রাজ্যে কি বাড়তে চলেছে ২১টি নতুন লোকসভা আসন? জল্পনার মধ্যেই এল বড় আপডেট

সংসদে দাঁড়িয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এর আগে রাজ্যে রাজ্যে লোকসভা আসন বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গ কি তেমনই কোনো পরিবর্তনের সাক্ষী থাকতে চলেছে? সাম্প্রতিক রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে। সূত্রের খবর অনুযায়ী, রাজধানীর বঙ্গভবনে মঙ্গলবার তৃণমূলের বিদ্রোহী গোষ্ঠী তথা অধুনা এনসিপিআই (NCPI) সাংসদদের সঙ্গে একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এই বৈঠকে নাকি রাজ্যে লোকসভা আসন সংখ্যা বাড়ার সম্ভাবনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, রাজ্যে আসন সংখ্যা বাড়লে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় বা জুন মালিয়াদের মতো হেভিওয়েট নেতাদের পরবর্তী নির্বাচনে লড়তে কোনো সমস্যাই হবে না, এমন ইঙ্গিতই নাকি দেওয়া হয়েছে এই বৈঠকে।
বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের ঝুলিতে রয়েছে মোট ৪২টি লোকসভা আসন। তবে এনসিপিআই সূত্রের দাবি, আসন্ন আসন পুনর্বিন্যাস প্রক্রিয়ার পর এই সংখ্যা বেড়ে সরাসরি ৬৩-তে পৌঁছাতে পারে। অর্থাৎ, নতুন করে প্রায় ২১টি আসন সংযোজিত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। বঙ্গভবনের বিশেষ বৈঠকে উপস্থিত সাংসদদের উদ্দেশে এই বিষয়টিকে সামনে রেখেই বিশেষ বার্তা দেওয়া হয়েছে বলে খবর। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের ধারণা, যদি সত্যিই রাজ্যে ২১টি নতুন আসন যুক্ত হয়, তবে তা আগামী রাজনৈতিক সমীকরণে এক বিরাট পরিবর্তন নিয়ে আসবে। মঙ্গলবার নয়াদিল্লির বঙ্গভবনে দুই দফায় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বৈঠক করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। বেসুরো এনসিপিআই-এর তিন সাংসদ সমেত প্রায় ১৯ জন সাংসদকে নিয়ে এই আলোচনা হয়।
দিনের বিভিন্ন দফার বৈঠকের পর রাতে বঙ্গভবনের ৪০৪ নম্বর ঘরেও বেশ কয়েকজন এনসিপিআই সাংসদের সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক করেন তিনি। এই গোপন ও ম্যারাথন বৈঠকে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, মালা রায় এবং ইউসুফ পাঠানদের মতো হেভিওয়েট নেতারা উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। এনসিপিআই শিবিরে ভাঙন ও জল্পনার মাঝেই শুভেন্দু অধিকারীর এই পাল্টা রণকৌশল রাজ্য রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ সৃষ্টি করেছে। যদিও বৈঠকে অংশগ্রহণকারী সাংসদদের দাবি, এই সাক্ষাতের মূল উদ্দেশ্য ছিল নিজ নিজ লোকসভা এলাকার বিভিন্ন স্থানীয় সমস্যা ও উন্নয়নের বকেয়া ইস্যুগুলি মুখ্যমন্ত্রীর (নাকি সংশ্লিষ্ট বিরোধী নেতার) গোচরে আনা। এর পাশাপাশি, খুব শীঘ্রই নবান্নে আবারও এনসিপিআই সাংসদদের সঙ্গে এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হতে পারে বলে জানিয়েছেন সাংসদ শতাব্দী রায়।