ক্লাসরুমে রক্তের হোলি! থাইল্যান্ডের স্কুলে ছাত্রের এলোপাথাড়ি গুলিতে নিহত ৩ শিক্ষকসহ ৬, চরম আতঙ্ক

থাইল্যান্ডের একটি স্কুল চত্বরে ভয়াবহ বন্দুকবাজের হামলার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার রাজধানী ব্যাংককের ঠিক উত্তর দিকে অবস্থিত ননথাবুরি প্রদেশের বিখ্যাত ‘ডেবসিরিন ননথাবুরি স্কুল’-এ এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসনের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, স্কুলেরই এক বিক্ষুব্ধ ছাত্রের এলোপাথাড়ি গুলিতে ঘটনাস্থলেই তিন জন ছাত্র এবং তিন জন শিক্ষক প্রাণ হারিয়েছেন। এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে আরও একাধিক ব্যক্তি গুরুতর জহম হয়েছেন, যাঁদের দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ননথাবুরি প্রাদেশিক পুলিশের লেফটেন্যান্ট কর্নেল ডেচরাপি কংডি গণমাধ্যমের কাছে হতাহতের এই ভয়ংকর চিত্রটি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হামলাকারী ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেরই একজন শিক্ষার্থী। শুক্রবার সকালে ক্লাস চলাকালীন আচমকাই সে বন্দুক নিয়ে চত্বরে প্রবেশ করে এবং নির্বিচারে গুলি চালাতে শুরু করে। বিকট শব্দে গুলির আওয়াজ শুরু হতেই পুরো স্কুলজুড়ে চরম হুলুস্থুল ও ত্রাসের সৃষ্টি হয়। প্রাণ বাঁচাতে ছোটোখাটো পড়ুয়ারা বেঞ্চের নিচে লুকিয়ে পড়েন এবং দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে ছোটাছুটি শুরু করেন। খবর পাওয়ার মাত্রই মুহূর্তের মধ্যে ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায় বিশাল পুলিশ বাহিনী, র‍্যাপিড রেসপন্স টিম এবং একাধিক অ্যাম্বুলেন্স। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে পুরো স্কুল ভবনটি ঘিরে ফেলে এবং নিরাপদে বাকি পড়ুয়াদের উদ্ধার করে বাইরে নিয়ে আসে। জেলা প্রশাসনের রেকর্ড অনুযায়ী, ২০২৫ শিক্ষাবর্ষে এই সুপ্রতিষ্ঠিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ৩,১০০ জন শিক্ষার্থী এবং ১৪৭ জন শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী যুক্ত ছিলেন। এত বড় একটি প্রতিষ্ঠানে এমন বর্বরোচিত সশস্ত্র হামলার ঘটনায় গোটা দেশজুড়ে গভীর শোক ও তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে যে, সন্দেহভাজন হামলাকারী ওই ছাত্র নিজেও এই ঘটনার পর গুরুতর আহত হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে বা কোন ক্ষোভের বশে ওই কিশোর এমন ভয়ংকর পথ বেছে নিল, সে বিষয়ে প্রশাসন বা তদন্তকারী অফিসারদের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ জানানো হয়নি। থাইল্যান্ডের নীতিনির্ধারক ও শিক্ষামহল এই আকস্মিক নিরাপত্তার বেনজির ত্রুটি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে। বর্তমানে পুরো এলাকা কঠোর পুলিশি নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছে এবং ঘটনার পেছনের আসল রহস্য উদ্ঘাটনে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।