রাজনীতি নয়, সমাজ বদলাতে ময়দানে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’! কী বললেন প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস?

ভবিষ্যৎ কৌশল ও কর্মপরিকল্পনা নিয়ে মুখ খুলল সিজেপি ৷ ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস জানিয়েছেন, প্রথাগত রাজনীতির গণ্ডি পেরিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে আরও ব্যাপকভাবে পৌঁছনোই তাঁদের আন্দোলনের লক্ষ্য ।

সিজেপি নেতৃত্বের মতে, জনগণের অভাব-অভিযোগের সুরাহা করতে হলে প্রথাগত কোনও রাজনৈতিক বিকল্প তৈরির চেয়ে বরং সামাজিক জাগরণ প্রয়োজন । সাংবাদিকদের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় তিনি ব্যাখ্যা করেন, প্রকৃত পরিবর্তন নির্ভর করে তৃণমূল স্তর থেকে সচেতনভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার উপর ৷ পাশাপাশি, তিনি তাঁদের ভবিষ্যৎ কর্ম পরিকল্পনা ও সময়সূচি নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করেন ।

সৌরভ বলেন, “প্রতিবাদ সফল হওয়ার পর এই আন্দোলন কোন পথে এগোবে—তা নিয়ে আমাদের কাছে প্রশ্ন রাখা হয়েছিল এবং আমরা এ বিষয়ে কৌশল নির্ধারণের জন্য একত্রিত হয়েছি । এ নিয়ে আলোচনা করব এবং কীভাবে আন্দোলনকে তৃণমূল স্তরে নিয়ে যাওয়া যায়, তা নিয়ে ভাবব… ৬ অগস্ট যখন আমরা কোনও সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছব, তখন সবাইকে জানানো হবে ৷”

কোর কমিটির বৈঠকে সংগঠনের মূল দর্শন ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সৌরভ বলেন, “এটি একটি আন্দোলন । দেশে অসংখ্য রাজনৈতিক দল থাকলেও মানুষের যন্ত্রণার সমাধান করতে হলে তৃণমূল স্তরে জাগরণ সৃষ্টির প্রয়োজন । সিজেপি ঠিক সেটাই করছে ৷”

সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সমাবেশগুলি দমন করতে যে মনোভাব দেখা গিয়েছে, তার তীব্র সমালোচনা করে সিজেপি নেত্রী বৈষ্ণবী জানান, নাগরিকদের উপর একতরফা নির্দেশ চাপিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে কর্তৃপক্ষের উচিত প্রকৃত আলোচনার পরিবেশ তৈরি করা । বৈষ্ণবী বলেন, “সম্প্রতি বিজেপি ও আরএসএস যে ধরনের সমাবেশ করেছে, তাতে কোনও প্রকৃত আলোচনার প্রতিফলন দেখা যায়নি; বরং তা ছিল একতরফা নির্দেশ চাপিয়ে দেওয়ার মতো । তাই আশা করি, তারা নির্দেশ চাপিয়ে না দিয়ে আলোচনায় অংশ নেবে । ছোটদের যেন কোনওভাবেই হেনস্থা বা ভয় দেখানো না হয়—এটাই আমাদের প্রত্যাশা । অন্যথায়, আমাদের যুব আন্দোলন চালিয়ে যাব ।”

বিক্ষোভ বা আন্দোলনের গভীর রাজনৈতিক তাৎপর্যের কথা উল্লেখ করে সিজেপি নেত্রী রত্ন সিং জানান, গণ-আন্দোলনের রাজনৈতিক প্রভাব এখন বড় শহরগুলির সীমানা ছাড়িয়ে অনেক দূর বিস্তৃত হয়েছে । তিনি বলেন, “এই আন্দোলনের ফলে ভোটারদের উপর কোনও প্রভাব পড়েছে কি না—তা যদি জানতে চান, বলব অবশ্যই পড়েছে । যন্তর মন্তরে আপনারা যা দেখেছেন, তার প্রভাব কেবল সেখানেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং যেসব গ্রামের মানুষ সেখানে আসতে পারেননি, সেখানেও এর প্রভাব পড়েছে ।”

