প্রধানমন্ত্রী মোদীকে কি এসসিও সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানাবে পাকিস্তান? জল্পনার মাঝেই মুখ খুলল ইসলামাবাদ!

দীর্ঘদিন ধরে বারবার আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদে মদত জুগিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে। পাকিস্তানের প্রত্যক্ষ মদতপুষ্ট হয়ে বিভিন্ন সময়ে এদেশে রক্ত ঝরানোর অপচেষ্টা চালিয়ে গেছে কুখ্যাত জঙ্গিরা। ভারতের পক্ষ থেকে একাধিক আন্তর্জাতিক মঞ্চে এই অভিযোগ তুলে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। সাম্প্রতিক অতীতে জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে সংঘটিত নৃশংস জঙ্গি হামলাকে কেন্দ্র করে ভারত ও পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটে। ওই বর্বরোচিত হামলার উপযুক্ত ও কঠোর জবাব দিতে ভারত সরকার পরাক্রমশালী ‘অপারেশন সিঁদুর’ অভিযানের সূচনা করে। এর পাশাপাশি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে আরও একাধিক কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে নয়াদিল্লি। যার জেরে আন্তর্জাতিক মহলে ও দেশের ভেতরে চরম অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়ে শেহবাজ শরিফের প্রশাসন। দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বর্তমানে তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। ঠিক এইরকম একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও উত্তপ্ত আবহে আগামী বছর এসসিও সম্মেলন বা সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (SCO) মেগা আসর বসতে চলেছে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে। প্রশ্ন উঠছিল, এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে কি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হবে? সম্প্রতি এই বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের স্পষ্ট ও সরাসরি জবাব দিয়েছে ইসলামাবাদ।

এ প্রসঙ্গে পাকিস্তান সরকারের বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে একটি সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে, “সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের সমস্ত সদস্য রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধান কিংবা সরকার-প্রধানদের সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী আমন্ত্রণ জানানো হবে। তাঁরা চাইলে নিজ নিজ দেশের সরকার-প্রধান পর্যায়েও এই সম্মেলনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। স্বাভাবিক নিয়মেই ভারতকেও এই আমন্ত্রণ জানানো হবে এবং আয়োজক দেশ হিসেবে এটি পাকিস্তানের একটি কাঠামোগত দায়িত্ব। আমরা আসন্ন এই শীর্ষ সম্মেলনে সকল সদস্য রাষ্ট্রের রাষ্ট্র ও সরকার-প্রধানদের আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানাব।”

উল্লেখ্য, গত বছর ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ের সুন্দর বৈসরন উপত্যকায় নিরীহ পর্যটকদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছিল পাঁচ সশস্ত্র জঙ্গি। ধর্মীয় পরিচয় নিশ্চিত করে ধরে ধরে মোট ২৬ জন মানুষকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়। নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই ছিলেন হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ, একজন ছিলেন খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী এবং অপরজন মুসলিম। অত্যাধুনিক M4 কার্বাইন এবং AK-47 রাইফেল দেগে গুলিতে ঝাঁঝরা করে দেওয়া হয়েছিল সকলকে। পরবর্তীতে এই কাপুরুষোচিত হামলার দায় স্বীকার করে নেয় ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ (The Resistance Front), যা মূলত পাকিস্তানের নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবারই একটি ছায়া শাখা। এই রক্তক্ষয়ী ঘটনার পরই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অত্যন্ত জোরালো ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে ভারত।

ওই বছরই ৭ মে গভীর রাতে ভারতীয় সেনা ঐতিহাসিক ‘অপারেশন সিঁদুর’ অভিযানের সফল সূচনা করে। পাক অধিকৃত কাশ্মীর (PoK) এবং খোদ পাকিস্তানের মূল ভূখণ্ডে আকস্মিক ও নিখুঁত আক্রমণ চালিয়ে জঙ্গিদের মোট নয়টি গোপন লঞ্চ প্যাড ও শিবির মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়। গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় পাকিস্তানের বাহওয়ালপুরে অবস্থিত সন্ত্রাসী সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদের প্রধান সদর দফতর মরকজ সুভান। উল্লেখ্য, এই ঘাঁটি থেকেই দীর্ঘদিন ধরে জঙ্গি নিয়োগ, শারীরিক ও অস্ত্র প্রশিক্ষণ থেকে শুরু করে যুবকদের মগজধোলাইয়ের কাজ চলত। পাশাপাশি, মুরিদকে-তে অবস্থিত লস্কর-ই-তৈবার প্রধান কেন্দ্র ‘মরকজ তৈবা’, শিয়ালকোটে হিজবুল মুজাহিদিনের ‘মেহমুনা জোয়া ক্যাম্প’, মুজফ্ফরাবাদে জইশের ‘সৈয়দনা বেলাল ক্যাম্প’, কোটলিতে লস্করের ‘গুলপুর ক্যাম্প’ ও ‘আব্বাস ক্যাম্প’, ভিম্বেরের অস্ত্র প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বরনালা ক্যাম্প এবং লস্করের ‘সাওয়া নালা ক্যাম্প’ একযোগে গুঁড়িয়ে দেয় ভারতীয় বাহিনী। ভারতীয় সেনার এই ধ্বংসলীলার পর পাকিস্তানের তরফে পাল্টা ঝাঁকে ঝাঁকে ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালানো হলেও, ভারত অত্যন্ত কড়া হাতে এবং দক্ষতার সঙ্গে তার উপযুক্ত মোকাবিলা করে।