সুপ্রিম কোর্টে বিরাট স্বস্তি অভিষেক পত্নীর আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের! গ্রেফতারি এড়াতে মানতে হবে কোন বড় শর্ত?

সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রায়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়কে বড় স্বস্তি দেওয়া হয়েছে। শালবনিতে সরকারি জমি জালিয়াতি করে ভুয়ো নথি তৈরি করে তা বিক্রির অভিযোগে জড়িত থাকার মামলায় কলকাতা হাইকোর্টের দেওয়া নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুমিত রায় শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহানার সমন্বয়ে গঠিত সুপ্রিম কোর্টের বিশেষ বেঞ্চ এই মামলার শুনানিতে নির্দেশ দিয়েছে যে, এই মুহূর্তে সুমিত রায়কে পুলিশ বা তদন্তকারী সংস্থা গ্রেফতার করতে পারবে না। তবে শীর্ষ আদালত স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে যে, তদন্ত প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করার স্বার্থে সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত যে কোনো সময় তদন্তের মুখোমুখি হতে হবে এবং তদন্তকারী অফিসারদের সমস্ত জিজ্ঞাসাবাদে তাঁকে পুরোপুরি সহযোগিতা করতে হবে।
এর আগে কলকাতা হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন জানিয়েছিলেন সুমিত রায়। কিন্তু গত ৩ আগস্ট কলকাতা হাইকোর্ট তাঁর সেই জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছিল। হাইকোর্টের বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ তাঁর পর্যবেক্ষণ স্পষ্ট করে জানিয়েছিলেন যে, ইতিপূর্বে এই মামলায় যে সমস্ত অভিযুক্তরা গ্রেফতার হয়েছেন, তাঁদের জবানবন্দি এবং সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে আদালতের প্রাথমিক অনুমান, এই মুহূর্তে সুমিত রায়ের আগাম জামিন মঞ্জুর করা যুক্তিযুক্ত হবে না। তবে অন্য একটি পৃথক ডেবরা থানার মামলায় হাইকোর্ট তাঁকে পূর্বে আগাম জামিন দিয়েছিল এবং ১০ দিনের মধ্যে তদন্তকারী আধিকারিকের সঙ্গে দেখা করার নির্দেশও প্রদান করেছিল।
এদিনের শুনানিতে সুমিত রায়ের পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে বিশিষ্ট আইনজীবী গোপাল শঙ্কর নারায়ণ আদালতের সামনে জোরালো যুক্তি পেশ করেন। তিনি সওয়াল করে বলেন, “মাননীয় হাইকোর্ট মাত্র কয়েকদিন আগেই অন্য একটি মামলায় জামিন মঞ্জুর করেছে, অথচ এই মামলায় তা খারিজ করে দিয়েছে। ১০ দিনের মধ্যে তদন্তকারী আধিকারিকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সুতরাং, আইনগত যে কোনো কঠোর শর্ত সাপেক্ষে হলেও সুমিত রায়কে জামিনের সুরক্ষা দেওয়া হোক।” তিনি আরও জানান যে মক্কেল তদন্ত প্রক্রিয়ায় শুরু থেকেই সম্পূর্ণভাবে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছেন। এমনকি এই অভিযোগগুলো বহু পুরনো হলেও নির্বাচনী ফলাফলের পরেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এই মামলাগুলি নতুন করে দায়ের করা হয়েছে বলেও আদালতে দাবি করা হয়।
অন্যদিকে, সরকারের পক্ষ থেকে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহেতা এই জামিনের তীব্র বিরোধিতা করেন। তিনি আদালতের সামনে নিজের বক্তব্য পেশ করে বলেন, “এই মামলাগুলির অভিযোগ অনেক পুরনো হলেও বর্তমানে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে সামনে এসেছে। এর আগে ইডি যখন সুমিত রায়কে গ্রেফতার করতে গিয়েছিল, তখন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তাতে বাধা সৃষ্টি করেছিলেন। এই বিষয়ে আমরা লিখিত হলফনামা জমা দিয়ে আমাদের সুনির্দিষ্ট বক্তব্য জানাতে চাই এবং অপরাধের গভীরে পৌঁছানোর জন্য তাঁকে পুলিশি হেফাজতে নিয়ে জেরা করা একান্ত প্রয়োজন।” সমস্ত পক্ষের যুক্তিতর্ক শোনার পর সুনির্দিষ্ট কিছু কঠোর শর্ত সাপেক্ষে শীর্ষ আদালতের তিন বিচারপতির বেঞ্চ সুমিত রায়ের গ্রেফতারির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে এবং তাঁকে অন্তর্বর্তীকালীন স্বস্তি প্রদান করে।