কূটনৈতিক মহলে শোরগোল! দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সম্ভাব্য ভারত সফরে আসছেন চিনা প্রেসিডেন্ট, বড় মোড় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে

গালওয়ান উপত্যকার রক্তক্ষয়ী সামরিক সংঘর্ষের জেরে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক একেবারে তলানিতে ঠেকে যাওয়ার দীর্ঘ ছয় বছর পর, অবশেষে ভারতে পা রাখতে চলেছেন চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। আগামী সেপ্টেম্বর মাসে ভারতের রাজধানী নতুন দিল্লিতে আয়োজিত হতে চলা মর্যাদাপূর্ণ ব্রিকস (BRICS) শিখর সম্মেলনে যোগদানের উদ্দেশ্যে তাঁর এই সম্ভাব্য ভারত সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও দূরদূরান্তের রাজনৈতিক প্রভাবসম্পন্ন বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, আগামী ১২ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর এই হাই-প্রোফাইল সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। পূর্ব লাদাখ সীমান্তে রক্তক্ষয়ী উত্তেজনার পর দীর্ঘ বছর ধরে চলা সামরিক অচলাবস্থা কাটিয়ে এবং দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যকার বরফ গলানোর প্রক্রিয়ায় চিনা প্রেসিডেন্টের এই সফরকে একটি অত্যন্ত বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রসঙ্গত, ২০১৩ সাল থেকে চিনের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে থাকা শি জিনপিং এর আগে মোট তিনবার ভারত সফর করেছেন। তাঁর সর্বশেষ ভারত সফরটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৯ সালের অক্টোবর মাসে, যার ঠিক পরেই প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (LAC) বরাবর ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক সামরিক সংঘাতে দুই দেশের সম্পর্কে গভীর ফাটল ও দূরত্ব তৈরি হয়েছিল।

এদিকে, চিনা প্রেসিডেন্টের এই প্রস্তাবিত সফরের ঠিক আগে দুই প্রতিবেশী দেশই কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং উচ্চপর্যায়ের আলোচনা আরও বেশি মাত্রায় বাড়াতে চলেছে বলেই খবর মিলছে। খুব শীঘ্রই দ্বিপাক্ষিক নানা কৌশলগত ও সীমান্ত সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের আলোচনার জন্য চিনে যাওয়ার কথা রয়েছে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (NSA) অজিত ডোভালের। পাশাপাশি, সীমান্ত বিষয়ক পরামর্শ ও সমন্বয় ব্যবস্থার (WMCC) পরবর্তী বৈঠক এবং দুই দেশের বিশেষ প্রতিনিধিদের (Special Representatives) মধ্যকার সীমান্ত সংক্রান্ত ধারাবাহিক আলোচনাও আগামী দিনে নির্ধারিত রয়েছে। সীমান্ত সংক্রান্ত দীর্ঘস্থায়ী এই বিরোধ মেটানোর পাশাপাশি রাজনৈতিক ও সামরিক স্তরে আলোচনার পথ সুগম ও প্রশস্ত করতে এই বৈঠকগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও ভূ-রাজনীতি বিশেষজ্ঞদের মতে, চিনা প্রেসিডেন্টের এই সম্ভাব্য সফরটি কেবল একটি নিয়মিত ব্রিকস সম্মেলনের পরিধির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক বা ট্যারিফ নীতি এবং পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান তীব্র ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার বর্তমান প্রেক্ষাপটে এশিয়া তথা বিশ্বমঞ্চে এই দুই প্রভাবশালী দেশের পারস্পরিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশ নির্ধারণে অত্যন্ত বড় ভূমিকা পালন করবে। তবে এখনও পর্যন্ত নয়াদিল্লি বা বেজিং—কোনো পক্ষ থেকেই চিনা প্রেসিডেন্টের এই সফরের চূড়ান্ত রূপ বা দিনক্ষণ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি।