চোখ কপালে তুলবে! আওয়ামি লিগকে ‘শত্রু’ নয়, ‘মিত্র’ বলে দাবি BNP সাংসদের, জল্পনা তুঙ্গে!

দিল্লিতে বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রথম প্রকাশ্য মন্তব্যের রেশ কাটতে না কাটতেই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নতুন চাঞ্চল্য। এবার ভারতের মাটিতে হাসিনার বক্তব্যের প্রভাব এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করে বসেন বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি (বিএনপি)-র এক সিনিয়র সাংসদ। তাঁর দাবি, একসময়ের প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামি লিগ তাঁদের ‘শত্রু’ নয়, বরং ‘মিত্র’। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে দুই দলের একত্রীকরণের সম্ভাবনার কথাও উড়িয়ে দেননি তিনি।

শত্রু নয়, মিত্র আওয়ামি লিগ!

প্রথম আলো-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, সুনামগঞ্জ-২ আসনের বিএনপি সাংসদ নাসির উদ্দিন চৌধুরী দেরাই পুরসভার থানাপয়েন্টে আয়োজিত একটি দলীয় সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে জানান, মুক্তিযুদ্ধের সময় বিএনপি এবং আওয়ামি লিগ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছিল। তাঁর মতে, আওয়ামি লিগ বিএনপি-র শত্রু নয়, বরং তারা মিত্র। শুধু তাই নয়, ভবিষ্যতে আওয়ামি লিগ দলগতভাবে বিএনপি-র সঙ্গে মিশে যেতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালে প্রথমবার বিএনপির টিকিটে নির্বাচিত হওয়া নেতার এই ব্যক্তিগত মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরেই রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। যদিও দলের অন্যান্য নেতার দাবি, এটি নেহাতই তাঁর ব্যক্তিগত মতামত, দলীয় অবস্থান নয়।

হাসিনার দিল্লি ইভেন্ট ও বাংলাদেশের তীব্র প্রতিক্রিয়া

গত ৫ আগস্ট দিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অফ সাউথ এশিয়া (Foreign Correspondents’ Club of South Asia)-র আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে গত দুই বছরের মধ্যে প্রথমবার প্রকাশ্যে বক্তব্য রাখেন শেখ হাসিনা। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র আন্দোলনের জেরে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ভারতে আশ্রয় নেওয়া হাসিনা ওই সম্মেলনে ঘোষণা করেন, চলতি বছরের ডিসেম্বরেই তিনি বাংলাদেশে ফিরবেন।

তবে তাঁর এই প্রত্যাবর্তন ও রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়েছে ঢাকা। হাসিনার সাংবাদিক সম্মেলনের আগে থেকেই বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রক ও তথ্য উপদেষ্টারা ভারতকে সতর্ক করেছিল। সম্মেলন শেষ হওয়ার পর বিএনপি-র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এবং প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভি একে ‘পরিকল্পিত উস্কানি’ ও শহিদদের প্রতি ‘অপমান’ বলে তোপ দাগেন। অন্যদিকে, ডিসেম্বরে হাসিনার দেশে ফেরার চ্যালেঞ্জের জবাবে বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম কড়া সুরে বলেন, “তাঁরা বলছেন ডিসেম্বর মাসে ফিরবেন, আমরা অপেক্ষা করছি। দেশে ফিরে আসুন, ইনশাল্লাহ, রাস্তায় দেখা হবে।”

ভারতের অবস্থান স্পষ্ট

অন্যদিকে, এই গোটা ঘটনায় ঢাকার অসন্তোষের মুখে পড়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে নয়াদিল্লি। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, ওই সাংবাদিক সম্মেলনটি একটি বেসরকারি সংস্থার উদ্যোগে আয়োজিত হয়েছিল এবং এর সঙ্গে ভারত সরকারের কোনও সম্পর্ক নেই। এমনকি, ঢাকার বর্তমান নির্বাচিত সরকার সম্পর্কে শেখ হাসিনা যা মন্তব্য করেছেন, তার সঙ্গেও নয়াদিল্লি একমত নয় বলে জানিয়েছে ভারত।