বই আনেনি বলে সজোরে চড়! শিক্ষিকার মারে প্রথম শ্রেণির ছাত্রের দাঁত ভাঙার অভিযোগে উত্তপ্ত উত্তরপ্রদেশ

উত্তরপ্রদেশের সম্ভল জেলার দিল্লি দরওয়াজায় অবস্থিত সেন্ট জিলানি পাবলিক স্কুল থেকে একটি অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর ও অমানবিক ঘটনা সামনে এসেছে, যা শিক্ষক সমাজ ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র সমালোচনার ঝড় তুলেছে। অভিযোগ উঠেছে যে, প্রথম শ্রেণির এক কোমলমতি ছাত্র বাড়ি থেকে পাঠ্যবই আনতে ভুলে যাওয়ায় এক শিক্ষিকা অতিরিক্ত ক্ষিপ্ত হয়ে শিশুটিকে সজোরে চড় মারেন। এই হিংসাত্মক ও নির্মম মারধরের আঘাত এতটাই গুরুতর ছিল যে শিশুটির মুখের একটি দাঁত পর্যন্ত ভেঙে যায়। ঘটনার পরেই আতঙ্কিত ও ক্ষুব্ধ পরিবারের সদস্যরা স্কুল কর্তৃপক্ষের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোনো ন্যায়বিচার না পেয়ে শেষ পর্যন্ত পুলিশের দারস্থ হন এবং থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, হায়াতনগরের সরয়ত্রীন মহলার পীলা খাদানা গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ ইকরার তাঁর প্রথম শ্রেণির ছাত্র ছেলে তৈমুর আলীকে প্রতিদিনের মতো বুধবার সকালে স্কুলে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু অবুঝ শিশুটি ভুলবশত বাড়িতে একটি বিষয়ের বই নিতে ভুলে গিয়েছিল। অভিযোগ, এই সামান্য অপরাধের জন্যই ক্লাসরুমের মধ্যে এক শিক্ষিকা নিজের মেজাজ হারিয়ে ছোট্ট তৈমুরের গালে সজোরে চড় কষিয়ে দেন। যার প্রত্যক্ষ ফলস্বরূপ শিশুটির একটি দাঁত ভেঙে রক্তপাত শুরু হয়। স্কুল ছুটির পর কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি ফিরে শিশুটি যখন তার পরিবারের কাছে গোটা ঘটনা খুলে বলে, তখন পরিবারের সদস্যদের পায়ের তলার মাটি সরে যায়। তারা তৎক্ষণাৎ স্কুলের অধ্যক্ষকে ফোন করে পুরো বিষয়টি জানিয়ে ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানান। কিন্তু স্কুল কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে কোনো রকম সদুত্তর বা সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া তো দূরের কথা, বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ।

স্কুল কর্তৃপক্ষের এমন উদাসীন ও একগুঁয়ে মনোভাবের কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে পরিবারের সদস্যরা শিশুটিকে সঙ্গে নিয়ে সোজা থানায় পৌঁছে যান। পুলিশ লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করার পর শিশুটির প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তাকে দ্রুত জেলা হাসপাতালে পাঠায়। ভুক্তভোগীর বাবা মোহাম্মদ ইকরার প্রশাসনের কাছে কঠোর দাবি জানিয়েছেন যে, অবুঝ শিশুদের ওপর এ ধরনের শারীরিক নির্যাতন চালানো শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হোক, যাতে ভবিষ্যতে তাঁর ছেলের সঙ্গে ঘটা এই মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি আর কোনো শিশুর ভাগ্যে না ঘটে।

অন্যদিকে, এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই সেন্ট জিলানি পাবলিক স্কুলের প্রশাসন নিজেদের রক্ষা করতে সাফাই দিতে শুরু করেছে। স্কুলের অধ্যক্ষ তারিক আলী ছাত্রকে মারধরের সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, স্কুলের সমস্ত সিসিটিভি ক্যামেরা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হয়েছে এবং ফুটেজে এমন কোনো অপ্রীতিকর বা মারধরের ঘটনার অস্তিত্ব মেলেনি। উলটো স্কুলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে শিশুটি অত্যন্ত ছোট এবং তার ওই ভাঙা দাঁতটি আসলে একটি দুধের দাঁত, যা স্বাভাবিকভাবেই নড়ে গিয়ে ভেঙে গিয়েছিল।

এদিকে, এই বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপের বিষয়ে পুলিশ পরিদর্শক সুধীর পাওয়ার জানিয়েছেন যে, এই চাঞ্চল্যকর মামলায় দুই পক্ষের মধ্যে বর্তমানে পারস্পরিক আলোচনা ও সমঝোতার প্রক্রিয়া চলছে এবং লিখিত কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগের প্রক্রিয়া বিচারাধীন নেই। তবে স্কুলের ভেতরে শিশুদের নিরাপত্তার প্রশ্নটিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় অভিভাবক মহলে তীব্র উত্তেজনা ও অসন্তোষ বজায় রয়েছে।