সরকারি সাহায্য মেলার আগেই মর্মান্তিক পরিণতি! মগরায় বৃষ্টিতে মাটির বাড়ি ভেঙে মৃত্যু বাবা-মেয়ের

আবাস যোজনার ঘর বরাদ্দ হওয়া সত্ত্বেও সম্পূর্ণ টাকা না মেলায় পাকা বাড়ি তৈরির কাজ শেষ করতে পারেননি এক গরিব ব্যক্তি। অর্থের অভাবে বাধ্য হয়েই তাঁকে মাটির ঘরে বসবাস করতে হচ্ছিল। আর সেই মাটির ঘরই কাল হলো! গত কয়েকদিনের লাগাতার ভারী বর্ষণে দেওয়াল ধসে মৃত্যু হলো বাবা ও তাঁর ১২ বছরের মেয়ের। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে হুগলি জেলার মগরা থানার গজঘণ্টা মালিক পাড়া এলাকায়। মৃতদের নাম গৌর মালিক (৫৬) এবং মাম মালিক (১২)। পেশায় সবজি বিক্রেতা গৌর মালিকের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনার খবর পেয়ে মগরা থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দু’জনের মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চুঁচুড়া ইমামবাড়া সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার রাত প্রায় দুটো নাগাদ হঠাৎই এক বিকট শব্দ শুনতে পান প্রতিবেশীরা। সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা ঘর থেকে বাইরে বেরিয়ে দেখেন যে গৌর মালিকের পুরোনো মাটির বাড়িটি সম্পূর্ণ ভেঙে ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারাই প্রথমে নিজেদের উদ্যোগে উদ্ধারকাজ শুরু করেন এবং তৎক্ষণাৎ মগরা থানায় খবর দেন। খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে এসে পুরোদমে উদ্ধারকাজ শুরু করে। অবশেষে ঘরের ধংসস্তূপ বা ভেঙে পড়া দেওয়ালের মাটি সরিয়ে বাবা গৌর মালিক ও তাঁর কচি মেয়ে মাম মালিকের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে অভিযোগ উঠেছে, মগরা দু’নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে গৌর মালিকের নামে পাকা ঘর তৈরির জন্য ‘আবাস যোজনা’র বাড়ি বরাদ্দ করা হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, সেই আবাসের বাড়ি তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় পুরো টাকা পঞ্চায়েতের তরফে সময়মতো দেওয়া হয়নি। প্রথম কিস্তির টাকা পেতেও চরম গড়িমসি করা হয়েছিল। পরবর্তীতে কোনোরকমে কিছু টাকা হাতে পেলেও তা সম্পূর্ণ ছিল না। সেই অপ্রতুল টাকা দিয়েই গৌরবাবু পাকা বাড়ি তৈরির কাজ শুরু করলেও, দ্বিতীয় ধাপের বা পরের কিস্তির টাকা আর তাঁর হাতে এসে পৌঁছায়নি। ফলে তাঁর সেই আবাস যোজনার বাড়িটি দীর্ঘদিন ধরে অর্ধসমাপ্ত বা অসম্পূর্ণ অবস্থাতেই পড়ে ছিল। নিরুপায় হয়ে ওই প্রৌঢ় তাঁর ছোট মেয়েকে নিয়ে ওই জীর্ণ মাটির ঘরেই বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছিলেন। গত তিন-চার দিন ধরে চলা লাগাতার বৃষ্টির জেরে ওই মাটির দেওয়ালগুলি মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছিল এবং শেষমেশ তা হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনা ঘটে।

মৃত গৌর মালিকের ছেলে প্রসেনজিৎ মালিক কাজের সূত্রে বাইরে থাকেন। ভেঙে যাওয়া ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়ে জানান, “প্রতিবেশীরা রাতে ফোন করে আমাকে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার কথা জানায়। গত পরশু দিনই বাবার সঙ্গে আমার প্রায় এক ঘণ্টা ফোনে কথা হয়েছিল। আমি ঠিক করেছিলাম এই রবিবার বাড়ি গিয়ে বাবাকে কিছু টাকা দিয়ে আসব। আমি কাজের সূত্রে গত ১০-১২ বছর ধরে বাড়ির বাইরে থাকি। আমি বাবাকে অনেকবার বলেছিলাম পুরোনো মাটির দেওয়ালটা ফেলে দিয়ে সেখানে বাঁশ দিয়ে ঘিরে সাময়িক থাকার ব্যবস্থা করতে, কিন্তু বাবা আমার কথা শোনেনি। শেষ পর্যন্ত এমন একটা দুর্ঘটনা ঘটে গেল!”