ডুমুরিয়া থেকে দুর্গাপুর মারণফাঁদ! বেহাল রাস্তায় চরম ভোগান্তি, তারওপর দক্ষিণবঙ্গে ফের অতি ভারী বৃষ্টির চোখ রাঙানি

রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বেহাল রাস্তাঘাটের বেহাল দশা এবং আসন্ন ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস সাধারণ মানুষের জনজীবনকে চরম ভোগান্তির মুখে ঠেলে দিয়েছে। একদিকে খানাখন্দে ভরা রাস্তাঘাট আর অন্যদিকে আবহাওয়া দফতরের নতুন করে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা—সব মিলিয়ে দুর্গতির শেষ নেই। কলকাতা থেকে শুরু করে শিল্পাঞ্চল দুর্গাপুর—সর্বত্রই রাস্তার বেহাল অবস্থা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

দমদম স্টেশন থেকে চিড়িয়া মোড় পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটারের বেশি রাস্তার অবস্থা বর্তমানে অত্যন্ত শোচনীয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও অভিযোগ অনুযায়ী, বিগত বছর নভেম্বর-ডিসেম্বর নাগাদ এই রাস্তায় মাটির নিচে পাইপলাইনের কাজ শুরু করা হয়েছিল। সেই গুরুত্বপূর্ণ কাজটি শেষ হয়ে গেলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাস্তার বেহাল পিচ তোলার পর আর কোনো সংস্কারের বা মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এর ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই সেই গভীর গর্তগুলোতে জল জমে রীতিমতো মারণফাঁদে পরিণত হয়েছে। শুধু উত্তর কলকাতা বা দমদমই নয়, এয়ারপোর্ট সংলগ্ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভিআইপি রোডের অবস্থাও বেশ শোচনীয়।

একই চিত্র ধরা পড়েছে শিল্পশহর দুর্গাপুরেও। দুর্গাপুর সিটি সেন্টার সংলগ্ন মূল রাস্তাগুলোর অবস্থা অত্যন্ত বেহাল। উল্লেখ্য, এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা দিয়েই প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করেন, কারণ এই চত্বরেই রয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দফতর, পুরসভা, আদালত এবং প্রধান প্রশাসনিক ভবন। শুধু তাই নয়, এই একই রাস্তার ওপর অবস্থিত বেশ কিছু নামী স্কুল এবং সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল। সিটি সেন্টারের সঙ্গে দুর্গাপুর স্টেশনকে সংযোগকারী মূল রাস্তাটির অবস্থাও চরম বেহাল হয়ে পড়ায় সাধারণ নাগরিকদের দৈনন্দিন যাতায়াত মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রবীণ নাগরিক থেকে শুরু করে স্কুলপড়ুয়ারা—সকলকেই প্রতিদিন এই বেহাল রাস্তায় চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে।

রাস্তার এই বেহাল পরিস্থিতির মাঝেই আবহাওয়া দফতর নতুন করে রাজ্যবাসীকে সতর্ক করেছে। আলিপুর আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, আজ থেকেই দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোতে বৃষ্টির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে বাঁকুড়া, পূর্ব মেদিনীপুর এবং পশ্চিম মেদিনীপুর—এই তিন দক্ষিণবঙ্গীয় জেলায় অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সেই কারণে ওই জেলাগুলোতে লাল বা কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি, রাজধানী কলকাতা সহ মোট সাতটি জেলায় ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। রাজ্যজুড়ে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা বলবৎ রয়েছে। তবে স্বস্তির খবর এই যে, আগামী রবিবার থেকে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ ধীরে ধীরে কমতে পারে। অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে আজকের পর থেকে বৃষ্টির সম্ভাবনা কিছুটা কমবে বলে জানিয়েছে হাওয়া অফিস, যদিও উত্তরের ৫টি পাহাড়ি ও সংলগ্ন জেলায় ভারী বৃষ্টির সামান্য সম্ভাবনা এখনও বজায় রয়েছে।