অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রক্ষাকবচ মামলায় বড় স্বস্তি! হাইকোর্ট কী নির্দেশ দিল জানলে চমকে উঠবেন

তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রক্ষাকবচ মামলায় বড় ধরনের আইনি স্বস্তি মিলেছে। কলকাতা হাইকোর্টের তরফ থেকে তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া তিনটি মামলায় আগামী ১৭ আগস্ট পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষার মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। এদিন আদালতে এই সংক্রান্ত মামলার শুনানি অসম্পূর্ণ থাকলেও, আদালতের এই নির্দেশের ফলে আপাতত ওই নির্দিষ্ট মামলাগুলিতে অভিষেকের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের কঠোর বা কড়া পদক্ষেপ করা যাবে না বলেই স্পষ্ট জানানো হয়েছে। রাজনৈতিক ও আইনি মহলে এই রায় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

আদালত সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, ভবানীপুর (২৭ মে ২০২৬), কালীতলা (১৬ জুন ২০২৬) এবং বিষ্ণুপুর (১৬ জুন ২০২৬)—এই তিনটি এফআইআরের (FIR) ওপর আপাতত কোনো কড়া পদক্ষেপ না নেওয়ার স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। মামলার পরবর্তী শুনানি ধার্য করা হয়েছে আগামী ১১ অগাস্ট। তবে আইনি লড়াইয়ের সামগ্রিক চিত্রে দেখা যাচ্ছে যে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বর্তমানে মোট ১৬টি এফআইআরের একটি দীর্ঘ তালিকা রয়েছে। এই তালিকার কথা উল্লেখ করে এদিন আদালতে ডিআইজি লিগ্যাল (DIG Legal) জানান যে, বাকি ১১টি এফআইআরের ক্ষেত্রে এই মুহূর্তে তৃণমূল সাংসদের জন্য কোনো ধরনের রক্ষাকবচ বা আইনি সুরক্ষা বলয় কার্যকর নেই।

অন্যদিকে, শুনানি চলাকালীন আদালতে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর মামলার প্রসঙ্গও জোরালোভাবে ওঠে। রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল বিল্বদল ভট্টাচার্য আদালতে সওয়াল করে জানান যে, ২০২১ সালের শুভেন্দু অধিকারীর রক্ষাকবচ মামলার সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বর্তমান মামলার কোনো ধরনের সাযুজ্য বা মিল নেই। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, শুভেন্দু অধিকারীর ক্ষেত্রে একক বেঞ্চের দেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ ইতিমধ্যে হাইকোর্ট সরিয়ে নিয়েছে এবং সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সিবিআই (CBI) আপিল মামলা দায়ের করেছে, যা বর্তমানে বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে। এর পাশাপাশি, শুভেন্দু অধিকারী নিজে সিবিআই তদন্তের দাবিতে হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছিলেন, যা অভিষেকের ক্ষেত্রে করা হয়নি। সবমিলিয়ে, আগামী ১১ আগস্ট পরবর্তী শুনানির দিন এই মামলা কোন নতুন মোড় নেয়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক ও আইনি মহল।