খ্রিস্টানদের ওপর সরাসরি আঘাত হানছে মোদি সরকার! বিদেশি অনুদান আইন বদল নিয়ে আমেরিকার কড়া নিশানা

ভারতের অভ্যন্তরীণ নীতি এবং মার্কিন কূটনৈতিক মহলের দ্বন্দ্বে ফের বিশ্ব রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকারের পক্ষ থেকে বিদেশি অনুদান (নিয়ন্ত্রণ) আইন বা FCRA-তে বড় ধরনের সংশোধনী প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে। আর এই আইনি প্রস্তাবকে ঘিরেই শুরু হয়েছে তুমুল টানাপোড়েন। মার্কিন কংগ্রেসের বিশিষ্ট সদস্য রাইলি মুর সরাসরি ভারতকে নিশানা করে দাবি করেছেন যে, প্রস্তাবিত এই এফসিআরএ সংশোধনী আদতে ভারতের খ্রিস্টান সম্প্রদায় এবং গির্জাগুলির ওপর এক সরাসরি আক্রমণ। শুধু তাই নয়, এই বিল পাস হলে দুই দেশের দীর্ঘদিনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়েও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে প্রকাশ্যেই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

চলমান বাদল অধিবেশনে ২০১০ সালের এফসিআরএ আইন সংশোধনের জন্য বিলটি পেশ করা হয়েছে। মোদি সরকারের এই পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করে সোশ্যাল মিডিয়ায় রাইলি মুর লিখেছেন যে, ভারতে খ্রিস্টধর্মের ইতিহাস সুপ্রাচীন। জিশু খ্রিস্টের পুনরুত্থানের মাত্র কয়েক দশক পরেই সন্ত টমাস মালাবার উপকূলে পৌঁছেছিলেন। এত দীর্ঘ ঐতিহ্য থাকা সত্ত্বেও ভারতীয় সংসদ যেভাবে এই সংশোধনী বিল পাস করার কথা ভাবছে, তার মাধ্যমে মূলত গির্জা এবং বিভিন্ন ধর্মীয় দাতব্য সংস্থাগুলির ওপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ কায়েম করার ফন্দি আঁটা হচ্ছে বলে তাঁর অভিযোগ। আমেরিকার এই প্রভাবশালী কংগ্রেস সদস্যের মতে, সরকারের এই পদক্ষেপ ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সুশীল সমাজের কাঠামোর ওপর বড় ধরনের হস্তক্ষেপ।

উল্লেখ্য, এফসিআরএ আইনটি মূলত বেসরকারি সংস্থা (NGO), দাতব্য প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা ও ধর্মীয় সংগঠনগুলির বিদেশি অনুদান গ্রহণ এবং তার সঠিক ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। বর্তমানে দেশজুড়ে হাজার হাজার এমন সংস্থা সক্রিয় রয়েছে, যারা বৈদেশিক অনুদানের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। নতুন সংশোধনী প্রস্তাবে বলা হয়েছে যে, সরকারের নিযুক্ত বিশেষ কর্তৃপক্ষের হাতে থাকবে কোনো সংস্থার রেজিস্ট্রেশন বাতিল বা নবীকরণের একচ্ছত্র ক্ষমতা। পাশাপাশি, পূর্ববর্তী দুই অর্থবর্ষে যে সমস্ত সংস্থার বৈদেশিক অনুদান ১০ লক্ষ টাকার কম, তারা রেজিস্ট্রেশন নবীকরণের অযোগ্য বলে বিবেচিত হবে। অনুদান হস্তান্তরের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ এবং স্বচ্ছতার শর্তও জুড়ে দেওয়া হয়েছে। সরকারের দাবি, এই সংশোধনের উদ্দেশ্য আর্থিক স্বচ্ছতা আনা। তবে কেরলসহ বিভিন্ন অঞ্চলের খ্রিস্টান সংগঠনগুলির মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, যা দুই দেশের সম্পর্কে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।