শহর ছেড়ে কোথায় গেলেন লক্ষ লক্ষ মানুষ? বেঙ্গালুরুর ভোটার তালিকা নিয়ে কমিশনের বিরাট ও চাঞ্চল্যকর তথ্য

দক্ষিণ ভারতের অন্যতম প্রধান তথ্যপ্রযুক্তি কেন্দ্র তথা কর্নাটকের রাজধানী শহর বেঙ্গালুরুর ভোটার তালিকা নিয়ে এক অভাবনীয় ও চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। সাম্প্রতিক বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ার প্রাথমিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মহানগরীর মোট ভোটারের প্রায় অর্ধেকের বৈধতা ও উপস্থিতি নিয়েই গভীর সংশয় প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। বৃহত্তর বেঙ্গালুরু এলাকার ২৮টি বিধানসভা আসনে নথিভুক্ত মোট ১ কোটি ৩ লক্ষ ভোটারের মধ্য থেকে প্রায় ৪৯ লাখ ভোটারের নাম নিয়ে গুরুতর প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে। প্রশাসনিক মহলের মতে, এই বিশাল সংখ্যক অসঙ্গতি দেশের মেট্রোপলিটন শহরগুলির রাজনৈতিক ও সামাজিক জনবিন্যাসে এক বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, বৃহত্তর বেঙ্গালুরু এলাকার ভোটার তালিকায় বহু এমন নাম রয়েছে যাদের বাস্তবে ওই ঠিকানায় কোনো অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া যায়নি। প্রাথমিক তদন্তে দেখা গিয়েছে যে, এর মধ্যে প্রায় ৩৫ লক্ষ ৫৬ হাজার ভোটার ইতিমধ্যেই অন্য এলাকায় স্থানান্তরিত বা শিফটেড হয়েছেন। এছাড়াও প্রায় ৮ লক্ষ ভোটারের খোঁজ মেলেনি এবং প্রায় সওয়া তিন লাখ এমন ব্যক্তির নাম তালিকাভুক্ত রয়েছে যাঁরা বহু বছর আগেই প্রয়াত হয়েছেন। প্রশাসনিক আধিকারিকদের একাংশের ধারণা, বেঙ্গালুরুতে মাত্রাতিরিক্ত জীবনযাত্রার ব্যয় এবং উচ্চ খরচের সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পেরে বহু পুরোনো স্থায়ী বাসিন্দা শহর ছেড়ে মফস্বল কিংবা নিজ নিজ গ্রামের দিকে ফিরে গিয়েছেন। অথচ তাঁদের পুরনো ঠিকানা ও নামগুলি এখনও ভোটার তালিকা থেকে বাদ যায়নি।

তালিকায় থাকা এই ব্যাপক গরমিল এবং ভুয়া বা সন্দেহভাজন ভোটারদের উপস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, এই সন্দেহজনক নামগুলি এখনই চূড়ান্তভাবে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে না। চলমান যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার সময় সংশ্লিষ্ট ভোটারদের নিজেদের নাগরিকত্ব এবং বৈধতার সপক্ষে প্রয়োজনীয় নথিপত্র পেশ করার যথাযথ সুযোগ দেওয়া হবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যারা নিজেদের বৈধতা প্রমাণ করতে ব্যর্থ হবেন, কেবলমাত্র তাদের নামই তালিকা থেকে চিরতরে বাদ দেওয়া হবে।

এই পরিস্থিতির গুরুত্ব উপলব্ধি করে গ্রেটার বেঙ্গালুরু অথরিটির পক্ষ থেকে একটি বিশেষ বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। সেখানে সমস্ত স্বীকৃত রাজনৈতিক দলকে নির্বাচন কমিশনের এই তালিকা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলির যদি এই ভোটার তালিকা নিয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট মতামত বা আপত্তি থাকে, তবে তারা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী নিবন্ধন কর্মকর্তার কাছে তা আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দিতে পারবেন। শহরের এই নজিরবিহীন ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া আসন্ন রাজনৈতিক নির্বাচনে কী প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।