এক প্লেট নানের দাম ১৮০ টাকা! দাম শুনেই খদ্দেরের মাথা গরম, ধাবায় চলল বেধড়ক কিল-ঘুষি!

পাঞ্জাবের জলন্ধর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় এক তুফানতুলকালাম হট্টগোল ও মারামারির ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে। অমৃতসর থেকে উনাগামী এক ব্যক্তি পথিমধ্যে জলন্ধর বাসস্ট্যান্ডের বিখ্যাত ‘জ্ঞানী দা ধাবা’-য় নান খেতে থামেন। তিনি দুটি নান অর্ডার করেন এবং খাবার শেষে বিল চাওয়ার পর মালিক এক প্লেট নানের দাম ১৮০ টাকা দাবি করেন। এত চড়া দাম শুনে ক্রেতা অবাক হয়ে যান এবং প্রতিবাদ করলে মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তর্কের এক পর্যায়ে পরিস্থিতি এতটাই মারাত্মক আকার ধারণ করে যে খদ্দের ও ধাবা মালিকের মধ্যে তুমুল হাতাহাতি শুরু হয়ে যায়। উভয় পক্ষই একে অপরকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি লাথি ও ঘুষি ছুড়তে শুরু করে, যা দেখে উপস্থিত পথচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পুরো মারামারির এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটির একটি ভিডিও ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় হু হু করে ভাইরাল হয়েছে। ভাইরাল হওয়া ভিডিও ফুটেজে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে যে, দোকানদার ক্রেতাকে সজোরে চড় মারছেন এবং দুই পক্ষের মধ্যে মারপিট চলছে। এই ধস্তাধস্তিতে ক্রেতার কপালে গুরুতর আঘাত লাগে এবং তাঁর জামাকাপড়ও ছিঁড়ে যায়। ঘটনার আকস্মিকতায় পুরো বাসস্ট্যান্ড চত্বরে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে শেষ পর্যন্ত উভয় পক্ষই আইনি পদক্ষেপের জন্য স্থানীয় থানায় হাজির হয় এবং একে অপরের বিরুদ্ধে পালটা অভিযোগ দায়ের করে।
ঘটনার বিষয়ে ধাবার মালিক হরজিন্দর সিং সাফাই দিয়ে দাবি করেছেন যে, একটি নান রুটির দাম ৯০ টাকা হিসেবে দুটি নানের দাম ১৮০ টাকাই ধার্য করা হয়েছে। তাঁর আরও গুরুতর অভিযোগ, ওই ক্রেতা মদ্যপ অবস্থায় ধাবায় এসেছিলেন এবং অকারণে ঝামেলা পাকাচ্ছিলেন। ক্রেতা যখন ধাবায় দামের কোনো নির্দিষ্ট তালিকা (মেনু কার্ড) না থাকার বিষয়ে জানতে চান, তখন ধাবা মালিকের যুক্তি ছিল যে আশপাশের অন্য কোনো ধাবায় বা দোকানেও দামের তালিকা টাঙানো থাকে না। এছাড়া, ক্রেতাই তাঁর জামাকাপড় ছিঁড়ে দিয়েছেন বলে পালটা অভিযোগ তোলেন ধাবা মালিক। তবে ক্যামেরার সামনে হাতাহাতির বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে হরজিন্দর সিং সেই প্রসঙ্গ সরাসরি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এই বিষয়ে স্থানীয় থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, মারামারির ঘটনায় উভয় পক্ষের বক্তব্যই সমান গুরুত্ব দিয়ে রেকর্ড করা হচ্ছে এবং প্রাপ্ত প্রমাণের ভিত্তিতে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।