মালদায় ফের টাকার পাহাড়! গাজোলে ৪০ লাখের বেশি নগদ ও ব্রাউন সুগারসহ গ্রেফতার দুই মাদক কারবারি

পুরাতন মালদার চাঞ্চল্যকর ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের বিশাল অঙ্কের নগদ টাকা উদ্ধারের ঘটনায় তোলপাড় শুরু হলো জেলাজুড়ে। বৃহস্পতিবার সকালে মালদার গাজোল থানার পুলিশ রাঙাভিটা এলাকা থেকে প্রায় ৪১ লক্ষ টাকা নগদ এবং ৬০০ গ্রাম ব্রাউন সুগারসহ দুই কুখ্যাত মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে। পরপর এই ধরনের ঘটনায় অপরাধের শিকড় কতদূর ছড়িয়ে রয়েছে, তা নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন।
মালদা জেলার পুলিশ সুপার অনুপম সিং সংবাদমাধ্যমকে জানান যে, ঘটনার প্রেক্ষিতে একটি ব্যাপক পুলিশি তদন্ত শুরু করা হয়েছে। ধৃতদের কড়া জেরা করে এই বিপুল পরিমাণ অর্থের উৎস সন্ধানের চেষ্টা চলছে। এছাড়া এই ঘটনার সঙ্গে একটি বড়সড় মাদক চক্রের যোগ রয়েছে কি না, সে বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে গাজোল থানার পুলিশ জানতে পারে যে দুই কারবারি দুটি আলাদা মোটরসাইকেলে চেপে রাঙাভিটা হয়ে মালদার দিকে আসছে। এই সুনির্দিষ্ট খবরের ভিত্তিতে পুলিশকর্মীরা ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের ওপরে তল্লাশি অভিযান শুরু করেন। নির্দিষ্ট নম্বরের বাইক দুটি নজরে আসতেই পুলিশ তাদের থামানোর চেষ্টা করে। পুলিশের তাড়া খেয়ে যুবকরা বাইকের গতি বাড়িয়ে পালানোর মরিয়া চেষ্টা চালায়। কিন্তু তাড়াহুড়োয় তাদের একজন বাইক থেকে ছিটকে রাস্তায় পড়ে যান এবং মাথায় গুরুতর আঘাত পান। তখনই পুলিশকর্মীরা তাঁকে ধরে ফেলেন এবং সামান্য ধস্তাধস্তির পর দ্বিতীয় যুবককেও হাতেনাতে পাকড়াও করা হয়।
ধৃতদের আটকের পর তাঁদের সঙ্গে থাকা ব্যাগ তল্লাশি করতেই চোখ কপালে ওঠে পুলিশকর্মীদের। ব্যাগের ভেতর থরে থরে সাজানো ছিল ৫০০, ২০০ এবং ১০০ টাকার নোটের বান্ডিল। শুধু তাই নয়, তাদের হেফাজত থেকে উদ্ধার করা হয় প্রায় ৬০০ গ্রাম ব্রাউন সুগারও। ততক্ষণে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান গাজোল থানার আইসি কৌশিক বন্দ্যোপাধ্যায়। দ্রুত সেখানে টাকা গোনার মেশিন আনিয়ে জাতীয় সড়কের পাশেই শুরু হয় গণনা। প্রাথমিক গণনায় মোট ৪০ লক্ষ ৬৯ হাজার ৭০০ টাকা উদ্ধার হয়েছে বলে জানা গেছে। এরপর পুলিশ সমস্ত টাকা দুটি ব্যাগে ভরে সিল করে দেয় এবং উদ্ধার হওয়া নগদ অর্থ, ব্রাউন সুগার ও দুটি মোটরসাইকেলসহ দুই অভিযুক্তকে থানায় নিয়ে এসে গ্রেফতার করে।
পুলিশি জেরায় ধৃত দুই যুবকের পরিচয় স্পষ্ট হয়েছে। তাঁদের নাম সিদ্ধার্থ মণ্ডল এবং কিশোর মণ্ডল। এর মধ্যে সিদ্ধার্থ মণ্ডলের বাড়ি কালিয়াচক ৩ নম্বর ব্লকের বীরনগর গ্রামে এবং কিশোর মণ্ডল কালিয়াচক ১ নম্বর ব্লকের শাহবাজপুর গ্রামের বাসিন্দা। প্রাথমিক জেরায় ধৃতরা পুলিশকে জানিয়েছে যে তারা মোটরসাইকেলে করে ডালখোলা থেকে কালিয়াচক ফিরছিল।
উল্লেখ্য, মাত্র দু’দিন আগেই পুরাতন মালদার মঙ্গলবাড়ি এলাকার একটি ফ্ল্যাটে আকস্মিক অভিযান চালিয়ে প্রায় আড়াই কোটি টাকা উদ্ধার করেছিল পুলিশ এবং এই ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। ধৃত ওই ব্যক্তিরা সরাসরি মাদক পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত বলে প্রমাণ মিলেছিল। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই গাজোলের রাঙাভিটা এলাকা থেকে ফের প্রায় ৪১ লাখ টাকা উদ্ধারের ঘটনায় গোটা মালদা জেলাজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য এবং আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।