ভারত-চীন সীমান্তে বড় ধাক্কা! ডোকলামের কাছে নতুন রেললাইন, কৌশলগত চালে কাঁপবে প্রতিপক্ষ

ডুয়ার্সের সবুজ অরণ্য, পাহাড়ি নদী আর মেঘে মোড়া প্রকৃতির বুক চিরে এবার চেন্নাই এক্সপ্রেসের মতো রোমাঞ্চকর কায়দায় ছুটবে ট্রেন। উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের আলিপুরদুয়ার ডিভিশনের অধীনে চালসার খুনিয়া মোড় থেকে জলঢাকা পর্যন্ত ১৭ কিলোমিটার নতুন রেলপথ নির্মাণে প্রায় ২৭২ কোটি টাকা অনুমোদন করেছে রেল মন্ত্রক। সম্প্রতি এই প্রকল্পের ঘোষণা করেছেন দার্জিলিংয়ের বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তা। প্রস্তাবিত এই রেলপথ জলপাইগুড়ি ও কালিম্পং বন বিভাগের সংবেদনশীল এলাকা এবং চাপড়ামারি বন্যপ্রাণ অভয়ারণ্যের পাশ দিয়ে অতিক্রম করবে। ফলে একদিকে যেমন সীমান্তবর্তী দুর্গম এলাকায় দ্রুত যোগাযোগ সম্ভব হবে, তেমনই সামরিক প্রস্তুতির সক্ষমতাও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।

এতদিন জলঢাকা, ঝালং, বিন্দু, টোডে কিংবা টাংটার মতো মনোরম পাহাড়ি এলাকায় পৌঁছতে একমাত্র ভরসা ছিল সড়কপথ। দীর্ঘ পথ, অনিশ্চিত আবহাওয়া এবং পাহাড়ি রাস্তার কারণে পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ভোগান্তি ছিল নিত্যদিনের সঙ্গী। নতুন এই রেললাইন চালু হলে সেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে। স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের যাতায়াত যেমন সহজ হবে, তেমনই জলঢাকা-ঝালং-বিন্দু সার্কিটে পর্যটকদের ভিড় হু-হু করে বাড়বে। এর ফলে হোমস্টে ব্যবসা, ছোট দোকান, কৃষিজ ও বনজ পণ্য পরিবহণে নতুন গতির সঞ্চার হবে এবং এলাকার বেকার যুবকদের জন্য কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই প্রকল্পের কৌশলগত গুরুত্ব অপরিসীম। জলঢাকা নদীর উৎস সিকিমের কুপুপ এলাকায়, যা কৌশলগতভাবে ডোকলাম ও ভারত-চীন-ভুটান ত্রিদেশীয় সীমান্তের অত্যন্ত কাছাকাছি অবস্থিত। ২০১৭ সালের দীর্ঘ ডোকলাম অচলাবস্থার অভিজ্ঞতার পর সীমান্তে দ্রুত সেনা, রসদ ও ভারী সামরিক সরঞ্জাম পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এই রেল যোগাযোগ এক টার্নিং পয়েন্ট হতে পারে। চীন ইতিমধ্যেই তিব্বত সীমান্ত পর্যন্ত তাদের রেলপথ সম্প্রসারণ করেছে। অন্যদিকে ভারতও সেবক-রংপো রেল প্রকল্প দ্রুত সমাপ্ত করার পথে এগোচ্ছে। খুনিয়া মোড় থেকে জলঢাকা হয়ে ভবিষ্যতে সীমান্তমুখী এই রেল যোগাযোগ ভারতের সামগ্রিক প্রতিরক্ষা পরিকাঠামোকে আরও অনেক বেশি শক্তিশালী করবে।

এই প্রকল্পকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও ইতিবাচক সাড়া মিলেছে। তৃণমূল নেতা সঞ্জয় কুজুর এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে জানিয়েছেন যে রেলপথ তৈরি হলে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি ব্যবসা ও পর্যটন শিল্পের বিরাট লাভ হবে। আলিপুরদুয়ারের সাংসদ মনোজ টিজ্ঞাও এই প্রকল্পের ভূয়সী প্রশংসা করে একে সীমান্ত এলাকার সার্বিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। সীমান্ত সুরক্ষা, পর্যটনের প্রসার এবং উত্তরবঙ্গের সার্বিক আর্থ-সামাজিক বিকাশ—সব মিলিয়ে খুনিয়া মোড় থেকে জলঢাকা পর্যন্ত এই নতুন রেলপ্রকল্প এই অঞ্চলের ভবিষ্যতের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে চলেছে। এখন দেশবাসীর নজর শুধু এই প্রকল্পের বাস্তবায়নের দিকে।