কৃষকদের জন্য বিরাট উপহার! কিষাণ ক্রেডিট কার্ডে লোনের সীমা বেড়ে সরাসরি হল ৫ লক্ষ টাকা

দেশের কোটি কোটি অন্নদাতার আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে এবং তাঁদের মহাজনদের চড়া সুদের ফাঁদ থেকে রক্ষা করতে নরেন্দ্র মোদী সরকারের পক্ষ থেকে কিষাণ ক্রেডিট কার্ড (KCC) প্রকল্পে এক যুগান্তকারী ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। এতদিন চাষবাসের প্রয়োজনে ব্যাঙ্কের মাধ্যমে যে ঋণ পাওয়া যেত, তার ঊর্ধ্বসীমা অনেকটাই কম ছিল। কিন্তু বর্তমান কৃষকদের বহুমুখী প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে কেন্দ্রীয় সরকার কিষাণ ক্রেডিট কার্ডের ঋণের সীমা সরাসরি বাড়িয়ে ৩ লক্ষ টাকা থেকে এক লাফে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ধার্য করেছে। এর ফলে কৃষিকাজের পাশাপাশি পশুপালন, মৎস্যচাষ কিংবা অন্যান্য কৃষি-সংযুক্ত ব্যবসার ক্ষেত্রেও এই বর্ধিত ঋণের সুবিধা অত্যন্ত সহজেই লাভ করতে পারবেন দেশের কৃষকরা।

কেন্দ্রীয় সরকারের এই নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, কৃষকদের অতিরিক্ত সুবিধা দিতে বন্ধক রাখার নিয়মেও বড়সড় ছাড় দেওয়া হয়েছে। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের নতুন নিয়ম মেনে এখন থেকে দেশের কৃষকরা কোনো রকমের স্থাবর সম্পত্তি বা জমি বন্ধক না রেখেই সর্বোচ্চ ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জামানতহীন লোন বা ঋণ পেতে সক্ষম হবেন। উল্লেখ্য, অতীতে এই বিনা বন্ধকের ঋণের ঊর্ধ্বসীমা ১ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত সীমিত ছিল। সরকারের এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের ফলে প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকরা তাঁদের যেকোনো জরুরি আর্থিক প্রয়োজনে খুব সহজেই ব্যাঙ্ক থেকে পুঁজি সংগ্রহ করতে পারবেন, যা তাঁদের চাষের খরচ মেটাতে দারুণভাবে সাহায্য করবে।

সবচেয়ে বড় আকর্ষণের বিষয় হলো এই বিশেষ কৃষি ঋণের অত্যন্ত সহজ ও আকর্ষণীয় সুদের হার। সাধারণ নিয়মে কিষাণ ক্রেডিট কার্ডের ঋণের বার্ষিক সুদের হার ৭ শতাংশ নির্ধারিত থাকে। তবে সরকারের নিয়মানুযায়ী, যদি কোনো কৃষক নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বা সময়মতো সেই ঋণের টাকা সম্পূর্ণ শোধ করে দেন, তবে তাঁকে ৩ শতাংশ বিশেষ ভর্তুকি বা ছাড় দেওয়া হয়। এর ফলে ঋণগ্রহীতা কৃষকের জন্য কার্যকরী সুদের হার বা ইন্টারেস্ট রেট মাত্র ৪ শতাংশে নেমে আসে, যা দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় এক বিরল ও অভূতপূর্ব সুযোগ।

এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য আবেদন প্রক্রিয়াকেও অত্যন্ত সহজ ও স্বচ্ছ রাখা হয়েছে। আগ্রহী কৃষকরা তাঁদের নিকটবর্তী যেকোনো রাষ্ট্রায়ত্ত বা গ্রামীণ ব্যাঙ্কের শাখায় গিয়ে সশরীরে আবেদন করতে পারেন। এছাড়া ঘরে বসে ডিজিটাল মাধ্যমে আবেদন করার সুবিধার জন্য সরকার ‘জন সমর্থ পোর্টাল’ এবং ‘কিষাণ ঋণ পোর্টাল’-এর মতো অনলাইন মাধ্যমগুলোকে উন্মুক্ত করে দিয়েছে। আবেদনের ক্ষেত্রে মূলত আধার কার্ড, প্যান কার্ড, জমির বৈধ কাগজ বা খতিয়ান এবং আপডেট করা ব্যাঙ্ক পাসবুকের মতো কিছু মৌলিক নথিপত্র সঙ্গে রাখা বাধ্যতামূলক। কেন্দ্রের এই জনমুখী প্রকল্প দেশের কৃষি অর্থনীতিকে আরও মজবুত করতে এবং কৃষকদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।