বিভিন্ন রাজ্যে ছাত্র বিক্ষোভের সময় পুলিশের কঠোর দমন-পীড়ন ও আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের মতো সাম্প্রতিক ঘটনাগুলির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে রত্না বলেন, কোন প্রশাসনিক পদক্ষেপই নজর এড়ায় না । সম্প্রতি বিহারে ছোটদের প্রতিবাদ-বিক্ষোভে একে-৪৭ (AK-47) পর্যন্ত ব্যবহার করা হয়েছিল ৷ তেমনই দেশের সব তরুণ-তরুণী এসব ঘটনা লক্ষ্য করছে । নির্বাচনের ফলাফলই বলে দেবে যে সবাই আপনাদের কার্যকলাপের ওপর কড়া নজর রাখছে এবং এর পরিণাম আপনারা দেখতে পাবেন ।”

এদিকে, মঙ্গলবার সিজেপি (CJP)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে জানান, বুধবার সংগঠনের বৈঠকে যন্তর মন্তরে তাঁদের সাম্প্রতিক বিক্ষোভ আন্দোলন পর্যালোচনা, সাংগঠনিক সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা হবে এবং ভবিষ্যতের কর্মপরিকল্পনা ঠিক করা হবে । তিনি আরও স্পষ্ট করেন, বর্তমানে এই সংগঠনটিকে রাজনৈতিক দলে রূপান্তর করার কোনও প্রস্তাব নেই ।

‘জেন-জি’ (Gen Z) বা বর্তমান প্রজন্মের তরুণদের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে দীপকে জানান, এটি একটি ভালো শুরু । তরুণদের আন্দোলনের কারণেই প্রবীণ নেতারা তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনে বাধ্য হয়েছেন ।

তিনি বলেন, “অবশেষে, এ দেশের তরুণরা মোহন ভাগবত, নরেন্দ্র মোদি এবং বিজেপি সাংসদদের মতো ব্যক্তিদের ‘জেন-জি’-র সঙ্গে কথা বলতে বাধ্য করেছে ।” তবে দীপকে পরামর্শ দেন, তরুণ নেতাদেরই তরুণদের সঙ্গে যোগাযোগের কাজে উৎসাহিত করা উচিত, কারণ প্রবীণ রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে ‘জেন-জি’-র সংযোগ স্থাপন বা মন থেকে মেলানো কঠিন ।

তিনি বলেন, “আমার পরামর্শ হল নতুন, তরুণ এবং শিক্ষিত মুখগুলোকে সামনে নিয়ে আসা ।” এর আগে সোমবার, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)-এর নেতা অতুল লিমায়ে ‘নিট-ইউজি’ (NEET-UG) প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র বিক্ষোভের বিষয়টি বিশ্লেষণ বা এর প্রকৃত উদ্দেশ্য বোঝার আহ্বান জানান ।

তিনি অভিযোগ করেন, এই আন্দোলনে বেশকিছু বিদেশি ও রাজনৈতিক শক্তি ‘অনুপ্রবেশ’ করেছিল এবং তারা গণতান্ত্রিক উপায়ে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার ধারণা প্রচার করেছিল । ৩০ জুলাই ছত্রপতি সম্ভাজিনগরে এবিভিপি (ABVP)-র এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় আরএসএস নেতা অভিযোগ করেন, সিজেপি-র মঞ্চ থেকে হিন্দুদের বিরোধিতা এবং দেশবিরোধী স্লোগান দেওয়া হয়েছিল । দীপকে মূলত মারাঠওয়াড়া অঞ্চলেরই বাসিন্দা । তিনি যখন সিজেপি শুরু করেন, তখন সোশাল মিডিয়ায় ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান; এরপর ৬ জুন ভারতে ফিরে পরের দিন আন্দোলন শুরু করেন ।