৯ থেকে ৫ টার চাকরি ছেড়ে রাস্তার ধারের এই দোকান! বছরে ৩০ লাখ টাকা আয়ের খবরে তোলপাড় নেটদুনিয়া

সোশ্যাল মিডিয়ার দেওয়ালে বর্তমানে একটি চাঞ্চল্যকর এবং অনুপ্রেরণামূলক গল্প ঝড়ের বেগে ভাইরাল হয়েছে, যা কর্পোরেট জগতের ৯ থেকে ৫টার রুটিনবাঁধা জীবনে অভ্যস্ত চাকরিজীবীদের গভীরভাবে চিন্তায় ফেলে দিয়েছে। মাইক্রোব্লগিং সাইট ‘এক্স’ (পূর্বের টুইটার)-এ অঙ্কিত পাণ্ডে নামের এক ব্যবহারকারী রাস্তার ধারে বসা এক সাধারণ স্ট্রিট ফুড বিক্রেতার সাফল্যের অবিশ্বাস্য কাহিনী সকলের সঙ্গে শেয়ার করেছেন। কোনো বড় ব্র্যান্ডিং, ঝাঁ চকচকে শোরুম বা আধুনিক এসি ছাড়া কেবল ফুটপাথের এক কোণে ব্রেড পকোড়া এবং রসালো গোলাপ জামুন বিক্রি করে যে বছরে লক্ষ লক্ষ টাকা উপার্জন করা সম্ভব, তা এই ঘটনা প্রমাণ করে দিয়েছে।

অঙ্কিত তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে ‘মনোজ ব্রেড পকোড়া’ নামের একটি ছোট্ট ভ্যান বা দোকানের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন। সেখানে গিয়ে তিনি দেখেন, সাধারণ একটি দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছে ক্ষুধার্ত ক্রেতাদের দীর্ঘ লাইন। ওই বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলে তিনি জানতে পারেন, প্রতিদিন তাঁর দোকানে অন্তত ৪০০ জন কাস্টমার আসেন। খাবারের অসাধারণ স্বাদ, স্বাস্থ্যসম্মত মান এবং দীর্ঘদিনের পসারের গুণগত মানই ক্রেতাদের বারবার টেনে নিয়ে আসে সেখানে। এই সাধারণ খাবারের ব্যবসার পেছনের আর্থিক হিসাব যে কাউকে অবাক করে দেওয়ার মতো।

ভাইরাল হওয়া ওই পোস্ট অনুযায়ী, দোকানটিতে একজন গ্রাহক গড়ে মাত্র ৩০ টাকা খরচ করেন। এখানে এক টুকরো সুস্বাদু ব্রেড পকোড়ার দাম ১৫ টাকা এবং একটি মিষ্টি গোলাপ জামুনের দামও ১৫ টাকা ধার্য করা হয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ৪০০ জন ক্রেতা আসায় দোকানটির দৈনিক মোট বিক্রি দাঁড়ায় প্রায় ১২,০০০ টাকায়। এই সহজ হিসেব কষলে দেখা যায়, মাসিক টার্নওভার আড়াই লক্ষ টাকা ছুঁইছুঁই এবং বার্ষিক বিক্রি পৌঁছে যায় প্রায় ৩০ লক্ষ টাকার ঘরে। বিক্রেতার নিজস্ব হিসাব অনুযায়ী, রান্নার তেল, গ্যাস সিলিন্ডার, ময়দা ও ডালের মতো কাঁচামাল এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক সমস্ত খরচ বাদ দিলেও তিনি দৈনিক মোট আয়ের প্রায় ৭০ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় ৮,৪00 টাকা অবলীলায় সাশ্রয় করেন।

এই অভিনব ও অনুপ্রেরণামূলক পোস্টটি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই নতুন করে তপ্ত হয়ে উঠেছে চিরপরিচিত ‘কর্পোরেট জব বনাম ওন বিজনেস’ অর্থাৎ চাকরি বনাম ব্যবসার চিরন্তন তর্কের বিতর্কসভা। বহু নেটিজেন কমেন্ট বক্সে নিজেদের মতামত প্রকাশ করে লিখেছেন যে, এই মোটা অঙ্কের আয়ের নেপথ্যে রয়েছে তীব্র রোদ, বৃষ্টি ও ধুলোবালি উপেক্ষা করে প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে করা হাড়ভাঙা পরিশ্রম এবং একনিষ্ঠ কায়িক মেহনত। এক সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী অত্যন্ত সুন্দর মন্তব্য করে লিখেছেন, এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল যে জীবনে বড় মাপের সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছানোর জন্য গাদা গাদা ডিগ্রি বা কর্পোরেট টাইয়ের প্রয়োজন হয় না, বরং খাঁটি গুণগত মান এবং কাস্টমারের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখাই মূল চাবিকাঠি। ছোট ব্যবসার এই অদম্য জেদ ও উদ্যমকে কুর্নিশ জানিয়ে সকলেই সাধুবাদ জানিয়েছেন।