মুখ্যমন্ত্রীর ওপর বড় হামলার ছক! বর্ধমান থেকে ধৃত জইশ জঙ্গি হামিদ মণ্ডলের চাঞ্চল্যকর তথ্য

রাজ্য রাজনীতিতে এক চরম চাঞ্চল্যকর ও ভীতিপ্রদ তথ্য সামনে এসেছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে হত্যার সুপরিকল্পিত ছক কষার অভিযোগে বর্ধমানের অভিজাত রেনেসাঁ আবাসন থেকে গ্রেফতার হয়েছে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন জৈশ-ই-মহম্মদের এক বিপজ্জনক সদস্য, হামিদ মণ্ডল। রাজ্য পুলিশ ও স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)-এর যৌথ সাঁড়াশি অভিযানে তাকে হাতেনাতে পাকড়াও করা হয়। ধৃতের কাছ থেকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর ভিআইপি মুভমেন্ট, নিরাপত্তা রুট, কনভয়ের গাড়ির বিবরণ, চালকের তথ্য এবং পার্কিংয়ের সমস্ত গোপনীয় তালিকা উদ্ধারের পর থেকেই রাজ্যজুড়ে চরম উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পূর্ব বর্ধমানের এই জনবহুল আবাসিক চত্বরে আত্মগোপনকারী হামিদ আদতে কাশ্মীরের বাসিন্দা। তবে সে নিজের আসল পরিচয় গোপন করতে কোনো ভুয়া পরিচয়পত্র ব্যবহার করছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। জইশ-ই-মহম্মদের কুখ্যাত সাজ্জাদ ভাট গোষ্ঠীর এই সদস্য পাকিস্তান থেকে নাশকতার বিশেষ প্রশিক্ষণ নিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছিল এবং পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই (ISI)-এর হ্যান্ডলার হিসেবে সক্রিয়ভাবে কাজ করছিল। হাওড়ার পিলখানার বাসিন্দা হামিদ বিগত দুই মাস ধরে বর্ধমানের এই রেনেসাঁ আবাসনে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে সাধারণ গেঞ্জি কারখানার কর্মীর ছদ্মবেশে দিন কাটাচ্ছিল।

তদন্তে নেমে গোয়েন্দারা আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য হাতে পেয়েছেন। বর্ধমানে আসার আগে অভিযুক্ত যুবক কলকাতার নিউ টাউনের একটি ভাড়া ফ্ল্যাটে অবস্থান করছিল। নিউ টাউনে থাকাকালীন সে বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের গতিবিধির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রেখেছিল এবং বিশেষ করে বিরোধী দলনেতা তথা বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব শুভেন্দু অধিকারীর যাতায়াতের রুটগুলিতে সুকৌশলে রেকি চালিয়েছিল। তার মোবাইল ফোনের টাওয়ার লোকেশন এবং এনক্রিপ্টেড ডিজিটাল চ্যাট বিশ্লেষণ করে জানা গেছে যে, সে পাকিস্তান ও কাশ্মীরে বসে থাকা জইশ-ই-মহম্মদের শীর্ষ হ্যান্ডলারদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছিল।

এদিকে ধৃতের প্রকৃত নাগরিকত্ব নিয়েও সন্দেহ দানা বেঁধেছে। সে ভারতের নাগরিক নাকি সীমান্ত পারের কেউ, তা যাচাই করতে কেন্দ্রীয় এজেন্সির সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি, ভিনরাজ্যের এই জঙ্গিকে বিনা পুলিশ ভেরিফিকেশনে নিউ টাউন ও বর্ধমানে ফ্ল্যাট ভাড়া দেওয়া বাড়িওয়ালাদেরও জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনা হয়েছে। শুক্রবারই তাকে বর্ধমান আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। এসটিএফ আধিকারিকদের অনুমান, এই গ্রেপ্তারির ফলে একটি বড়সড় নাশকতার ছক নস্যাৎ করা সম্ভব হয়েছে। রাজ্যে জঙ্গি নেটওয়ার্কের শিকড় কতদূর বিস্তৃত, তা জানতে জেরা অব্যাহত রয়েছে।