‘আপনাকে রিল দেখতে বলা হয় আর ডেটা কেড়ে নেওয়া হয়!’ প্রয়াগরাজে যুবসমাজকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য রাহুল গান্ধীর

শিক্ষা, কর্মসংস্থান, বেকারত্ব, প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং নিয়োগে লাগাতার বিলম্বের মতো জ্বলন্ত সমস্যাগুলি নিয়ে এবার সরাসরি মোদী সরকারকে নিশানা করলেন কংগ্রেস সাংসদ তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। শনিবার উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজে পৌঁছে ‘ছত্রোঁ কি গুঞ্জ’ ও ‘স্টুডেন্টস ইকো’ (Students Eco) নামক এক বিশেষ যুব সমাবেশে অংশ নেন তিনি। সেখানে দেশের লাখ লাখ শিক্ষার্থীর সঙ্গে মতবিনিময় করার পাশাপাশি বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে একহাত নেন রাহুল।

এদিনের সমাবেশে তরুণ প্রজন্মের মেধা ও ডেটাকে পুঁজি করে বড় বড় কর্পোরেট সংস্থাগুলির মুনাফা অর্জনকে তীব্র আক্রমণ করেন রাহুল গান্ধী। তাঁর স্পষ্ট কথা, দেশের যুবসমাজকে এক দুষ্টচক্রে আটকে ফেলা হয়েছে।

ডেটা আর এআই নিয়ে বিস্ফোরক দাবি: তরুণদের উদ্দেশে রাহুল বলেন, “সবাই আজকাল এআই (AI) নিয়ে কথা বলে, কিন্তু আপনাদের ডেটা ছাড়া এআই সম্পূর্ণ অর্থহীন। আপনারা ডেটা দিয়ে এআই তৈরি করতে পারেন, কিন্তু এআই থেকে ডেটা তৈরি হয় না। ডেটা আপনার, তরুণদের সম্ভাবনাও আপনার, কিন্তু এই ব্যবস্থা যুবসমাজকে একটি দুষ্টচক্রে বন্দি করে রেখেছে।”

বর্তমান প্রজন্মের ডিজিটাল আসক্তিকে হাতিয়ার করে বড় পুঁজিপতিদের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, “প্রতি ১০০০ জন তরুণের মধ্যে মাত্র ১২ জন স্থায়ী চাকরি পান। আপনাদের ব্যক্তিগত তথ্য ছিনিয়ে নিয়ে বড় বড় কোম্পানিকে তুলে দেওয়া হয়। আপনাদের শুধু বলা হয়— যত খুশি রিল দেখুন, যত খুশি রিল তৈরি করুন। এটাই একবিংশ শতাব্দীর নেশা বা আসক্তি। মনে রাখবেন, তথ্য আপনার, কষ্ট আপনার, আর তার থেকে তৈরি হওয়া সম্পদ অন্যদের!”

দেশের তরুণ ও ডেটাই মূল শক্তি: ভারতের যুবশক্তির ভূয়সী প্রশংসা করে রাহুল গান্ধী বলেন, এই দেশে ৪০ কোটি উদ্যমী তরুণ রয়েছে, যা দেশের আসল শক্তি। আমেরিকা, চিন বা রাশিয়ার মতো দেশের কথাও টেনে তিনি বলেন, একবিংশ শতাব্দীতে ভারতের তরুণ প্রজন্মের সম্ভাবনার কাছে বাকিরা ম্লান হয়ে যায়। প্রত্যেক ভারতীয় প্রতিদিন গড়ে এক গিগাবাইট ডেটা ব্যবহার করেন, যা আগামী দিনের অর্থনীতিকে চালিত করবে। কিন্তু সরকারের ভুল নীতির কারণে সেই তারুণ্য ও সম্ভাবনা আজ প্রশ্নের মুখে।

বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে মিডিয়া এবং দেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে চিন্তাভাবনা নিয়ন্ত্রণের একটি সুপরিকল্পিত চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন রাহুল। তবে দেশের যুবসমাজ সমস্ত ভয় ও ঘৃণাকে দূরে সরিয়ে ভালোবাসার মাধ্যমেই তাদের প্রতিবাদ ও কণ্ঠস্বর তুলে ধরেছে বলে দাবি করেন তিনি। উল্লেখ্য, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়ম এবং সরকারি নিয়োগে দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে কংগ্রেস দল যে দেশজুড়ে লাগাতার লড়াই চালাচ্ছে, প্রয়াগরাজের এই সমাবেশ তারই অঙ্গ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।