ডিএ মামলার বড় ধাক্কা! মাত্র ১৫ দিনেই কর্মীদের বকেয়া মেটানোর কড়া নির্দেশ হাইকোর্টের!

পাঞ্জাবের সরকারি কর্মচারীদের জন্য এক স্বস্তিদায়ক ও বড় খবর সামনে এসেছে। মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (DA) সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলায় পাঞ্জাব সরকারের দায়ের করা আপিল খারিজ করে দিয়েছে পাঞ্জাব-হরিয়ানা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। এর পাশাপাশি, আদালত সিঙ্গেল বেঞ্চের আগের রায় বহাল রেখে স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছে যে, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সমস্ত কর্মচারীদের সমস্ত বকেয়া ডিএ-র টাকা পরিশোধ করতে হবে। এই ঐতিহাসিক রায়ের ফলে রাজ্যের লক্ষাধিক সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগী বিরাট স্বস্তি পেলেন।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি অশ্বনী কুমার মিশ্র এবং বিচারপতি রোহিত কাপুরের ডিভিশন বেঞ্চ পাঞ্জাব সরকার এবং পাঞ্জাব স্টেট পাওয়ার কর্পোরেশন লিমিটেড (PSPCL)-এর করা আপিলগুলো খারিজ করার সময় এই কঠোর নির্দেশ দেয়। ইতিপূর্বে সিঙ্গেল বেঞ্চের বিচারপতির দেওয়া রায়কে চ্যালেঞ্জ করেই এই আপিলগুলি দায়ের করা হয়েছিল। কর্মচারীদের আইনজীবী গণমাধ্যমে জানিয়েছেন যে, আদালতের এই সিদ্ধান্ত সরকারি কর্মীদের দীর্ঘদিনের দাবির একটি বড় জয়। এখন পাঞ্জাব সরকারের হাতে মাত্র ১৫ দিন সময় রয়েছে এবং এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই তাদের বকেয়া ডিএ মেটাতে হবে। অন্যথায় বড় আর্থিক জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে রাজ্য প্রশাসনকে।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ৮ এপ্রিল সিঙ্গেল বেঞ্চের একটি রায়ে রাজ্য সরকার ও PSPCL-কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সমস্ত কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা এবং মহার্ঘ ত্রাণ (DR)-এর কিস্তিগুলি মিটিয়ে দিতে হবে। এই অর্থ প্রদানের হার পাঞ্জাবে কর্মরত ‘অল ইন্ডিয়া সার্ভিসেস’-এর অর্থাৎ আইএএস, আইপিএস এবং আইএফএস (IAS/IPS/IFS) ক্যাডারদের জন্য প্রযোজ্য হারের সমতুল্য হতে হবে। কিন্তু রাজ্য সরকার সেই নির্দেশ মেনে না চলায় মামলা গড়ায় ডিভিশন বেঞ্চে।

আজ ডিভিশন বেঞ্চ নতুন করে নির্দেশ জারি করে জানিয়েছে যে, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে বকেয়া ডিএ-র সমস্ত অর্থ মিটিয়ে দিতে হবে। যদি এই নির্দেশ অমান্য করা হয়, তবে বকেয়া অর্থের উপর বার্ষিক ৬ শতাংশ হারে অতিরিক্ত সরল সুদ প্রদান করতে হবে রাজ্য সরকারকে। এমনকি, চলতি মাসের শেষ নাগাদ এই নির্দেশ পালনের বিষয়ে হাইকোর্টে একটি কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট বা প্রতিও জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, আদালত রাজ্য সরকারকে আরও একটি কঠোর শর্ত দিয়েছে। এই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া চলাকালীন পাঞ্জাব সরকার কোনো ধরনের সরকারি বিজ্ঞাপন প্রকাশ করতে পারবে না। সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের অভিমত, সরকারি কোষাগারের অপ্রয়োজনীয় খরচ রোধ করা এবং কর্মচারীদের পাওনা মেটানোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার লক্ষ্যেই আদালত এই অত্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।