ফের ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজে মারাত্মক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা! ইয়েমেন উপকূলে জলের তলায় তলিয়ে গেল জাহাজ

ফের ভারতীয় পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজে মারাত্মক হামলার ঘটনা ঘটল। ইয়েমেন উপকূলে লোহিত সাগরে এমএসভি ফৈজ নূর ওলিয়া (MSV Faiz Noor Olia) নামের একটি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। এই আকস্মিক ও বিনা প্ররোচনার হামলায় জাহাজটি সম্পূর্ণ ডুবে যায়। তবে আশার কথা এই যে, জাহাজে থাকা ১৩ জন ভারতীয় নাগরিকসহ মোট ১৪ জন নাবিককে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। এই বিপজ্জনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তাৎক্ষণিক বিবৃতি জারি করেছে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক।
ঘটনার দিন রাতেই কেন্দ্রীয় জাহাজ মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল তাঁর অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে এই হামলার খবর প্রকাশ্যে আনেন। এর ঠিক পরেই বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক কড়া বিবৃতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, ৪ আগস্ট ইয়েমেন উপকূলে এই ন্যক্কারজনক হামলা চালানো হয়েছে। রিয়াধে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস গোটা পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজরদারি রাখছে এবং ইয়েমেন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে চলেছে। ভারতীয় নাগরিকদের দ্রুত উদ্ধার ও সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য ইয়েমেন কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়েছে নয়াদিল্লি।
গত বেশ কিছুদিন ধরে আন্তর্জাতিক এই জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজগুলিকে নিশানা করে লাগাতার হামলা চালানো হচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই বিষয়ে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র স্পষ্টভাষায় জানান যে, এই ধরনের বেপরোয়া আক্রমণ অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইন মেনে এই জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজগুলির মুক্ত, নিরাপদ ও বাধাহীন চলাচল দ্রুত পুনর্বহাল করার জোর দাবি জানিয়েছে ভারত। এর আগে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে সংঘাতের জেরে সমুদ্রপথে জাহাজে হামলার প্রবণতা বেড়েছে, যা বিশ্ব বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এক বিরাট চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কেন্দ্রীয় জাহাজ ও বন্দর মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল জানিয়েছেন যে, নিরস্ত্র ও সাধারণ বাণিজ্যিক জাহাজে এই ধরনের অযাচিত হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে ভারত সরকার। ভারতীয় নাগরিকদের সুরক্ষা এবং নিরাপত্তা সরকারের কাছে সবসময়েই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পেয়ে থাকে। তিনি আরও জানান যে, উদ্ধার হওয়া ১৩ জন ভারতীয়সহ ১৪ জন নাবিককে বর্তমানে মোখা বন্দরে নিরাপদে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। মেরিটাইম অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের ডিরেক্টর জেনারেলকে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির সঙ্গে যৌথভাবে যোগাযোগ রেখে ওই অঞ্চলে কর্মরত সকল ভারতীয় নাবিকদের সার্বিক সুরক্ষা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা অবিলম্বে নিশ্চিত করা হয়।