১ কোটির দেনা মেটাতে নীল নয়, এ কোন অন্ধকার জগতে পা রেখেছিলেন শাহরুখের সহঅভিনেত্রী!

বলিউড পাড়ার অন্দরমহলে প্রতিদিন ঘটে চলে নানা নাটকীয় ঘটনা। তারকাদের জীবন নিয়ে সাধারণ মানুষের কৌতূহলের অন্ত নেই। সম্প্রতি বলিউড ইন্ডাস্ট্রির তিন প্রবীণ তারকাকে ঘিরে যে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে, তা রীতিমতো সাড়া ফেলে দিয়েছে। শাহরুখ খান, অজয় দেবগন থেকে শুরু করে প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার মতো সুপারস্টারদের সঙ্গে একাধিক সফল ছবিতে কাজ করেছেন বিশিষ্ট অভিনেত্রী সুস্মিতা মুখোপাধ্যায়। ‘গোলমাল রিটার্নস’, ‘কিং আঙ্কেল’ বা ‘দোস্তানা’-র মতো জনপ্রিয় ছবিতে তাঁর অভিনয় দর্শকদের নজর কেড়েছিল। কিন্তু পর্দার এই হাসিখুশি অভিনেত্রীর ব্যক্তিগত জীবন যে কতটা সংগ্রামের ছিল, তা সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজেই ফাঁস করেছেন। অভিনেত্রীর মাথায় একসময় প্রায় ১ কোটি টাকার ভারী ঋণের বোঝা চেপে বসেছিল। সেই বিপুল ধার শোধ করার তাগিদেই বাধ্য হয়ে তিনি এমন কিছু ছবিতে অভিনয় করেছিলেন, যা নিয়ে তাঁর মনে আজও অপরাধবোধ কাজ করে। সুস্মিতা স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, তিনি সরাসরি নীল ছবিতে কাজ না করলেও এমন সব প্রজেক্টে সই করেছিলেন যেগুলি অত্যন্ত সেক্সিস্ট এবং নারীদের অবমাননাকর ছিল। সেই দিনগুলির কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘আমি আমার আত্মা বিক্রি করে সেই কাজগুলো করেছিলাম। না তখন ওই চরিত্রগুলো করে আমার বিন্দুমাত্র আনন্দ হয়েছিল, আর না আজ অতীতে ঘটা সেই ঘটনাগুলো ভেবে আমার ভালো লাগে। কিন্তু সেদিন আমার পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গিয়েছিল এবং হাত-পা বাঁধা ছিল।’ অভিনেত্রীর এই খোলামেলা স্বীকারোক্তি শোবিজ দুনিয়ার এক অন্ধকার দিককে নতুন করে উন্মোচন করেছে।

অন্যদিকে, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়ে যখন দিশাহারা অসমের সাধারণ মানুষ, তখন তাঁদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন বলিউডের ‘ভাইজান’ সলমন খান। অসমের ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতিতে এর আগে রণদীপ হুডা ও দেবলীনা ভট্টাচার্যের মতো তারকারা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। এবার সেই মানবিক ত্রাণতালিকায় মুকুট যোগ করলেন স্বয়ং সলমন। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, কেবল বন্যাদুর্গতদের মাঝে সাময়িক খাবার বা ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেই দায়িত্ব সারেননি তিনি। বরং একটি স্বনামধন্য এনজিও-র সঙ্গে হাত মিলিয়ে একেবারে সুদূর প্রসারী পরিকল্পনা নিয়েছেন সলমন। অসমের নেপালি খুঁটি এলাকায় বন্যায় গৃহহীন হয়ে পড়া মানুষের জন্য ইতিমধ্যেই প্রায় ২২০টি অস্থায়ী ছাউনি গড়ে দেওয়া হয়েছে, যাতে সেখানে দুর্গতরা নিরাপদ আশ্রয় পেতে পারেন। আর এবার সেই ত্রাণকাজকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গিয়ে সরাসরি ৫০০টি পাকা বাড়ি তৈরির মহা উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন এই অভিনেতা। তাঁর এই নিঃশব্দ জনকল্যাণমূলক কাজ আবারও প্রমাণ করে দিল যে পর্দার বাইরেও তিনি কত বড় মনের মানুষ।

এই সমস্ত খবরের পাশাপাশি ফের একবার চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছেন মেগাস্টার অমিতাভ বচ্চন। দীর্ঘ কর্মজীবনে বহু মাইলফলক ছুঁলেও তাঁর কাজের প্রতি নিষ্ঠা আজও তরুণ প্রজন্মকে তাজ্জব করে দেয়। জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি’ (কেবিসি)-র মঞ্চে ফের একবার সঞ্চালকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে চলেছেন তিনি। চলতি বছর ৮৩ বছরে পদার্পণ করা সত্ত্বেও অমিতাভ বচ্চনের কাজের গতি এক বিন্দুও মন্থর হয়নি। বরং এই বয়সেও তিনি অবিরাম পরিশ্রম করে চলেছেন। নিজের কাজের রুটিন সম্পর্কে বলতে গিয়ে বিগ বি জানান যে, তিনি আক্ষরিক অর্থেই প্রায় ২৪ ঘণ্টাই কাজ করে যান। সকাল সাতটায় আগের দিনের শুটিং শেষ করে, আবার সেদিনই ঠিক একই সময় নতুন দিনের কাজের কাজ শুরু করেন। কর্মজীবনে এই ধরনের কঠোর জীবনযাপন বেছে নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি জানান যে, নিজের পেশা এবং কাজের প্রতি তাঁর চরম দায়বদ্ধতাই তাঁকে এই শক্তি জোগায়। সমস্ত কাজ যাতে সঠিক সময়ে এবং নির্দিষ্ট ডেডলাইনের মধ্যে শেষ হয়, সেই সুনিশ্চিত করতেই তিনি জীবনের এই অন্তিম বয়সে এসেও বিশ্রামহীনভাবে পরিশ্রম করে চলেছেন। সবমিলিয়ে, বিনোদন জগতের এই তিন ভিন্নধর্মী খবর এখন নেটপাড়ায় সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়বস্তু হয়ে উঠেছে।