মহিলাদের বিনামূল্যে বাস সফর নিয়ে বিরাট ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর! চালু হচ্ছে ‘পিঙ্ক কার্ড’, ৫৫০ কোটি টাকার বাজেট বরাদ্দ!

মঙ্গলবার রাজ্যজুড়ে পরিবহণ ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে একসঙ্গে ৫০টি নতুন আধুনিক বাসের শুভ উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন এই বিশেষ অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকেই রাজ্যের মহিলাদের জন্য বহুল প্রচারিত বিনামূল্যে বাস সফর প্রকল্প নিয়ে ফের এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও যুগান্তকারী আপডেট দিলেন তিনি। এর আগেই সরকারি বাসে মহিলাদের বিনামূল্যে যাতায়াতের ঐতিহাসিক ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী, আর এবার সেই প্রকল্পের সম্পূর্ণ ও বিস্তারিত রূপরেখা জনসমক্ষে স্পষ্ট করে দিলেন।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, সরকার গঠনের পর রাজ্যের মহিলাদের জন্য সরকারি বাসে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে যাতায়াতের ঘোষণা করা হলে সাধারণ মহিলা মহলে ব্যাপক খুশির জোয়ার বয়ে যায়। তবে এর পাশাপাশি বহু চাকরিজীবী ও স্বাবলম্বী মহিলা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নিজেদের জোরালো আপত্তিও জানিয়েছিলেন। তাঁদের মূল বক্তব্য ছিল যে, তাঁরা যেহেতু প্রত্যেকেই নিজ দায়িত্বে স্বাবলম্বী এবং ভালো অর্থ উপার্জন করেন, তাই তাঁরা সরকারের সুবিধা না নিয়ে নিয়মিত বাসভাড়া দিয়েই যাতায়াত করতে ইচ্ছুক। তাঁদের স্পষ্ট দাবি ছিল, সরকারের এই বিনামূল্য পরিষেবা যেন সম্পূর্ণভাবে আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা ও দুঃস্থ মহিলাদের কথা মাথায় রেখেই রূপায়ন করা হয়। সাধারণ মানুষের এই না বলা কথা ও মতামত শেষ পর্যন্ত নিখুঁতভাবে মুখ্যমন্ত্রীর কান পর্যন্ত পৌঁছে যায়।
চাকরিজীবী মহিলাদের এই যৌক্তিক আপত্তির কথা মাথায় রেখে একটি ভারসাম্যপূর্ণ সমাধানসূত্র বের করেছে রাজ্য সরকার। যেসব সাধারণ মহিলা বা আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা মহিলারা বিনামূল্যে যাতায়াতের এই বিশেষ সুযোগ ‘জিরো ভ্যালু টিকিট’-এর মাধ্যমে পেতে চান, তাঁদের জন্য খুব শীঘ্রই একটি বিশেষ ‘পিঙ্ক কার্ড’ (Pink Card) চালু করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী রাজ্য পরিবহণ দফতরকে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন যে, যত দ্রুত সম্ভব এই বিশেষ কার্ড চালু করতে হবে এবং যাঁরা জিরো ভ্যালু টিকিট নিতে ইচ্ছুক, তাঁদের প্রত্যেকের হাতে এই পিঙ্ক কার্ড তুলে দিতে হবে। শুধু তাই নয়, প্রয়োজনে এই পুরো প্রক্রিয়াটি তাড়াহুড়ো না করে ধীরে ধীরে, আগামী পাঁচ থেকে ছয় মাসের মধ্যে ধাপে ধাপে চালু করার কথাও বলেছেন তিনি।
পাশাপাশি, যাঁরা ভালো উপার্জন করেন এবং নিজেদের টিকিটের দাম নিজে দিতে চান, সেই সমস্ত স্বাবলম্বী মহিলাদের ইচ্ছাকেও যথাযথ সম্মান জানাতে বিশেষ বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী নিজেই অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, মাসে ৫০ হাজার টাকা বা ৮০ হাজার টাকার বেশি বেতন পান এমন উচ্চবিত্ত বা সচ্ছল মহিলাদের জন্যও একটি নির্দিষ্ট বিকল্প ব্যবস্থার আওতায় রাখার যথেষ্ট প্রয়োজন রয়েছে, আর ঠিক সেই কারণেই সেই পরিকাঠামোই তৈরি করা হচ্ছে।
এই বিশাল প্রকল্পটির সুষ্ঠু ও নিরবচ্ছিন্ন রূপায়ণ ও পরিচালনার জন্য রাজ্য বাজেটে অতিরিক্ত ৪০০ কোটি টাকার একটি বিশাল আর্থিক সংস্থান রাখা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন যে, এই বিশেষ খাতে রাজ্যের সমস্ত পরিবহণ নিগমগুলিকে অতিরিক্ত এই বিপুল অঙ্কের আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে, যা ইতিমধ্যেই রাজ্য বাজেটে প্রভিশন হিসেবে সুনির্দিষ্টভাবে বরাদ্দ করা হয়েছে।
এদিনের এই বিশেষ বাস উদ্বোধন অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে মহিলাদের যাতায়াত সংক্রান্ত ঘোষণার পাশাপাশি সরকারি বাসের বাহ্যিক রূপ ও রং পরিবর্তন নিয়েও এক বিরাট ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। স্বামী বিবেকানন্দের ঐতিহাসিক পরিধেয় পোশাকের গেরুয়া রঙের অনুকরণে এবং ত্যাগের ও শৌর্যের প্রতীক হিসেবে রাজ্যের সমস্ত সরকারি বাসগুলিকে নতুন করে গেরুয়া রঙে সাজিয়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে এদিন পরিবেশবান্ধব মোট ৫০টি নতুন বাসের উদ্বোধন করা হয়, যার মধ্যে রয়েছে ৪৩টি অত্যাধুনিক সিএনজি (CNG) বাস এবং ৭টি পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক বাস। মুখ্যমন্ত্রীর জোরালো দাবি, এই সমস্ত আধুনিক পদক্ষেপ রাজ্যের বেহাল পরিবহণ ব্যবস্থায় এক সম্পূর্ণ নতুন দিশা দেখাবে।