গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে বড়সড় চাঞ্চল্য! দেশে ফেরার আগেই হেসেইখেলে উধাও ৫ তারকা বক্সার

গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসের পর্দা নেমেছে, তবে রিংয়ের ভেতরের লড়াই ছাপিয়ে এখন আন্তর্জাতিক স্তরে তৈরি হয়েছে এক নতুন বিতর্ক। টুর্নামেন্ট শেষ করে নিজ দেশে ফেরার ঠিক আগেই রহস্যজনকভাবে উধাও হয়ে গেছেন পাঁচ জন তারকা বক্সার। এর মধ্যে চারজন উগান্ডার এবং একজন পাকিস্তানের প্রতিনিধি। আন্তর্জাতিক বহুক্রীড়া প্রতিযোগিতার সমাপনী পর্বে অ্যাথলিটদের এভাবে আকস্মিক উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনা নতুন কিছু নয়, তবে গ্লাসগোর এই ঘটনায় ফের একবার চরম অস্বস্তিতে পড়েছে সংশ্লিষ্ট দেশগুলির ক্রীড়া বোর্ড।
পাসপোর্ট ছাড়াই হোটেলের ঘর ছেড়ে উধাও হওয়া পাকিস্তানি বক্সার কুদরত উল্লার আকস্মিক লাপাত্তা হওয়ার ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী সমস্ত অ্যাথলিটের পাসপোর্ট দলের ম্যানেজারের কাছে জমা থাকে। পাসপোর্ট ছাড়াই কীভাবে কুদরত উধাও হলেন, তা নিয়ে ধোঁয়াশায় পাকিস্তানের বক্সিং ফেডারেশন (Pakistan Boxing Federation)। ফেডারেশনের আধিকারিকদের সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার রাত দু’টো নাগাদ শেষবারের মতো তাঁকে হোটেলের কামরায় দেখা গিয়েছিল। এরপর ওই দিন সকাল ন’টায় হোটেলের লবিতে সমগ্র দলের সঙ্গে পাকিস্তানগামী ফ্লাইটে ওঠার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে তাঁকে না পেয়ে কর্তারা তাঁর ঘরে গিয়ে দেখেন কামরাটি সম্পূর্ণ ফাঁকা। চারদিকে তন্ন তন্ন করে খোঁজাখুঁজি শুরু হলেও তাঁর বিন্দুমাত্র সন্ধান মেলেনি।
একইরকম উদ্বেগের মুখে পড়েছে উগান্ডার ক্রীড়া শিবিরও। উগান্ডার শেফ দ্য মিশন গডউইন কায়াংওয়ে জানিয়েছেন যে তাঁদের দেশের চারজন বক্সার রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ রয়েছেন। এই চারজনের মধ্যে দু’জন পুরুষ এবং দু’জন মহিলা অ্যাথলিট রয়েছেন, যাঁদের নাম ইব্রাহিম কেমিস, নুহু বাট্টে, এমিলি নাকালেমা এবং অ্যাঞ্জেল কতুশাবে। মঙ্গলবারই তাঁদের উগান্ডার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা ছিল। বিবিসি স্কটল্যান্ডকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কায়াংওয়ে জানান, কেন তাঁরা এই চরম সিদ্ধান্ত নিলেন, তা তাঁদের কাছে সম্পূর্ণ অজানা। তবে এর আগে টিম ম্যানেজারের সঙ্গে তাঁরা যোগাযোগ করে ফিরে আসার কথা জানালেও বর্তমানে তাঁদের সকলেরই মোবাইল ফোন সুইচড অফ রয়েছে। কায়াংওয়ে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে এই অ্যাথলিটরা ক্যাম্পের সুনির্দিষ্ট নিয়ম ভঙ্গ করেছেন। কোনো রকম পূর্বানুমতি ছাড়া ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ার নিয়ম নেই। তবে তাঁদের ভিসার মেয়াদ যেহেতু অক্টোবর মাস পর্যন্ত বৈধ রয়েছে, তাই তিনি আশা করছেন যে তাঁরা শেষ পর্যন্ত স্বদেশে ফিরে আসবেন।
এদিকে গোটা ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে স্কটল্যান্ড পুলিশ। সরকারি আবাসন এবং গেমস ভিলেজ থেকে অ্যাথলিটদের এভাবে পালিয়ে যাওয়ার একাধিক গুরুতর অভিযোগ জমা পড়ার পর তদন্ত শুরু হয়েছে। স্কটল্যান্ড পুলিশের এক দায়িত্বপ্রাপ্ত মুখপাত্র সংবাদমাধ্যমকে জানান যে বেশ কয়েকজন অ্যাথলিটের নিখোঁজ হওয়ার অফিসিয়াল রিপোর্ট তাঁদের হাতে এসেছে। বর্তমান পরিস্থিতি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখতে জোরদার তদন্ত চলছে এবং প্রাথমিক পর্যায়ে হোম অফিসের সঙ্গেও সার্বিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
বড় মাপের আন্তর্জাতিক ক্রীড়ানুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর অ্যাথলিটদের এই ধরণের পলায়ন অবশ্য নতুন কোনো ঘটনা নয়। এর আগে ২০২২ সালের বার্মিংহাম কমনওয়েলথ গেমসের সময়ও দু’জন বক্সার হোটেল ছেড়ে রহস্যজনকভাবে চম্পট দিয়েছিলেন। এমনকি গেমস ভিলেজ থেকে শ্রীলঙ্কার তিন সদস্য—একজন কুস্তিগির, একজন জুডোকা এবং একজন জুডো কোচও উধাও হয়ে গিয়েছিলেন। ২০১৮ সালের গোল্ড কোস্ট কমনওয়েলথ গেমসের (Commonwealth Games) পরেও প্রায় ৫০ জনের বেশি অ্যাথলিট বেআইনিভাবে অস্ট্রেলিয়ায় থেকে যাওয়ার ঘটনা ঘটিয়েছিলেন। এর বাইরেও ২০১৪ সালে ঠিক এই গ্লাসগো শহরেই অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ গেমসের সমাপনী পর্বের পরেও ডজনখানেক অ্যাথলিট রাতারাতি উধাও হয়ে যান। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ পরবর্তীতে স্থায়ী রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করলেও বাকিরা চিরকালের মতো নিখোঁজই থেকে যান। বর্তমান গ্লাসগো গেমসের এই নতুন ঘটনা আন্তর্জাতিক ক্রীড়া মহলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অ্যাথলিটদের শৃঙ্খলা নিয়ে ফের বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিল।