বিয়ের উপহারে সোনা ও সিল্কের শাড়ি! তামিলনাড়ুতে টিএভেকে সরকারের প্রথম বাজেটেই বাম্পার ঘোষণা!

তামিলনাড়ুর সাধারণ মানুষের জন্য এবারের বাজেট একঝাঁক বড় এবং দারুণ স্বস্তির খবর নিয়ে এসেছে। মুখ্যমন্ত্রী সি. জোসেফ বিজয়ের নেতৃত্বাধীন টিএভেকে (TVK) সরকার তাদের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করেছে। অর্থমন্ত্রী মেরি উইলসন বুধবার বিধানসভায় আর্থিক বছর ২০২৬-২৭-এর এই সুনির্দিষ্ট বাজেট পেশ করেন। এই বাজেটে সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষ—বিশেষ করে নারী সমাজ, নবজাতক শিশু থেকে শুরু করে স্কুল ও কলেজের ছাত্রছাত্রীদের জন্য সরকারি কোষাগার খুলে দেওয়া হয়েছে। খাঁটি সোনার কয়েন থেকে শুরু করে বিনামূল্যে উচ্চমানের ল্যাপটপ, সরকার সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ও ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে একাধিক যুগান্তকারী জনকল্যাণমূলক ঘোষণা করেছে।

বিয়ে শাদির মতো সামাজিক অনুষ্ঠানে খরচের মাত্রা দিন দিন বেড়েই চলেছে, যা অনেক সময় মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র পিতা-মাতার জন্য ভীষণ কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এই আর্থিক চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে সরকার এক বিশেষ উপহারমূলক প্রকল্পের ঘোষণা করেছে। অর্থমন্ত্রী বিধানসভায় জানান যে, এখন থেকে রাজ্যের যুবতীদের বিবাহের সময় সরকারের পক্ষ থেকে উপহার হিসেবে আট গ্রাম ওজনের সোনার কয়েন দেওয়া হবে। এর পাশাপাশি নববধূকে একটি ঐতিহ্যবাহী রেমেশি শাড়িও প্রদান করা হবে। গোটা রাজ্যে অত্যন্ত সুষ্ঠুভাবে এই জনকল্যাণমূলক প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য বাজেটে ৮১২ কোটি টাকার বিশেষ আর্থিক বরাদ্দের সংস্থান করা হয়েছে।

শুধু বিবাহযোগ্য যুবতীরাই নন, বরং নবজাতক শিশুদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে এক অনন্য ও অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ‘থাই মামান থাঙ্গা মোধিরা থिट্টম’ নামের এই নতুন প্রকল্পের আওতায় রাজ্যের যেকোনো সরকারি হাসপাতালে জন্মগ্রহণকারী শিশুদের উপহার হিসেবে এক গ্রাম ওজনের একটি সোনার আংটি দেওয়া হবে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো গরিব ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর প্রসবের জন্য আধুনিক সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রগুলির দিকে আকৃষ্ট করা। সমাজের প্রান্তিক স্তরে এই বিশেষ সুফল পৌঁছে দিতে ৫৬০ কোটি টাকার বিশাল অঙ্কমূল্যের তহবিল বরাদ্দ করা হয়েছে।

আজকের ডিজিটাল যুগে দেশের তরুণ প্রজন্মকে আধুনিক প্রযুক্তি ও উচ্চশিক্ষার সাথে নিবিড়ভাবে যুক্ত করতে বাজেটে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ‘ভেট्री মডিকনিনী থिट্টম’ শীর্ষক উচ্চাভিলাষী প্রকল্পের মাধ্যমে কলেজপড়ুয়া ছাত্রছাত্রীদের হাতে তুলে দেওয়া হবে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে একটি করে আধুনিক ল্যাপটপ। ডিজিটাল যুগে পড়াশোনাকে আরও সহজলভ্য করতে এই প্রকল্পে ৩,০০০ কোটি টাকার ভারী তহবিল রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, জেন-জেড (Gen Z) প্রজন্মের স্কুলপড়ুয়াদের যাতায়াতের সুবিধার জন্য বিনামূল্যে সাইকেল দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ছাত্রছাত্রীদের সর্বোচ্চ সড়ক সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে প্রতিটি সাইকেলের সাথে একটি উন্নতমানের হেলমেট এবং বোতল হোল্ডারের মতো প্রয়োজনীয় সুরক্ষাসামগ্রীও প্রদান করা হবে। স্কুলছাত্রদের এই জনমুখী প্রকল্পে মোট ৭৭৭ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে।

এই সমস্ত জনকল্যাণমূলক ও সামাজিক সুরক্ষামূলক প্রকল্পের পাশাপাশি রাজ্যের সামগ্রিক অর্থনৈতিক বিকাশকে একটি নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার সুদূরপ্রসারী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী মেরি উইলসন স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, ২০৩৬ সালের মধ্যে সমগ্র তামিলনাড়ু রাজ্যকে ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের একটি শক্তিশালী অর্থনীতিতে রূপান্তরিত করা হবে। এই বাজেট রাজ্যের পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং জনমুখী নীতির এক অপূর্ব মেলবন্ধন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।