিগত পরিচয়কে অননুমোদিতভাবে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার এবং এআই-এর কারসাজিতে অশ্লীল কনটেন্ট ছড়ানোর প্রবণতা রোধে অত্যন্ত কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে আদালত। বিশিষ্ট বলিউড অভিনেত্রী টাবুর ব্যক্তিত্ব, গোপনীয়তা এবং প্রচারের অধিকার সুরক্ষায় একটি ঐতিহাসিক ও ইতিবাচক রায় দিয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট। আদালতের বিচারক জ্যোতি সিংয়ের একক বেঞ্চ অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে যে, কোনো সেলিব্রিটির খ্যাতির অপব্যবহার বা তাদের মানহানি করার ন্যূনতম অধিকার কারও নেই। আইনি লড়াইয়ে টাবুর আইনজীবী প্যানেল আদালতকে জানান যে, অভিনেত্রীর নাম, ছবি ও খ্যাতির অপব্যবহার করে সোশ্যাল মিডিয়ায় একাধিক ভুয়া অ্যাকাউন্ট ও পেজ চালানো হচ্ছিল। এমনকি তাঁর অনুমতি ছাড়াই বিভিন্ন ইভেন্ট বুকিংয়ের ফেক পেজ খোলা, তাঁর ছবি ব্যবহার করে অননুমোদিত কমার্শিয়াল পণ্য বিক্রি এবং বিভ্রান্তিকর বিবৃতি প্রচার করা হচ্ছিল। এর পাশাপাশি সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় ছিল, তাঁর সিনেমা, সাক্ষাৎকার বা বিভিন্ন পাবলিক অ্যাপিয়ারেন্সের ভিডিও ক্লিপগুলো এআই এবং ডিপফেক প্রযুক্তির অপব্যবহার করে কারসাজি করা হচ্ছিল এবং অশ্লীল ছবি-ভিডিও বানিয়ে অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছিল। কিছু অসাধু ও অপরাধী চক্র ফায়দা লোটার উদ্দেশ্যে এই জঘন্য কাণ্ড ঘটাচ্ছিল, যা অভিনেত্রীর সম্মান ও মর্যাদার ওপর সরাসরি আঘাত হানে। দিল্লি হাইকোর্টের এই কঠোর নির্দেশিকা আগামী দিনে সেলিব্রিটিদের ডিজিটাল সুরক্ষা সুনিশ্চিত করতে এক বিশাল হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে।