দেশীয় প্রতিরক্ষায় ঐতিহাসিক মাইলফলক! নৌবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হল ডিএসভি ‘নিপুণ’

দেশীয় প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনের ক্ষেত্রে ভারতীয় নৌবাহিনী (Indian Navy) আরও একটি ঐতিহাসিক ও গৌরবোজ্জ্বল মাইলফলক স্পর্শ করল। হিন্দুস্তান শিপইয়ার্ড লিমিটেড (HSL)-এর উদ্যোগে নির্মিত দ্বিতীয় অত্যাধুনিক ডাইভিং সাপোর্ট ভেসেল (DSV) ‘নিপুণ’ আনুষ্ঠানিকভাবে বিশাখাপত্তনমে ভারতীয় নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। জাহাজটি সম্পূর্ণভাবে ‘ইন্ডিয়ান রেজিস্টার অফ শিপিং’ (IRS)-এর কঠোর শ্রেণিবিন্যাস সংক্রান্ত নিয়মাবলী ও আন্তর্জাতিক মান মেনে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে নকশা ও নির্মাণ করা হয়েছে।
প্রায় ৭৫ শতাংশ দেশীয় উপাদান বা ইন্ডিজেনাস কন্টেন্ট ব্যবহার করে নির্মিত এই শক্তিশালী ডিএসভি (DSV)—’নিপুণ’—গভীর সমুদ্রে যেকোনো ধরনের জটিল ডাইভিং কার্যক্রম এবং জরুরি অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানের সক্ষমতাকে বহুগুণ জোরদার করবে। ‘নিপুণ’ নামটি মূলত সংস্কৃত ভাষা থেকে উদ্ভূত, যার সঠিক অর্থ হলো—যিনি কোনো নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে অত্যন্ত দক্ষ, সক্ষম ও পারদর্শী। নামের সম্পূর্ণ যথার্থতা বজায় রেখে, এই জলযানটি প্রযুক্তিগত দিক থেকে অত্যন্ত অনন্য এবং এটি গভীর সমুদ্রে ডুবুরি-সংক্রান্ত জটিল কার্যক্রম ও সামুদ্রিক উদ্ধারকাজ পরিচালনায় পুরোপুরি সক্ষম।
গভীর সমুদ্রে স্যাচুরেশন ডাইভিংয়ের অভাবনীয় সক্ষমতা সম্পন্ন এই জলযানটি সর্বাধুনিক ডাইভিং সরঞ্জাম ও প্রযুক্তিতে সুসজ্জিত। গভীর সমুদ্রে নির্বিঘ্নে স্যাচুরেশন ডাইভিং পরিচালনার জন্য এতে একটি বিশেষ ‘সাইড ডাইভিং স্টেজ’-এরও সুব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া, রিমোটলি অপারেটেড ভেহিকেল বা আরওভি (ROV)-এর আধুনিক ব্যবহার ডুবুরিদের গতিবিধির ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখতে এবং গভীর সমুদ্রের নিচে উদ্ধারকাজে মানবীয় ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে, যা এই জলযানটির অপারেশনাল কার্যক্ষমতাকে বহুলাংশে বাড়িয়ে দিয়েছে।
পাশাপাশি, এই জাহাজটি একটি ‘মাদারশিপ’ বা মূল জাহাজ হিসেবেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এটি ‘ডিপ সাবমার্জেন্স রেসকিউ ভেসেল’ (DSRV)-এর জন্য মাদারশিপ হিসেবে কাজ করে সাবমেরিন সংক্রান্ত যেকোনো চরম জরুরি পরিস্থিতিতে আটকে পড়া কর্মীদের নিরাপদে উদ্ধার করতে সাহায্য করবে। ‘নিপুণ’-এর এই হস্তান্তর ভারতীয় নৌবাহিনীর নিজস্ব প্রযুক্তিতে যুদ্ধজাহাজ ও জলযান নির্মাণের দীর্ঘমেয়াদি প্রচেষ্টায় একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। প্রায় ৭৫ শতাংশ দেশীয় কাঁচামাল ও প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে এটি কেন্দ্র সরকারের ‘আত্মনির্ভর ভারত’ ও ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ ভিশনকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল। গভীর সমুদ্রে ডাইভিং বা ডুব-অভিযানের বিশেষ ক্ষেত্রে ভারতীয় নৌবাহিনীর সার্বভৌম শক্তি ও মুন্সিয়ানা জোরদার করার পথে এই ঐতিহাসিক হস্তান্তর এক সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপ।