স্বাধীনতা দিবসের আগেই জাতীয় পতাকা নিয়ে কড়া নির্দেশ মোদী সরকারের! মাটিতে ফেলে দিলেই বড় পদক্ষেপ

জাতীয় পতাকার সম্মান ও মর্যাদা যাতে কোনওভাবেই ক্ষুণ্ন না হয়, তা নিশ্চিত করতে স্বাধীনতা দিবসের ঠিক প্রাক্কালে একাধিক কঠোর পদক্ষেপ করল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। সুনির্দিষ্ট নির্দেশিকা জারি করে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, দেশের যে কোনো সরকারি বা বেসরকারি অনুষ্ঠানের পর কাগজের তৈরি জাতীয় পতাকা কখনোই মাটিতে ফেলে রাখা যাবে না। এ প্রসঙ্গে জাতীয় পতাকা সংক্রান্ত প্রচলিত নিয়মাবলি বা ফ্ল্যাগ কোড কঠোরভাবে বলবৎ করার জন্য দেশের সমস্ত রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে বিশেষ নির্দেশ দিয়েছে অমিত শাহের মন্ত্রক।
সোমবার সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মুখ্যসচিবদের কাছে পাঠানো একটি উচ্চপর্যায়ের লিখিত নির্দেশিকায় মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, অতীতে বিভিন্ন সময় এমন অনেক দৃশ্য প্রকাশ্যে এসেছে যেখানে দেখা গেছে নানা অনুষ্ঠান শেষে জাতীয় পতাকা মাটিতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে কিংবা সেগুলিকে যত্রতত্র ফেলে রাখা হয়েছে। এই ধরনের ঘটনা প্রমাণ করে যে, তেরঙ্গার শ্রদ্ধা ও মর্যাদা অটুট রাখতে যে সুনির্দিষ্ট নিয়মাবলি রয়েছে, তা বহুক্ষেত্রেই যথাযথভাবে মানা হচ্ছে না। শুধু তাই নয়, এর ফলে দশকের পর দশক ধরে জাতীয় পতাকাকে সম্মান জানানোর যে সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক পরম্পরা দেশে চলে আসছে, তারও সরাসরি লঙ্ঘন ঘটছে। কেন্দ্র স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, এই ধরণের অবমাননা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।
নির্দেশিকার আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে বলা হয়েছে যে, ভারতের জাতীয় পতাকা এ দেশের কোটি কোটি মানুষের আশা ও স্বপ্ন এবং জাতীয় আকাঙ্খার এক অনন্য প্রতীক। তাই এর পবিত্রতা ও মর্যাদা সর্বদা অক্ষুণ্ণ রাখতেই হবে। বিশেষ করে ব্যক্তিগত বা বাণিজ্যিক গাড়িতে জাতীয় পতাকা ব্যবহার করার ক্ষেত্রেও কঠোর বিধিনিষেধ বলবৎ করার কথা বলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, ফ্ল্যাগ কোডের একাদশতম অধ্যায়ে যাদের নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা নেই, এমন কোনো সাধারণ গাড়িতে জাতীয় পতাকা লাগানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ওই অধ্যায়ের নিয়ম অনুযায়ী দেশের রাষ্ট্রপতি, উপ-রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং রাজ্যপালরা ছাড়া আর অন্য কোনো ব্যক্তি নিজেদের গাড়িতে জাতীয় পতাকা লাগাতে পারবেন না।
পাশাপাশি এও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, অন্য কোনো পতাকাকে কখনোই জাতীয় পতাকার থেকে উঁচুতে ওড়ানো যাবে না। জাতীয় পতাকার সঠিক ব্যবহার ও সম্মান সম্পর্কে দেশবাসীর মধ্যে ব্যাপক সচেতনতা তৈরি করতে একাধিক বিশেষ অনুষ্ঠান আয়োজনের পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমে নিয়মিত বিজ্ঞাপন প্রকাশের পরামর্শও দিয়েছে মোদি সরকার। উল্লেখ্য, গত কয়েক বছর ধরে স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে জাতীয় পতাকা এবং তার সঙ্গে জড়িত দেশপ্রেমের আবেগকে সাধারণ মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিতে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে একাধিক বিশেষ উৎসবের আয়োজন করা হয়ে থাকে। মহাসমারোহে পালিত হয় জনপ্রিয় ‘হর ঘর তিরঙ্গা যাত্রা’। এ বছর এই দেশীয় উৎসবে শামিল হয়েছে সাধারণ মানুষও।