আগামী মাসেই পকেটে বড় টান! হু হু করে বাড়তে চলেছে তেল-সাবান থেকে শুরু করে চাল-ডালের খরচ!

সামনেই ফের পকেটে টান পড়তে চলেছে সাধারণ মধ্যবিত্ত মানুষের। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ার অজুহাতে আগামী মাস অর্থাৎ সেপ্টেম্বর ত্রৈমাসিকেই ফের একবার মাসকাবারি কেনাকাটায় বড়সড় খরচ বাড়াতে চলেছে দেশের নামী ও শীর্ষস্থানীয় FMCG কোম্পানিগুলি। বিশিষ্ট সংবাদ সংস্থা পিটিআই-এর প্রকাশিত সাম্প্রতিক এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। যার সোজা অর্থ হলো, মুদিখানার জিনিসপত্র থেকে শুরু করে সাবান, শ্যাম্পু এবং প্রাত্যহিক ব্যবহারের প্রসাধন সামগ্রী কেনার জন্য ক্রেতাদের আগামী দিনে আরও বেশি অর্থ ব্যয় করতে হবে। পরিসংখ্যান বলছে, এর আগে চলতি বছরের জুন ত্রৈমাসিকেই দেশের এই বিখ্যাত কোম্পানিগুলি তাদের রোজকার ব্যবহৃত জিনিসের দাম ২ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছিল। কিন্তু তাতেও তাদের মুনাফার খাতা ভরেনি, আর সেই কারণেই এবার ফের সেপ্টেম্বর কোয়ার্টারে দাম বাড়ানোর এই নতুন ফন্দি আঁটছে হিন্দুস্থান ইউনিলিভার (HUL), ব্রিটানিয়া এবং টাটা কনজুমার প্রোডাক্টসের মতো মহারথী সংস্থাগুলি।
তবে সরাসরি পণ্যের দাম না বাড়িয়ে ক্রেতাদের পকেট কাটার জন্য কোম্পানিগুলো এবার এক অদ্ভুত ও সূক্ষ্ম কৌশল বেছে নিয়েছে, যাকে অর্থনৈতিক পরিভাষায় ‘শ্রিঙ্কফ্লেশন’ (Shrinkflation) বলা হচ্ছে। বাজার সূত্রে খবর, কিছু প্রভাবশালী কোম্পানি সরাসরি জিনিসপত্রের গায়ে দাম না বাড়িয়ে প্যাকেটের ভেতর পণ্যের পরিমাণ বা ওজন কমিয়ে দেওয়ার পথ বেছে নিচ্ছে। এর ফলে সাধারণ ক্রেতারা দোকানে গিয়ে আগের মতো নির্দিষ্ট ৫ বা ১০ টাকার কয়েন দিয়ে একই দামের প্যাকেট কিনলেও, আদতে তাঁরা আগের তুলনায় অনেকটাই কম পরিমাণে পণ্য হাতে পাবেন। প্যাকেটজাত সামগ্রী কেনার সময় আমরা ক্রেতারা সাধারণত মূল দামের দিকেই বেশি নজর দিই, ফলে ওজনে সামান্য এই হেরফের বা কারচুপি আমাদের চট করে চোখে পড়ে না। যেমন ধরুন, চিনি এবং পাম অয়েলের কাঁচামালের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের অন্যতম প্রধান খাদ্যপণ্য প্রস্তুতকারক সংস্থা ব্রিটানিয়া প্রায় ১.৫ থেকে ২ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধির পথে হাঁটতে চলেছে। পিটিআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ব্রিটানিয়ার ম্যানেজিং ডিরেক্টর তথা সিইও রক্ষিত হারগাভে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, সব মিলিয়ে দামে ১ শতাংশের তারতম্য ঘটবে এবং আগামী কোয়ার্টারেই ক্রেতারা এই শ্রিঙ্কফ্লেশনের কোলের মধ্যে পড়বেন।
ব্রিটানিয়ার কর্ণধার আরও জোরালোভাবে বলেন যে, বর্তমানে বাজারে ক্রেতাদের সামগ্রিক চাহিদা যথেষ্ট অক্ষুন্ন রয়েছে, কিন্তু কোম্পানিকে টিকিয়ে রাখতে এবং প্রফিট মার্জিন বজায় রাখতে তাঁদের এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতেই হচ্ছে। সেই কারণেই সরাসরি দাম না বাড়িয়ে প্যাকেট ছোট করার বা ওজনে কারচুপি করার পথ বেছে নিয়েছে তারা। ঠিক একই পথে হাঁটছে দেশের অন্যতম বৃহৎ ভোগ্যপণ্য প্রস্তুতকারক সংস্থা হিন্দুস্থান ইউনিলিভার বা HUL। সংস্থার প্রধান মীরা নায়ার সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, সেপ্টেম্বর কোয়ার্টারে তাদের বিভিন্ন প্রাত্যহিক পণ্যের দাম সরাসরি ২ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে। এর আগে জুন ত্রৈমাসিকেও তারা ঠিক একই রকমভাবে পণ্যের দাম বাড়িয়েছিল। মূলত, বিস্কুট, প্যাকেটজাত খাদ্যপণ্য, স্নান ও কাপড় কাচার সাবান এবং চুলের শ্যাম্পুর মতো অতি প্রয়োজনীয় জিনিসগুলির দাম এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মাসিক বাজেট যে মারাত্মকভাবে ভেস্তে যেতে বসেছে, তা বলাই বাহুল্য।